গ্রামোন্নয়ন রূপরেখা : কর্মমুখি শিক্ষাই সমাধান

মো. আবুল হাসান, খন রঞ্জন রায়

গ্রামীণ উন্নয়ন কোন একক ও নির্দিষ্ট অর্থে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। প্রকৃতপক্ষে কোন দেশের জাতীয় আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে গ্রামের সার্বিক পশ্চাদপসরতা দূর করার উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করাই হচ্ছে গ্রামীণ উন্নয়ন। সেখানে যেমন পরিমাণগত পরিবর্তন তথা আর্থিক প্রবৃদ্ধির কথা ভাবতে হবে, ঠিক তেমনই গুণগত বা আচরণগত পরিবর্তনের বিষয়টিও ভাবতে হবে। গৃহীত কর্মসূচিগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা এবং একই সাথে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করার চিন্তাই প্রকৃত গ্রামীণ উন্নয়ন।
গ্রামীণ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে পল্লীর জনগণের আর্থ-সামাজিক, শিক্ষা-সংস্কৃতি তথা জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করাকে গ্রামীণ উন্নয়ন বুঝায়। প্রায় ৯৮০০০ গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ মূলত একটি বড় গ্রাম। দেশের মোট জনসংখ্যার ৭৬.৩% জনসাধারণ গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করে। একারণে গ্রামীণ উন্নয়ন বলতে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের উন্নয়নকেই বুঝায়। গ্রাম উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্য অভুক্ত ও অর্ধভুক্ত গ্রামের অনাথ মানুষদের আর্থ-সামাজিক, সংস্কৃতি, অবস্থার উন্নতি বিধান করে তাদের মুখে হাসি ফুটান। এজন্য তাদের মধ্য থেকে অজ্ঞতা ও কুসংস্কার দূর করা। গ্রামীণ উন্নয়নে প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করে তুলে উন্নয়ন কার্যক্রমগুলোকে তাদের নাগালে পৌঁছে দেয়া।
গ্রামপ্রধান বাংলাদেশের ৮০% মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। এজন্য অনেকে গ্রামীণ উন্নয়ন বলতে কৃষি উন্নয়নকে বুঝায়। কৃষি মূল চাবিকাঠি হলেও গ্রামীণ উন্নয়ন বলতে কেবলমাত্র কৃষি উন্নয়নকে বুঝায় না। গ্রাম বাংলার অধিকাংশ মানুষ সভ্যতার আলো থেকে বঞ্চিত। স্বল্প মাথাপিছু আয়, নিম্ন জীবনযাত্রার মান শিক্ষার অভাব ক্ষুধা, অপুষ্টি, দরিদ্রতা ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত। সার্বিকভাবে গ্রামীণ উন্নয়ন বলতে কৃষি উন্নয়নের সাথে সাথে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বস্ত্র, বাসস্থানসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের সকল সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নকে বুঝায়।
তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সরকার প্রধান ভূমিকা পালন করলেও প্রকৃতপক্ষে গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য বিগত সাড়ে চার দশক বেসরকারি সংস্থাগুলোর (ঘএঙ) বিভিন্নমুখী বৈচিত্র্যপূর্ণ কর্মকাণ্ড যথেষ্ট গুরুত্ব লাভ করেছে। অবশ্য এই সংস্থাগুলোর গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মসূচী সামগ্রিকভাবে গ্রহণ করা হয় না। কোন সংগঠন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নিরাপদ বসতির জন্য বাঁধ নির্মাণ করছে, অন্য সংস্থা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে নিয়োজিত আবার অন্য সংগঠন কেবলমাত্র গ্রামীণ মহিলাদের অবস্থার উন্নতি বিধানে সচেষ্ট। বেসরকারি সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব কর্মসূচি অনুযায়ী উন্নয়ন কাজে জড়িত রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে গ্রামের মানুষদের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যাগুলো সমাধানের প্রচেষ্টার মাধ্যমে জীবনযাত্রার উন্নয়ন সাধন করাই গ্রামীণ উন্নয়ন। গ্রামীণ উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া, এর কোন শেষ নাই। গ্রামের মানুষদের অবস্থা উন্নত থেকে উন্নত পর্যায়ে উন্নীত করাই এক কাজ।
