গান আর স্মৃতিচারণে স্মরণ ওস্তাদ মিহির নন্দীকে

গান এবং কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে প্রয়াত সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ মিহির নন্দীকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদ। সোমবার সন্ধ্যায় টিআইসি গ্যালারিতে বরেণ্য এই শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীর স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উদীচী।
স্মরণ অনুষ্ঠানে সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড.অনুপম সেন বলেন, মিহির নন্দী শুধু একজন সঙ্গীতজ্ঞই নন, তিনি ছিলেন উঁচু মাপের সমাজ সচেতন বিপ্লবী কর্মী। গানের মধ্য দিয়ে তিনি সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। গানের মধ্য দিয়ে তিনি যে সংগ্রামের যাত্রা শুরু করেছিলেন, সেটাকে আমরা স্মরণে নিতে পারি। তাঁর জীবনের আরও নানা দিক আছে। তিনি একজন ভালো ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন।
কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সঙ্গীতের শুদ্ধ চর্চায় মিহির নন্দী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। অগ্রণী সংঘ, আনন্দধ্বনি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি সেই শুদ্ধতার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের প্রতিটি গণআন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সহ-সভাপতি ডা.চন্দন দাশ বলেন, মিহির নন্দী কি ছিলেন সেটা একবাক্যে বলে শেষ করা যাবে না। অফুরন্ত গুণের সম্ভার ছিলেন তিনি। জীবদ্দশায় তিনি মরণব্যাধির সঙ্গে লড়াই করেছেন। কিন’ একদিনের জন্যও গান থেকে দূরে থাকেননি। তিনি একাধারে শিল্পী-সংগঠক এবং শিক্ষক। আবার রবীন্দ্র সঙ্গীত নিয়ে গবেষণাও করেছেন।
গণসঙ্গীত শিল্পী রবিন দে বলেন, মিহির নন্দীর মৃত্যুতে আমাদের সঙ্গীত জগতে এবং প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। সত্তরের দশকে চট্টগ্রামে উদীচী প্রতিষ্ঠায় মিহির দা অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। তবে মিহির নন্দীর হাত ধরে যে সঙ্গীত প্রজন্ম গড়ে উঠেছে, তারাই তাঁর স্মৃতিকে চিরজাগরুক করে রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
স্মরণ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুভাষ দে, শিল্পী মৃণাল ভট্টাচার্য্য, সরকারি চারুকলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রীতা দত্ত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক অসীম দাশ এবং উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা শীলা দাশগুপ্তা। এর আগে উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সভাপতি শহীদ জায়া বেগম মুশতারী শফী মিহির নন্দীর গাওয়া গানের সিডি এবং ক্রেস্ট তাঁর স্ত্রী নন্দা নন্দীর হাতে তুলে দেন। বিজ্ঞপ্তি