গার্মেন্টস প্রযুক্তিতে আগ্রহী দর্শনার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

মেলার প্রবেশ মুখে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন দুই সুশ্রী তরুণী। অভ্যর্থনা বুথ থেকে দর্শনার্থীদের পরিদর্শন কার্ড পরিয়েও দিচ্ছেন তারা। এরপর সিঁড়ি বেয়ে মেলায় প্রবেশ করলেই দৃষ্টিগোচর হবে সুসজ্জিতভাবে সাজানো আধুনিক যন্ত্রপাতির স্টল।

বিশ্বের অত্যাধুনিক গার্মেন্টস প্রযুক্তিকে গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকার ট্রেডশো’র আঞ্চলিক সংস্করণ ‘আন্তর্জাতিক গার্মেন্টেক চিটাগং ২০১৮’। এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেড আয়োজিত এই ট্রেডশো অনুষ্ঠিত হচ্ছে নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে। বাংলাদেশসহ দশটি দেশের মেশিনারিজ, যন্ত্রাংশ এবং গার্মেন্টসের বিভিন্ন পণ্য মেলায় প্রদর্শন করা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার ছিল প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিন। ছুটির দিন হওয়ায় নতুন উদ্যোক্তা, তরুণ-তরুণী ও দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই ছিল। মেলায় প্রবেশ মূল্য না থাকায় বাড়তি আগ্রহ ছিল দর্শনার্থীদের। স্টলগুলোতে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের কেউ দেখছেন; আবার কেউ গার্মেন্টস প্রযুক্তির সম্পর্কে জেনে নিচ্ছেন স্টলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছ থেকে। পরে দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাদের পণ্যের তথ্যসম্বলিত প্রসপেক্টার্স, লিফলেট ও একটি চকলেট দর্শনার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।

‘গার্মেন্টেক চিটাগং’ শীর্ষক এ প্রদর্শনীতে ‘মাস্ট টেক ইন্টারন্যাশনাল’র স্টলে অত্যাধুনিক অ্যামব্রয়ডারি মেশিনটি দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দর্শনার্থীদের অ্যামব্রয়ডারি মেশিনটি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানাচ্ছেন অ্যাডমিন ম্যানেজার নাজমুন নাহার।

তিনি সুপ্রভাত বাংলাদেশকে জানান, আমাদের স্টলে অ্যামব্রয়ডারি মেশিনারিজ ‘জেএসকে’ ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হয়। ওই মেশিনটিতে এক সাথে ৬টি হেডে কাপড়ের উপর একই রকমের ৬টি ডিজাইন তৈরি করা যায়। জার্মানির তৈরি মেশিনটি আকার ভেদে ৬, ২২, ৩৬ হেডে রয়েছে। এছাড়া অ্যামব্রয়ডারি মেশিনটিতে আলাদা একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তৈরি করা শার্ট, প্যান্টেসহ যাবতীয় পোশাকে যে কোন অংশে ডিজাইন করা যায়।
নাজমুন নাহারের দেওয়া তথ্য মতে, ৬ হেডের মেশিনে ৬টি পোশাক, ২২ হেডের মেশিনে ২২টি পোশাক ও ৩৬ হেডের মেশিনে ৩৬টি পোশাকে এক সাথে অ্যামব্রয়ডারি করা যায়। শুধুমাত্র একজন অপারেটর দিয়ে মেশিনটি চালানো হয়। অপারেটরের হাতে ছোঁয়ার প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র চালু ও বন্ধ করা এবং কাপড়ের রুল শেষ হলে নতুন রুল দেওয়া ছাড়া আর তেমন কোন কাজ নেই। কম্পিউটারে ডিজাইনের পর, ডিজাইনটি পেনড্রাইভের মাধ্যমে জেএসকে মেশিনে ঢুকিয়ে চালু করলেই কাজ শুরু হয়। এরপর ডিজাইন মতে কয়েক মিনিটের মধ্যে এক সাথে ৬, ২২, ৩৬টি কাপড় অ্যামব্রয়ডারি হয়ে বের হয়।

নাজমুন নাহার বলেন, ‘গেল বছরের তুলনায় এবার আমাদের স্টলে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের অনেক ভিড়। মেলা উদ্বোধনের পর থেকে ক্রেতাদের সাড়া পাওয়ায় আমরা অনেক খুশি।’
মেলায় আসা নতুন উদ্যোক্তা কাইসার আহমেদ বলেন, ‘গত বছরের মতো এবারও মেলায় এসেছি। এবারের মেলায় বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে। নতুন কারখানা তৈরি করতে যে সমস্ত পণ্য প্রয়োজন সেগুলো একই ছাদের নিচে রয়েছে। দশটি দেশের নতুন নতুন গার্মেন্টস মেশিনারিজ মেলায় শোভা পাচ্ছে। এখানে এসে গার্মেন্টস মেশিনারিজ ও যন্ত্রাংশ সম্পর্কে ধারণাও পেলাম।’

আয়োজকরা জানান, প্রদর্শনীতে ১০টি দেশের প্রায় ১০০টি অধিক স্টল রয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ, ভারত, চীন, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া। এখানে তারা মেশিনারিজ, যন্ত্রাংশ এবং গার্মেন্টসের বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করছেন। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী আজ শনিবার শেষ হবে।

প্রদর্শনী সম্পর্কে জানতে চাইলে আয়োজক এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক টিপু সুলতান ভূঁইয়া বলেন, ‘ঢাকায় ১৭ বছর ধরে আমরা এই মেলার আয়োজন করে আসছি। এবার দ্বিতীয়বারের মত চট্টগ্রামে প্রদর্শনী হচ্ছে। এখানে একই ছাদের নিচে মেশিনারি, সুতা ও বস্ত্র, গার্মেন্ট এক্সেসরিজ খোঁজার একটি বড় সুযোগ রয়েছে। আজ (শুক্রবার) ছুটির দিন হওয়ায় দর্শনার্থীদের ভিড় প্রথম দিনের তুলনায় বেশি। এতে আমরা অনেক খুশি।’