জলবায়ুসহিষ্ণু পদ্ধতির চাষাবাদ

চকরিয়ার বনাঞ্চল ও কৃষিখাতে বিপ্লবের সূচনা

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া

চকরিয়া উপজেলা ক্রেল প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে ‘উন্নত বীজ ও টেকনোলজি ব্যবহারে সমৃদ্ধ ফসল বয়ে আনা সম্ভব’ স্লোগানে ব্যতিক্রমী উদ্ভাবনী আয়োজন স্বচক্ষে অবলোকন করলেন ১৫০ জন বনজীবী কৃষক। নেকম-ক্রেল চকরিয়া প্রকল্পের এনআরএম ফ্যাসিলিটেটর গাওহার উদ্দিনের সঞ্চালনায় ও মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এসএম আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্রেল লাইভলিহুড কর্মকর্তা ফরহাদ আল মাহমুদ, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির ট্রেজারার রাজিয়া সুলতানা, মেদাকচ্ছপিয়ার বনবিট কর্মকর্তা সৈয়দ আবু জাকারীয়া, কৃষি উপসহকারী জাকির হোসেন ও লিটন চৌধুরী, এনআরএম ফ্যাসিলিটেটর আবু জাফর সেলিম, সিএমসি সদস্য আক্তার কামাল, সাইদুর ইসলাম, ওসমান গনি, এসিআই বীজ কোম্পানির মোহম্মদ ইদ্রিস, প্যানেল চেয়ারম্যান শওকত আলী, এলএসপি আমিনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ক্রেল চকরিয়ার সাইট অফিসার আব্দুল কাইয়ুম স্বাগত বক্তব্যে প্রকল্পের লক্ষ ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্রেল প্রকল্প হচ্ছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প, যা ইউএসএইড-এর অর্থায়নে এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনাল-এর কারিগরি সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সকল কার্যক্রম সম্পাদন করছে ন্যাচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম)। বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ, পরিবেশ-প্রতিবেশ উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও পরিবেশবান্ধব টেকসই জীবিকায়ন নিয়ে কাজ করা এবং সংশ্লিষ্ট সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্টেকহোল্ডারদের সাথে সমন্বয় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ। তিনি বলেন, নেকম-ক্রেল প্রকল্পে ৩৫০০ জনকে বিকল্প জীবিকায়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বননির্ভরশীল মানুষ জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে বন থেকে ফিরে এসেছে, তা দেখব।
অনুষ্ঠানে উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য রাজিয়া সুলতানা ক্রেল প্রকল্পের প্রশংসা করে বলেন, বনরক্ষায় ক্রেল পবিবেশবান্ধব জীবিকায়ন প্রসংসার দাবি রাখে। তিনি সকলকে বলেন, প্রতি বাড়িতে এ ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সবজি বাগান করা উচিত।
এলএসপি আমিনুল ইসলাম বলেন, ক্রেল প্রকল্পের স্থাানীয় সেবা সহায়ক (এলএসপি) প্রশিক্ষণ পেয়ে আমি এখন সঠিক বীজ চিহ্নিতকরণ এবং বাজার ও কৃষকের সাথে সমন্বয় সাধন করতে পারছি। তিনি বলেন, আমি কৃষকদের মাঝে উন্নত বীজ, নতুন প্রযুক্তি সরবরাহ ও কৃষকের যেকোনো সমস্যায় পরামর্শ দিয়ে থাকি।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের মেধাকচ্ছপিয়া বনবিট কর্মকর্তা সৈয়দ আবু জাকারীয়া গাছের নিচে ছায়াযুক্ত ও পরিত্যক্ত জায়গায় হলুদ, আদা, আনারস ইত্যাদি ফসল উৎপাদনের পরামর্শ দেন। তিনি ক্রেলকে এ ধরনের বন সংরক্ষণমূলক জীবিকায়নের জন্য ধন্যবাদ দেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সফল কৃষক তসলিমা আক্তার ও আবুল কাসেম তাদের সফলতার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ক্রেল প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষণ পেয়ে এখন চাষ করে দ্বিগুণ ফসল পাচ্ছি এবং আমরা বন থেকে ফিরে আসছি।