ঘাস ফড়িং

নাসির ফরহাদ

ঘাস ফড়িং আমাদের এরিয়ায় কেন তুমি?
ঘাড় ঘুরিয়ে ড্যাব ড্যাব চোখে তাকাল ফড়িং। কেন এমন করে বলছো বন্ধু?
আমরা তো সবখানেই ছুটে বেড়াই।
কেউ বারণ করে না। আমরা সবার বন্ধু।
তোমাদেরও।
তোমাদের সাথে তো এমন কোন বিরোধ
নেই। কোন ক্ষতিতো করিনি তোমাদের।
কেন? বাবা তো রোজই বলে ফড়িংয়ে ধানগুলো খেয়ে ফেলেছে!
মাথায় হাত দিয়ে টেনশন করে।
তুমি জানো আমাদের সংসারে না খুবই অভাব। ঘরের কথা বলতে নেই। তবু তোমায়
বলছি, যাকে বলে নুন আনতে পানতা ফুরানোর মতো। জমি জায়গা তেমন নেই।
যা ছিল তাও নদী ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন
হয়ে গেছে। ধানটুকুই সম্বল। আমরা কারো উপকার না করতে পারলেও
আমরা ইচ্ছে করে কারো ক্ষতি করিনি।
ছোট অয়ন ফড়িংয়ের সব কথা শুনে বাবার কাছে দৌঁড়ে গেল। আবার জানতে চাইলো ঘাস ফড়িংয়ে
আমাদের ক্ষতি করেছে কি না।
বাবা অয়নের কথা শুনে অবাক দৃষ্টিতে
তাকালো। বাবা বলল কেন কি হয়েছে বলো।
বাবা বুঝিয়ে বললে বাবা হেসে হেসে বলল
মাজরা একটা পোকা আছে ওই পোকাটা
খুব বাজে। ধান লাগানোর সময় থেকে সাপের মত কেটে দিচ্ছে। মাজরায় খাওয়া
ধানগুলো শুকিয়ে যায়।
ঘাস ফড়িং এর জ্বালায় ধানের যখন শীষ বের হয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নিলে তা খেতে পারে না।
ঘাস ফড়িং আমাদের তেমন ক্ষতি
করে না।
বাবার কথা শুনে অয়ন আবার ফড়িংয়ের কাছে দৌড়ে যায়। ফড়িংটা অয়নকে যেতে
দেখে গা ঢাকা দিলো। মারতে পারে সেই ভয়ে। অয়ন চারপাশে তাকিয়েও সন্ধান পাচ্ছিলো না ফড়িংটার। তার পর সেই একটা ডাক দিলো।
অয়ন ডেকে ডেকে বলছে ঘাস ফড়িং তুমি খুব ভালো বাবা বলেছে। কাছে আসো বন্ধু দেখা দাও। তোমায় মারতে আসিনি। তখন টুম টুম পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বেরিয়ে আসলো।