গাড়ি রাখার স্থান নির্ধারণ স্থায়ী সমাধান নয়

নগরের সড়কে এলোমেলোভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পার্কিংয়ের জন্য?সড়কের পাশেই স্থান চিহ্নিত করে দিচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। তবে পার্কিং করার জন্য কোনো ধরনের ফি না নিলেও নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে গাড়ি রাখলে চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে নগরের ২০টি সড়কের ২৭টি স্থান গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য?নির্ধারণ করা হয়েছে। সাদা রং দিয়ে গাড়ি রাখার স্থানগুলো নির্দিষ্ট করা হয়েছে কিছু সড়কে। পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে প্রাথমিকভাবে সে সড়কগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। নগর পুলিশের সহযোগিতায় এই কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনা বিভাগ। আগামী এক মাসের মধ্যে সব স্থান চিহ্নিত করার কাজ শেষ করবে তারা।
একটি বিশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে?এই সিদ্ধান্ত কিছুটা শৃঙ্খলা আনবে বলা হলেও এটি স্থায়ী ও আইনানুগ কোনো সমাধান নয়। এতে করে সড়কই গাড়ি পার্কিংয়ের স্থায়ী জায়গা হয়ে উঠতে পারে।
একটি আধুনিক নগরে মোট আয়তনের যে শতাংশ জায়গা সড়কের জন্য?থাকা দরকার আমাদের দেশের কোনো শহরেই তা বিদ্যমান নয়। ফলে শহরে কিংবা গ্রামের প্রতিটি সড়কে ধারণ ক্ষমতার চাইতে কয়েকগুণ বেশি যানবাহন ও মানুষ চলাচল করে। এর ওপর ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ এর মতো যুক্ত আছে ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা, যার মধ্যে সড়কে গাড়ি পার্কিং অন্যতম, বিশ্বের কোনো আধুনিক নগরে যা কল্পনাও করা যায় না। দেশের বহুতলাবিশিষ্ট অধিকাংশ ভবনেই নির্দিষ্ট ও নিজস্ব গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। যদিও আইন আছে প্রতিটি বহুতল ভবনের নিচের তলায় নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা রাখার।
চট্টগ্রাম নগরে ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো স্থান নেই। বন্দর শহর হওযার পরও নির্দিষ্ট ট্রাক টার্মিনাল নেই। যদিও বন্দর সংক্রান্ত আমদানি-রফতানি কাজে প্রতিদিন কয়েক হাজার ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে এবং দেশের নানা প্রান্তে গমন করে। প্রতিদিন নগরে প্রবেশ করে কয়েক হাজার যাত্রীবাহী যানবাহন, বেরও হয় একই সংখ্যার।
কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ যানবাহনের জন্য?পর্যাপ্ত টার্মিনাল বা পার্কিং স্থান নেই শহরে। ফলে এর অধিকাংশই পার্ক করা থাকে সড়কে। সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ নিশ্চিতভাবে মন্দের ভালো। তবে তা স্থায়ী সমাধান নয়। আগে এই বিপুল সংখ্যক গাড়ি রাখার স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে।
নির্দিষ্ট পার্কিং স্পট করে সেখান থেকেও সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয়ের ব্যবস্থা করতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেভাবে করা হয়ে থাকে। সড়কের একটি অংশ যদি এভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ছেড়ে দিতে হয় তাহলে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা মনে করি চসিক আপাতত সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা না করে স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে।