গৃহকর : প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় নাগরিক ফোরাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) স্থাপনার আয়তনের পরিবর্তে ভাড়ার আয়ের ভিত্তিতে গৃহকর নির্ধারণ নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিরসনে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম। আর এজন্য প্রয়োজনে ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের জারিকৃত অধ্যাদেশ ‘দি সিটি করপোরেশন ট্যাক্সশন রুলস’ সংশোধন করে নগরবাসীকে ‘যাচ্ছেতাই’ করারোপের হাত থেকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে ফোরামের মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন জানান, এরশাদের ‘দি সিটি করপোরেশন ট্যাক্সশন রুলস’ অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছিল দেশের ৪টি সিটি করপোরেশন- ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের জন্য। সেখানে বাড়িভাড়া আয়ের ভিত্তিতে গৃহকর নির্ধারণের কথা থাকলেও কোনো সিটি করপোরেশনই ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের নাম নেয়নি। কিন্তু চসিক মেয়র একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও জনস্বার্থের কথা ভুলে এরশাদের করা সেই গলাকাটা অধ্যাদেশটি বাস্তবায়ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৫ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন নিজে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার মেয়াদকালে তিনি গৃহকর বাড়াবেন না। কিন্তু এখন তিনি সব ভুলে গিয়ে নগরবাসীর মাথায় গৃহকরের বিশাল বোঝা চাপিয়ে দিতে চাইছেন। তিনি ১৯৮৬ সালের ‘কালো আয়কর অধ্যাদেশ’ দি সিটি করপোরেশন ট্যাক্সশন রুলসের ২১ ও ২২ নম্বর ধারা মোতাবেক সিটি কর নির্ধারণে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
নাগরিক ফোরামের মহাসচিব তার বক্তব্যে আরো বলেন, ‘হোল্ডিং ট্যাক্স যেহেতু সম্পত্তির ওপর কর, তাই বিশ্বের কোথাও হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়িভাড়া আয়ের ভিত্তিতে হয় না। এক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ট উদাহরণ বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারত। গৃহকর নিয়ে প্রতিবেশী এই দেশটির নিয়ম আমাদের দেশেও অনুসরণ করলে সাধারণ মানুষ খুবই উপকৃত হতো।’
মহাসচিব ছাড়াও চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের এই সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- ফোরামের সদস্য মোহাম্মদ উল্লাহ, মোহাম্মদ মুসা, মহসিন চৌধুরী, সবুর খান, ওসমান গণি প্রমুখ।