সেবা মাসের সংবাদ সম্মেলন

গ্রাহকবান্ধব হতে চায় চট্টগ্রাম ওয়াসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুপেয় ও নিরাপদ পানির সংকট থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে পানি সরবরাহ, সেবার মান বৃদ্ধি, গ্রাহকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ও মতামত সংগ্রহের জন্য সেবা মাস পালন করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।
ওয়াসাকে আরো গ্রাহকবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সেবা মাসের নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরে গ্রাহক সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন, গভীর নলকূপের লাইসেন্স প্রদান, নতুন গ্রাহকদের পানি সংযোগ প্রদান, স্কুল ক্যাম্পিংয়ের মাধ্যমে পানি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি ইত্যাদি কর্মসূচি চলছে।
গ্রাহকদের নানা সমস্যা চিহ্নিত করে সেবার মান আরো উন্নত করার জন্য চলতি মাসের ১২ থেকে ডিসেম্বর মাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত এক মাস সময়কে ‘চট্টগ্রাম ওয়াসা সেবা মাস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।
সেবা মাসের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের আবদুল খালেক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এক সংবাদ সম্মেলন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ।
বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, আগে চট্টগ্রামবাসী যেভাবে পানির তীব্র সমস্যায় ভুগতো, বর্তমানে তা অনেকখানি লাঘব হয়েছে।
প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘১৯৮৭ সালের পর থেকে দীর্ঘ ২৯ বছর চট্টগ্রাম মহানগরীর জনসাধারণ নিরাপদ সুপেয় পানির সংকটে ভুগেছে। জনগণকে কখনো রাত জেগে কিংবা কখনো দীর্ঘ লাইন ধরে প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে হয়েছে। কিন্তু ২০১৭ সালের ১২ মার্চ মাসে চালু হওয়া শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার অনেকখানি সমস্যার সমাধান করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘চট্টগ্রাম ওয়াসা বর্তমানে দৈনিক ৩০ কোটি লিটার সুপেয় ও নিরাপদ পানি সরবরাহ করছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার থেকে আসে ১৪ কোটি লিটার, মোহনা পানি শোধনাগার থেকে আসে ৯ কোটি লিটার এবং বাকি ৭ কোটি লিটার আসে গভীর নলকূপ থেকে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ জানান, নগরীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পানির চাহিদা পূরণ করতে ইতোমধ্যে আরো তিনটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে ওয়াসা। প্রকল্পগুলো হলো-
চিটাগং ওয়াটার সাপ্লাই ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রকল্প : বিশ্ব ব্যাংক, বাংলাদেশ সরকার এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার অর্থায়নে ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের আওতায় মদুনাঘাটে দৈনিক ৯ কোটি লিটার ক্ষমতার পানি শোধনাগার, পাইপলাইন, পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ কাজ চলছে। ২০১৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প : জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ৪ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের আওতায় ১৪ কোটি লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পানি শোধানাগার নির্মাণ, প্রয়োজনীয় সার্ভিস রিজার্ভার নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভাণ্ডালজুরী পানি সরবরাহ প্রকল্প : কর্ণফুলী নদীর বাম তীরে অবস্থিত কাফকো, সিইউএফএল, কোরিয়ান ইপিজেড ইত্যাদি শিল্পকারখানাসহ আবাসিক এলাকার পানির চাহিদা মেটানোর জন্য ভাণ্ডালজুরী পানি সরবরাহ প্রকল্প নামক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দৈনিক ৬০ মিলিয়ন লিটার ক্ষমতার ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক পাইপলাইন স্থাপন কাজ করা হবে। বোয়ালখালীর ভাণ্ডালজুরী নামক স্থানে এ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে বলে এর নাম ভাণ্ডালজুরী পানি সরবরাহ প্রকল্প। ২০২০ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন, ‘আগে গণমাধ্যমে ওয়াসার খবর মানে ছিল নেতিবাচক খবর। কিন্তু বর্তমানে ওয়াসার গণমুখী নানা কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে সেই চিত্র অনেকখানি বদলেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরো ছিলেন- উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) রতন কুমার সরকার, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) গোলাম হোসেন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। এছাড়াও বোর্ড সদস্যদের মধ্যে ছিলেন- তপন চক্রবর্তী, সোলায়মান আলম শেঠ, আকিদা আজাদ ও জাফর সাদিক।