ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝরলো বৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ চট্টগ্রামসহ দেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ঘটাবে এমন পূর্বাভাস ছিল। তবে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে টেকনাফে ৯৯ মিলিমিটার। চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪৫ মিলিমিটার।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ গতকাল সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টার মধ্যে তা ভারতের বিশাখাপত্তম ও ভুবনেশ্বরের মধ্যদিয়ে
উপকূল অতিক্রম করলেও এর প্রভাবে সাগর এখনও উত্তাল রয়েছে।
এর প্রভাবে আর কোনো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তর পতেঙ্গা কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘সাগর এখনও উত্তাল রয়েছে। এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স’ানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আজও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে আজকের পর বৃষ্টিপাত কমে আসবে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপাত্ত অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৪৫ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ৬৩, সীতাকুণ্ডে ৪৯, হাতিয়ায় ৭০, কক্সবাজারে ৭০, কুতুবদিয়ায় ৭৩, টেকনাফে ৯৯, খুলনায় ১৪, সাতক্ষীরায় ৪০, বরিশালে ৫৪, পটুয়াখালীতে ৭৮ ও ভোলায় ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সকাল থেকে বৃষ্টি পড়লেও দুপুরের পর বন্ধ হয়ে যায় বর্ষণ।
উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে গত সোমবার সন্ধ্যায় নিম্নচাপ ও মঙ্গলবারে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছিল। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় বাংলাদেশ আবহওয়া অধিদপ্তর দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোর জন্য চার নম্বর স’ানীয় হুঁশিয়ারি সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছিল। প্রতিবছর এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর এই চার মাস মূলত: ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম। এসময় সাগরে সৃৃষ্ট হওয়া ঘূর্ণিঝড়গুলো শক্তিশালী হয়ে থাকে। সাধারণত গ্রীষ্মের পর বর্ষার আগে এবং বর্ষার পর শীতের আগে সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়ে থাকে।