গুলিতে বিলাইছড়ি আওয়ামী লীগ সভাপতি নিহত স্ত্রীকে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে স্বামীকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি

বাঘাইছড়িতে সোমবার ব্রাশফায়ারে ৭ জনকে হত্যার মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার সকাল নয়টায় বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঙ্গচঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সকাল নয়টার দিকে ফারুয়া থেকে ফেরার পথে তাকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করেছেন রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর।
মুছা মাতব্বর এ হামলার জন্য সন’ লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শহরে বুধবার সকালে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হবে এবং কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
নিহত সুরেশ কুমার তংচঙ্গ্যার একমাত্র পুত্র এবং ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা নিরূপম তংচঙ্গ্যা জানিয়েছেন, ‘সোমবার গ্রামের বাড়ি ফারুয়ার ওড়াছড়িতে ভোট শেষ করে মঙ্গলবার সকালে একটি ইঞ্জিনচালিত বোটে করে আমরা সপরিবারে বিলাইছড়ি ফিরছিলাম। পথিমধ্যে সকাল নয়টার দিকে আলিক্ষ্যং এলাকায় অস্ত্রধারীরা আমাদের বোট থামানোর নির্দেশ দিলে চালক বোটটি থামায়। এসময় বাবা চালককে কারণ জানতে চাইলে, চালক পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সশস্ত্র অস্ত্রধারীদের দেখান। এ সময় চালককে বোট চালিয়ে দিতে বাবা অনুরোধ করলে অস্ত্রধারীরা গুলি করে বোট ডুবিয়ে দেয়ার হুমকি দিলে চালক তীরে বোট ভেড়ায়। এসময় তারা বাবাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মা তাদের পায়ে ধরে বাবার প্রাণ ভিক্ষা চায়, কিন’ তারা মাকে লাথি মেরে পানিতে ফেলে দেয় এবং বাবাকে বুকে ও মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে চলে যায়। এরপর আমরা ফোনে সবাইকে খবর দেই।’
নিরূপম তংচঙ্গ্যা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সন’ লারমা এবং তার দল জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করে বলেছেন, বাবা আওয়ামী লীগ করেন
বলেই এবং সন’ লারমাদের বিপক্ষে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঁ
কাজ করার কারণেই আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’ শুধু আমার বাবাই নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে এভাবে নির্মমতার শিকার সকল হত্যার বিচার চাই।’
নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ ইকবাল জানিয়েছেন, ‘মঙ্গলবার সকাল নয়টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। লাশ বর্তমানে উপজেলা সদরে আছে। রাঙামাটি পাঠিয়ে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের হস্তান্তর করা হয়েছে।’
সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এ উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সমর্থিত প্রার্থী বীরোত্তম তংচঙ্গ্যার কাছে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়সেন তংচঙ্গ্যা। এ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী জয়সেন তংচঙ্গ্যার পক্ষে কাজ করেছেন নিহত সুরেশ।
জনসংহতি সমিতির জেলা সম্পাদক নীলোৎপল খীসা এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, আমরা এই ধরনের রাজনীতির চর্চা করি না। এসব ঘটনার সাথে আমাদেরকে জড়ানো চেষ্টা স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীন প্রচেষ্টা।’
বিলাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ পারভেজ আলী জানিয়েছেন, আমরা ঘটনাস’লে এসে পরিসি’তি বোঝার চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে ভিক্টিমের পরিবার, তার রাজনৈতিক সহকর্মী এবং আমাদের উর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’