পৃথিবীর দারিদ্র্য – পীড়িত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এ দেশে বৃহৎ একটি অংশের মানুষ দারিদ্র্য ও দুঃখ দুর্দশার মধ্যে আছে, এদেশে গ্রামের দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অনাহার, আয় বৈষম্য প্রভৃতি সমস্যা অনেক বেশি প্রকট। এ কারণে শতকরা ৫৪ জন যুবক প্রাকবৃদ্ধদের উপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক দুরাবস্থা এবং জীবনযাত্রার নিম্নমানের জন্য এরা পরনির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। দারিদ্র্যতার স্তরে মানুষ জীবনধারণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনগুলোও পূরণ করতে অক্ষম এবং মানবেতর জীবন যাপন করে। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষ প্রতিদিন ন্যূনতম ক্যালরি গ্রহণ করতে পারে না এবং তারা খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে না। গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষক বর্গাচাষী ও কারিগর শ্রেণীর মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টকর জীবনযাপন করে। আর চরম দরিদ্র ব্যক্তিরা হচ্ছে ভূমিহীন ও দিনমজুর, যাদের কাজের কোন নিশ্চয়তা নাই, কাজ পেলেও এদের মজুরি অনেক কম এবং কাজ না পেলে এরা পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে বা আধাপেটা খেয়ে থাকতে হয়।
এলাকাভেদে কৃষক ধান, গম, জোয়ার, বাজরা, ডাল প্রভৃতি যা কিছু উৎপাদন করে সেগুলো বাজারে নিয়ে বিক্রি করার সময় ন্যায্যমূল্য পায় না। কৃষকের ঘরে যখন ফসল উঠে তখন বাজারে সে ফসলের মূল্য হ্রাস পায়। কৃষির আড়ালে আমাদের দেশে কিছু শিল্প খাতও এখন সমৃদ্ধ হচ্ছে। মাথাচারা দিচ্ছে শিল্প সম্ভাবনা। এর মধ্যে দেশের সর্ববৃহৎ রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প। দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পোশাক শিল্পের সুষম উন্নয়ন ও বিকাশে অবকাঠামোগত, প্রাতিষ্ঠানিক, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সুসংহতকরণ, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদর্শন সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হওয়া অপরিহার্য। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পোশাক শিল্প থেকে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় এবং এ সেক্টর প্রায় ৬০ লাখ জনশক্তি, যার বেশিরভাগ গ্রামীণ নারী প্রত্যক্ষভাবে কর্মরত আছে। গ্রামীণ নারীদের এই সংশ্লিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিতে পারলে এর পরিধি ও সম্ভাবনা টেকসই হতো।
বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত দেশ নিজেরা নিজেদের শ্রম চাহিদা মিটাতে পারে না। তাই উন্নত দেশগুলো শ্রম রপ্তানিকারক রাষ্ট্রগুলো থেকে জনশক্তি আমদানি করে থাকে। জনশক্তি আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া। পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো মূলত অল্পসংখ্যক দক্ষ শ্রমশক্তি আমদানি করে থাকে। তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার রয়েছে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের একটি বড় শ্রম বাজার তৈরি হলেও ডিপ্লোমা শিক্ষার অভাবে বর্তমানে তা হাতছাড়া হয়ে গেছে।
জনবহুল বাংলাদেশের দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমশক্তি বিদেশে প্রেরণ শুরু হয় ১৯৭৬ সালে। বিশ্ব শ্রমবাজারে প্রবেশের পর থেকে অব্যাহতভাবে শ্রমশক্তি রপ্তানি করা হচ্ছে কিন্তু জনসংখ্যার তুলনায় শ্রমশক্তি রপ্তানির পরিমাণ আমাদের প্রতিবেশি ভারত, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশ অপেক্ষা অনেক কম। যদিও প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রায় সম্পূর্ণটাই দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। গ্রামীণ তরুণদের পেশা ও পণ্যভিত্তিক ডিপ্লোমা কোর্সে অধ্যয়নের সুযোগ সৃষ্টি করে দিলে জনশক্তি রফতানিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটতো। তাদের পাঠানো অর্থে গ্রামীণ উন্নয়ন হতো দীর্ঘমেয়াদি বা টেকসই। দেশীয় কৃষির ক্ষেত্রেও গ্রামীণ শিক্ষা প্রশিক্ষণ তরুণদের কৃষি বিপ্লবে নিক্ষিপ্ত করবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী ২০০৮-০৯ অর্থবছরে খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয় ৩২৮.৯৬ লক্ষ মেট্রিক টন এবং ২০০৯-১০ অর্থবছরে খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয় ৩৪১.১৩ লক্ষ মেট্রিক টন এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে খাদ্যশস্য আমদানি করা হয় ১৮.১৮ লক্ষ মেট্রিক টন। কিন্তু দেশে যদি বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উন্নতি সাধন করা যায় তাহলে খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। উপযুক্ত পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে দেশে অব্যবহৃত ও অনাবাদি প্রায় ১৮.৭৫ লক্ষ একর জমিকে কৃষির আওতায় আনা সম্ভব। কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়ন মূলত নির্ভর করছে শস্য উৎপাদন বহুমুখীকরণ, গুণগত মানসম্পন্ন বীজের ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা, উচ্চ ফলনশীল টেকসই শস্য উৎপাদন করার পথ ও পন্থা নির্ধারণ করে কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষাকে উন্নত কাঠামোতে আনয়নের উপর।
