চসিকের সাধারণ সভায় মেয়র

গৃহকর বকেয়া রেখে পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ মিলবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, ‘যে সব হোল্ডারদের গৃহকর বকেয়া থাকবে, তারা পানি, বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সংযোগ নিতে চাইলেও সংযোগ পাবে না। সংযোগ লাইন স্থাপনের আবেদনকারীদের গৃহকর বকেয়া আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসা, পিডিবি এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একটি করে ডেস্ক বসানো হবে। ডেস্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত চসিকের প্রতিনিধি ‘নো অবজেকশন’ পত্র দিলেই তবে আবেদনকারীরা সংযোগ পাবেন।’
আন্দরকিল্লার নগর ভবনের কেবি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত চসিকের নির্বাচিত পরিষদের ২৯তম সাধারণ সভায় মেয়র এসব কথা বলেন।
সভায় আ জ ম নাছির উদ্দীন জানান, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম ওয়াসা, বিদ্যুৎ, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনসহ অপরাপর সকল সেবা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে দ্রুত একটি সমন্বয় সভার আয়োজন করা হবে। পরবর্তী ধারাবাহিকভাবে অপরাপর সেবা প্রতিষ্ঠানেও চসিকের প্রতিনিধি ডেস্ক বসানো হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মেয়র আরো বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের ব্যয়ের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা ব্যয়, সড়ক উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা কর্মকাণ্ডসহ নানামুখী সেবা খাত পরিচালনা করতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। এই অর্থের যোগান দিতে করপোরেশনের অন্যতম নিজস্ব আয় খাত রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতেই হবে।’
তিনি কাউন্সিলরদেরকে নিজ নিউ ওয়ার্ডের হোল্ডারদেরকে গৃহকর প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণ, সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রণোদনা দিয়ে করপোরেশনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
নগরীর সব সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নে প্রায় ৪৮০ কোটি টাকার প্রয়োজন জানিয়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪২৮টি রাস্তার সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। মোট ব্যয় বাজেটের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যাবে। বাকি ব্যয় চসিকের নিজস্ব আয় থেকে বহন করতে হবে। সুতরাং নগরীর উন্নয়নে চসিকের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।’
সভায় মেয়র আরো জানান, প্রকৌশল বিভাগের বিভিন্ন সাপ্লাই ও ইন্সটলেশন প্রকল্প বা কাজের গুণগত মান নিশ্চিতকরণে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটি সড়ক উন্নয়ন, সংস্কারসহ প্রতিটি প্রকল্প বা কাজের নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করবে।
গতকালের সাধারণ সভায় চসিক প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরবৃন্দসহ বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।