গলাকেটে স্কুলছাত্রী হত্যা মামলা

ফরেনসিক প্রতিবেদনে মিলবে মৃত্যু রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

পরকীয়ার জের ধরেই স্কুলছাত্রী ইলহাম খুন হয়েছে। নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মোস্তাইন হোসেন জানিয়েছেন, মা নাসরিনের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া শিক্ষানবীশ আইনজীবী রিজুয়ান কবীর রাজুর অনৈতিক কিছু দেখে ফেলায় আলামত নষ্ট করতে শিশু ইলহামকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। ‘তদন্তে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আমরা মোটামুটি নিশ্চিত রাজু ও নাসরিনের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্কের জের ধরে ইলহাম নৃশংস খুনের শিকার হয়েছে’ বলেন পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাইন।
সিএমপির এ কর্মকর্তা জানান, দুদিনের পুলিশ
হেফাজতে নিয়ে রিজুওয়ান কবীর রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। রিমান্ডে মুখ না খুললেও ঘটনাস’ল থেকে জব্দ করা আলামত বিশ্লেষণ করে ইলহাম ও নাসরিন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এখন শুধু অপেক্ষা ফরেনসিক প্রতিবেদনের।
তাহলে এখনই নাসরিনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন করলে উপপুলিশ কমিশনার এসএম মোস্তাইন হোসেন জানান, রাজুর সঙ্গে নাসরিনের পরকীয়া জেরে ইলহাম খুন হয়েছে এ কথাটি স্বামী নাছির উদ্দিনকে বলেছি। কিন’ তিনি এ কথা বিশ্বাস করতে চাইছেন না। তবুও স্বামীর মাধ্যমে ইলহাম খুনে স্ত্রী নাসরিন জড়িত থাকার কথাটি স্বীকার করানোর চেষ্টা করছি। ‘আমাদের আশা ব্রেক থ্রো-টা নাসরিনের কাছ থেকেই আসুক। এরপর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনার পর পর পুলিশ ইলহাম খুনের রহস্য জানলেও অত্যন্ত সতর্কতা ও কৌশলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ করে সিএমপির এ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার তিনদিন আগে থেকে রাজুর বোন জেবুন্নেছা বাসায় ছিল না। এসময় রাজু তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ইন্টারনেটে অশ্লীল সাইট দেখার তথ্য পাওয়া গেছে। অপরদিকে বাসায় ছিলেন ইলহামের দাদি। তার (ইলহাম) বাবাও ছিলেন সৌদি আরবে। ফলে এসব সমীকরণ বলছে, রাজুর সঙ্গে নাসরিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস’ল থেকে রক্তমাথা ছুরি, পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া যে ছুরি দিয়ে নাসরিন তার ‘হাত কেটে আত্মহত্যা’র চেষ্টা করেছিল সেটিও ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ফলাফলে প্রমাণ হবে যে ছুরি দিয়ে নাসরিন ‘আত্মহত্যার’ চেষ্টা চালান সেটিতে কার রক্ত এবং আঙ্গুলের ছাপ রয়েছে। ‘তদন্তে মা নাসরিন ও কথিত মামা রাজু জড়িত থাকার তথ্য মিললেও সম্ভবত রাজুই ইলহামকে জবাই করে হত্যা করেছে’ বলেন সিএমপির কর্মকর্তা এসএম মোস্তাইন।
গত ২৭ জুন বাকলিয়া থানার ল্যান্ডমার্ক আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় ইলহামকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। সে নগরের মেরন সান স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা মো. নাছির উদ্দিন সৌদি আরব প্রবাসী। এ ঘটনায় গত ২৮ জুন দিবাগত রাতে নিহতের নানা নাসির উদ্দিন বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ইলহামের কথিত মামা শিক্ষানবীশ আইনজীবী রিজুয়ান কবীর রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ২৯ জুন আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। গত ১ জুলাই শুনানি শেষে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ইলহামকে খুনের পর গলাকাটা লাশ চট্টগ্রাম মেডিক্যোল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান এই রাজু।