গাজায় ফের বিক্ষোভ, দুই ফিলিস্তিনি নিহত

সুপ্রভাত বহির্বিশ্ব ডেস্ক

গাজায় সোমবারের নিহত ৬০ ফিলিস্তিনির শেষকৃত্য চলার মধ্যেই সীমান্তের কাছে ফের নতুন করে বিক্ষোভে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স’ানীয় স্বাস’্য কর্মকর্তারা। তবে মঙ্গলবারের এ বিক্ষোভ আগের দিনের মতো অতটা সহিংস রূপ নেয়নি। গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনির সংখ্যাও সোমবারের তুলনায় অনেক কম দেখা গেছে। খবর বিডিনিউজের।
বেশির ভাগ ফিলিস্তিনিই গতদিনে নিহতদের জন্য শোকাহত থাকায় বিক্ষোভে কম সামিল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিক্ষোভে চার হাজার ফিলিস্তিনি অংশ নিয়েছে বলে ধারণা প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। আগের দিনই যে সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার। মঙ্গলবার নাকবা বা বিপর্যয় দিবস উপলক্ষে ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভ করেছে। এ সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে সীমান্তের কাছে ৫১ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনিসহ ২ জন নিহত হয়।
ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পূর্তি পালনের দিনটিই ফিলিস্তিনিদের কাছে নাকবা দিবস, যার অর্থ হচ্ছে, ‘বিপর্যয়ের দিন।’ ৭০ বছর আগের এ দিনে ফিলিস্তিনিদেরকে তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে ফিলিস্তিনিরা মঙ্গলবার তাদের ‘দ্য গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ আন্দোলনের শেষ দিনটি পালন করেছে। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই নিহতদের দাফন শেষের পর সীমান্তে জড়ো হয়।
এর আগে সোমবার জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনের দিন সীমান্তে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৬০ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়া ছাড়াও আরো ২ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি আহত হয়। ২০১৪ সালের পর গাজায় এটিই ছিল সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন।
ইসরায়েলে অবসি’ত নিজ ভূমিতে ফেরত যাওয়ার অধিকারের দাবিতে গত ৩০ মার্চ থেকে গাজা সীমান্তে অবস’ান নিয়ে ফিলিস্তিনিরা আন্দোলন শুরু করেছে। ওই সময় তারা ১৫ মে পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।
বিক্ষোভ শুরুর দিনে থেকে এখন পর্যন্ত ১০৭ বিক্ষোভকারী নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার মানুষ আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস’্য মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, ইসরায়েলি পক্ষে হতাহতের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
আন্তর্জাতিক বিশ্ব এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস’া সীমান্তে ইসরায়েলি সেনাদের হত্যাযজ্ঞের বিশেষ করে, সোমবারের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এ নিন্দা-সমালোচনার মুখেও ইসরায়েল নিজেদের কৃতকর্মের সাফাই দিয়ে বলেছে, তারা সন্ত্রাসী তৎপরতা ঠেকানোর চেষ্টা করেছে, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা তাদের উদ্দেশ্য নয়।
নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে ২৪ জন সন্ত্রাসী এবং তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের রেকর্ড আছে বলে ইসরায়েল দাবি করেছে। ইসরায়েলের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।