গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নয়

মাহমুদুল হক আনসারী

গ্যাস, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে জনভোগান্তি বাড়ছে। চাহিদানুপাতে গ্যাস বিদ্যুৎ সংযোগ থাকে না। শহরের বেশিরভাগ এলাকায় সকাল-বিকাল গ্যাস সংকট প্রকট। চুলা জ্বলে না, রান্না হয় না। হোটেল ও লাকড়ির ওপর নির্ভর হতে হয়। নিম্নমধ্যবিত্ত আয়ের কর্মজীবী মানুষগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়ছে গ্যাস সরবরাহ সংকটের কারণে। এমনিতেই লাইনে গ্যাস-বিদ্যুৎ ঠিকমতো থাকে না। সেখানে অবৈধ সংযোগ দিয়ে কর্মচারীদের দুর্নীতির কারণে আরো ভোগান্তি বাড়ছে গ্রাহকদের। লাইন নিতে, সংযোগে দুর্নীতি, মিটারে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন বন্ধ। মিল-কারখানা, হোটেল, রেস্তোরা বাসাবাড়িতে গ্যাস-বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন ও বেঁচে থাকা সবই অচল। রাষ্ট্রকে মানুষের ওই মৌলিক অধিকার পূরণে আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
সমাজ ও রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল ও শান্তভাবে রাখতে চাইলে মানুষের খাদ্যে ও জীবন চলার পথ সহজ করতে হবে। মৌলিক এ অধিকারকে নাগরিকের সাধ্যের মধ্যে রাখতে হবে। প্রতিদিন খাদ্য উৎপাদন ও মানব সমাজ বেঁচে থাকার জন্য গ্যাস বিদ্যুতের প্রয়োজন বাড়ছে। তাই ঘনঘন মূল্যবৃদ্ধি কাম্য নয়।
জনগণের আয় সে পরিমাণ বাড়ছে না। নাগরিকের আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মূল্যবৃদ্ধি সংগত নিম্নমধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ, যারা শ্রমিক, দিনমজুর, ছোটখাটো চাকুরিজীবী, গার্মেন্টস সহ মিলকারখানায় শ্রমের বিনিময়ে কাজ করে জীবনযুদ্ধে বেঁচে আছে, তাদের স্বার্থে গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘন ঘন গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে সমাজ অস্থির হয়ে উঠে। দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচয় কমাতে পারলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে সাশ্রয় সম্ভব হয়। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে। উন্নয়নের নামে অর্থ অপচয় করে জনগণের উপর বাড়তি চাপ মেনে নেয়া যায় না।
জনগণের মাথার উপর ঋণের বোঝা বাড়ছে, এ বোঝা কমাতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ও অনুৎপাদনশীল খাত সংকুচিত করুন। যেনোতেনো ভাবে অর্থ অপচয় না করে জনকল্যাণে অর্থ ব্যয় করুন। দেশকে উন্নত ও গতিশীল এবং রপ্তানিমুখি করতে হলে গ্যাস ও বিদ্যুতের কোনো বিকল্প নেই। গ্যাস বিদ্যুতের সঠিক যোগান, চাহিদা, মূল্য দুটোই ঠিক রাখতে হবে।
দুর্নীতি রাষ্ট্রের জন্য উপকারে আসবে না। এইসব সেক্টরের বড় বড় দুর্নীতিবাজদের শায়েস্তা করুন। অনেক কর্মকর্তা হাজার হাজার কোটি কোটি টাকার মালিক। এ সব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অর্থ তালাশ করুন। তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করুন। তাহলে দুর্নীতি বন্ধ হবে। দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ না হলেও কমিয়ে আনা যাবে।
সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সর্বদা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। গ্যাস আর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ভোগান্তি ও বাসাবাড়িতে ভাড়াটিয়াদের দুর্গতি বাড়াবে।
আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রধানত গ্যাস নির্ভর। বর্তমানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়েকটি বড় প্রকল্প নেয়া হয়েছে তবে পরিবেশবাদীরা বলছে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন পরিবেশের ক্ষতি করবে।
আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে। গ্যাস উৎপাদনে মাঝে মাঝে সাফল্যের কথা আসে যেমন ভোলায়?গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের বহুমুখি পরিকল্পনা হচ্ছে, তবে জনস্বার্থে বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে না পারলে জীবনযাপন, শিল্পায়ন, অর্থনীতি গতিশীলতা হারাবে।

লেখক : কলামিস্ট