গ্রামের তাঁতী, কামার, কুমার, জেলে, নাপিত শ্রেণীর লোক অকৃষি পেশায় নিয়োজিত। সমপ্রদায় ভিত্তিক হস্তশিল্পে নিয়োজিত থেকে এরা সবাই নিম্নমানের জীবনযাত্রা নির্বাহ করে। সনাতন পদ্ধতিতে কাজ করায় এদের উৎপাদিত দ্রব্যগুলো নিম্নমানের হওয়ায় ভাল মূল্য পায় না। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এদের টিকিয়ে রাখার জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। প্রশিক্ষণ নিয়ে এইসব হস্তশিল্পী উন্নতমানের দ্রব্য উৎপাদন করতে সমর্থ হলেও সরকারের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার অভাবে তারা মধ্যস্বত্বভোগী ফরিয়াদের দ্বারা শোষিত হয়ে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে হস্তশিল্পী ও কুটির শিল্পীদের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে, মাথাপিছু আয় কমে যাচ্ছে এবং দারিদ্র্যের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কৃষিজীবী ও অকৃষিজীবী সব গ্রামবাসীকে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দান করা প্রয়োজন। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ অনেক কাজ সহজে বুঝতে ও করতে পারেন না। ডিপ্লোমা কোর্সে প্রশিক্ষণ লাভ করে নিজ নিজ পেশায় পারদর্শী হয়ে উঠতে পারেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর উৎপাদিত দ্রব্য অবশ্যই উন্নত মানের হবে এবং দেশের চাহিদা মিটিয়েও সে সব দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করে সরকার লাভবান হবে। বাংলাদেশের গ্রামের বেকার সমস্যা সমাধান করতে হলে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে। কৃষিতে, শিল্পক্ষেত্রে নিয়োগ বৃদ্ধি করার জন্য মাঠ পর্যায়ে বাস্তবভিত্তিক হাতে কলমে শিক্ষা প্রদান করতে হবে। যদিও এ বিষয়ে সরকার প্রশিক্ষণ দিতে সরকারি বেসরকারিভাবে কিছু পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করেছেন। কিন্তু এ ইনস্টিটিউট প্রয়োজনের তুলনায় খুবই স্বল্প। এ ধরনের বিভিন্নমুখী প্রতিষ্ঠান অন্তত প্রতি উপজেলায় একাধিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন করে কৃষি বিষয়ক যেমন- হাঁস মুরগি, পশুপালন, খামার, শিক্ষা এং গ্রামীণ ক্ষুদ্র ও কুটির বিষয়ক শিক্ষা প্রদান করলে গ্রামীণ বেকারসহ সার্বিক বেকারত্ব হ্রাস পাবে।
প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন ও সমসাময়িক বিষয় ভিত্তিক কোর্স পরিচালনার জন্য প্রয়োজন বিভাগীয় ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড। পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ থেকে জানা যায়, বেকার মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। কর্মসংস্থান না বাড়ার কারণেই বেকারত্ব বেড়েছে। গ্রামে জনসংখ্যাও বাড়ছে। যে হারে জনসংখ্যা বাড়ে সেই হারে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। দেশে কাজ পাওয়া যায় না বলে বিদেশে কাজ করার জন্য বেকার মানুষগুলো খুবই উদগ্রীব। বাংলাদেশের এক কোটিরও অধিক মানুষ বিদেশে কাজ করছে। কাজ করার সুযোগ সীমিত বলেই অন্য দেশে কাজের সন্ধানে জীবনবাজি রেখে ছুটে চলা মানুষগুলো বঙ্গোপসাগরে কিংবা ভূমধ্যসাগরে ডুরে মরে, সাহারা মরুভূমিতে তৃষ্ণার্ত হয়ে বালিতে শেষশয্যা নেয় কিংবা থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার জঙ্গলে গণসমাধিতে ঠাঁই নিতে হয়।
অনেক উন্নয়ন হচ্ছে বলে আত্মপ্রসাদ লাভ করে সমস্যার সমাধানে কী করা যায় তার জন্য সবাই মিলে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। বাড়াতে হবে বিনিয়োগ। আমরা অনেকেই বাংলাদেশের জনসংখ্যার কর্মক্ষম মানুষ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশাল উন্নয়ন সম্ভাবনা দেখতে পাই। একে বলা হচ্ছে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’। যখন দেখি ১৫-২৪ বছর বয়সী গ্রামের ১ কোটি তরুণ-তরুণী কোনো কাজ করে না তখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের অনর্থক বুলি না আওড়ানোই ভাল। তৃণমূলে ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে তরুণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাই এর সহজ সমাধান। একেই আমরা যথার্থ দেশপ্রেম বলে ভাবতে পারি। এত লোক বেকার রেখে বাংলাদেশের ৪৫ বছরের ইতিহাসে তার সার্থক কোনো সমাধান হয়েছে ভাবলে বিস্ময়মিশ্রিত আবেগের উন্মেষ ছাড়া গত্যন্তর নেই।

লেখকদ্বয় : ডিপ্লোমা শিক্ষা সংগঠক

আপনার মন্তব্য লিখুন