গৃহকর আদায় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক চান মেয়র নাছির

মোহাম্মদ আলী

সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত গৃহকর বাবদ বকেয়া ও হালসহ ১১২ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক)। এ সব পাওনা পরিশোধে মন্ত্রণালয়ের অধীনস’ সংস’াসমূহের প্রধানদের সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। গৃহকর আদায়ে এ সব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবদের কাছে পাঠিয়েছিলেন চিঠিও। তারপরও তেমন সাড়া পাননি তিনি। এদিকে পঞ্চ-বার্ষিকী গৃহকর অ্যাসেসমেন্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক স’গিত হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গৃহকর আদায় করতে পারছে না চসিক। এর ফলে চসিকের আর্থিক অবস’া খারাপের দিকে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ২ হাজার অতিরিক্ত পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগসহ বিভিন্ন কারণে চসিকের মাসিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এমতাবস’ায় সরকারি সংস’াসমূহের বকেয়া ও রেইট পরিশোধের বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক চান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বকেয়া পরিশোধে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আহ্বান করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স’ানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বরাবর একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠিছেন আ জ ম নাছির উদ্দীন।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ওই চিঠিতে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আয়ের মূল উৎস গৃহকর ও রেইট। গত ২০১৫ সালে জাতীয় স্কেল অনুযায়ী সিটি করপোরেশনে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক বেতন ভাতা বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ২২০ কোটি টাকা। কিন’ ২০১১-১২ অর্থবছরে পঞ্চ-বার্ষিকী অ্যাসেসমেন্ট অনুসারে গৃহকর ও রেইটের দাবি ১১৯ কোটি ২৬ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩৪ টাকা, যা বার্ষিক বেতন ভাতা বাবদ ব্যয়ের পরিমাণের চেয়ে অনেক কম। এছাড়া এ দাবির একটি বড় অংশ বকেয়া থাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং নাগরিক সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা দুরূহ হয়ে পড়েছে। নগরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান না করা গেলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিটি করপোরেশনস’ আসনগুলোর ফলাফলে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।’

চিঠিতে জানানো হয়েছে, ১২টি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে বকেয়া ও হালসহ গৃহকর ও রেইট বাবদ ১১২ কোটি ২৯ লাখ ৩ হাজার ৪৩১ টাকা পাওনা রয়েছে চসিকের। এর মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ১৩ কোটি ১৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৬১ টাকা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৭০৮ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ৪ কোটি ৭ লাখ ৯১ হাজার ৫৩১ টাকা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে ৩২ লাখ ৭২ হাজার ৬৬৬ টাকা, স্বাস’্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস’্য সেবা বিভাগ থেকে ১২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩ টাকা ও স্বাস’্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ থেকে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৭৭৪ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে ৮৪ কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮৫ টাকা, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে ৬৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬৮৬ টাকা, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ৪৭ লাখ ৭ হাজার ২৫১ টাকা, শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে ২ কোটি ৬ লাখ ৯৮ হাজার ১২ টাকা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে ৩ কোটি ৪৮ লাখ ২৪ হাজার ৯৯০ টাকা, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ৩১ লাখ ৬১ হাজার ৭২৩ টাকা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২ কোটি ৪৯ লাখ ১ হাজার ৩৩৪ টাকা পাওনা রয়েছে চসিকের।

চিঠিতে আ জ ম নাছির আরো বলেন, ‘এ সব পাওনা আদায়ে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। উল্লেখিত সরকারি সংস’াগুলো কর্তৃক বকেয়া গৃহকর ও রেইট পরিশোধ করা হলে তা সিটি করপোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্র্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদান ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদনে কার্যকর অবদান রাখতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।’

চিঠিতে মন্ত্রণালয় ভিত্তিক সরকারি সংস’াসমূহ কর্তৃক বকেয়া গৃহকর ও রেইট পরিশোধের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আহ্বান করার জন্য মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক চেয়ে মন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে আ জ ম নাছির উদ্দীন গতকাল বৃহস্পতিবার তার দপ্তরে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘এর আগে আলাদাভাবে মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী ও সচিবকেও বকেয়া গৃহকর বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমাদের মন্ত্রণালয়কেও বিষয়টি জানানো হলো। সরকারি সংস’াগুলো হাল গৃহকর পরিশোধ করলেও বিভিন্ন অজুহাতে বকেয়া গৃহকর পরিশোধ করছে না। তারা যদি বাজেটের আগে গৃহকরের জন্য বরাদ্দ চায়, তাহলে অবশ্যই বরাদ্দ পাবেন। সরকারি সংস’াগুলো গৃহকর পরিশোধ করলে সাধারণ জনগণও পরিশোধ করতে উৎসাহ বোধ করবেন। তাই প্রয়োজন আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ।