গবাদিপশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ

সম্পাদকীয়

আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি গত কয়েকবছরে যে উন্নয়ন সাধন করেছে তার অন্যতম কারণ পোলট্রি শিল্পে সাফল্য ও গবাদি পশুর উৎপাদন বৃদ্ধি আর এসব কাজে প্রধান ভূমিকা পালন করে চলেছে নারী সম্প্রদায়। পরিবার লাভবান হচ্ছে, আর দেশের অর্থনীতি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারছে। গরম্ন ও ছাগল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস’ার ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ছাগলের সংখ্যা মাংস ও দুধ উৎপাদনে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সূচকে ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। ছাগলের দুধ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়, আর ছাগলের সংখ্যা ও মাংস উৎপাদনে চতুর্থ। এই দুটিতে শীর্ষস’ানে রয়েছে চীন ও ভারত।
আর গরম্ন, ছাগল, মহিষ, ভেড়া মিলিয়ে গবাদিপশু উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস’ান ১২তম। পত্রিকানত্মরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক বছর আগেও গবাদি পশুর চাহিদা মেটাতে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার কোরবানি ঈদের সময় ২০ থেকে ২২ লাখ গবাদি পশু বৈধ-অবৈধ পথে দেশে আসতো। সারা বছর আমদানি চলতো। ভারতে বিজেপি সরকার ড়্গমতায় আসার পর বাংলাদেশে গরম্ন আসা বন্ধ করলে বাংলাদেশ প্রথমে সংকটে পড়ে তবে এই সংকটই সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। সরকারি এবং বেসরকারিভাবে উদ্যোগের ফলে গবাদিপশুর লালন পালন বেড়ে যায়। প্রতিবছর ২৫ শতাংশ হারে খামার বাড়ছে। গত ৩ বছরে গরম্ন ছাগলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ লাখ। এ জন্য খামার মালিক, ড়্গুদ্র উৎপাদনকারীদের ভূমিকা ব্যাপক। মাঠ পর্যায়ে পশুপালন কর্মকর্তা, গবেষক ও বিজ্ঞানীদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে পশুপালন ড়্গেত্রে বিরাট বিপস্নব সাধিত হয়েছে। এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ কয়েক বছরের মধ্যেই গবাদিপশু রপ্তানি করতে সড়্গম হবে। গবাদি পশুপালনে দারিদ্র্য নিরসন ঘটছে। মাংসের চাহিদা পূরণ হচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ও করা যাচ্ছে। শুধু সংখ্যার দিক দিয়ে নয়, উন্নত জাতের গরম্ন ছাগল উৎপাদন করা হচ্ছে বিশেষ করে বস্ন্যাক বেঙ্গল ছাগল বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত।
মৎস্য, কৃষি ও কৃষিপণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের ভূমিকা আজ বিশ্বে ব্যাপকভাবে আলোচিত। বিপুল কর্মসংস’ানে যেমন সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এই খাত, আর এর মধ্যদিয়ে ড়্গুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ব্যাপক প্রসারও হচ্ছে। গ্রামীণ নারী সমাজের এক বড়ো অংশ হাঁস-মুরগি-কবুতর-ছাগল পালন করে পারিবারিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
জানা গেছে, পি কে এস এফ এর মাধ্যমে উৎপাদন হওয়া ১০ লাখ গরম্নর মধ্যে ৬ লাখ বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে, সরাসরি খামার থেকে। আধুনিক ব্যবস’াপনা, আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ঘটলে এই খাত আরও শক্তিশালী হবে।
গবাদিপশুর থেকে সংক্রমিত অসুখ বিসুখ সামগ্রিকভাবে জনস্বাসে’্যর জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। বর্তমান বিশ্বে প্রাণিবাহিত জীবাণু থেকে মারাত্মক রোগেরও সৃষ্টি হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য উপজেলা ও জেলার পশু হাসপাতালগুলি আধুনিকায়নও জরম্নরি। পশু খাদ্যের ব্যাপারটিতে মনোযোগ দিতে হবে যাতে এর মান অড়্গুণ্ন থাকে। সামগ্রিকভাবে গবাদিপশু নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রাখতে হবে।
আমরা গ্রামে শহরের সুবিধা-সুযোগের ব্যাপারে বলছি। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে উৎপাদন বৃদ্ধি, পণ্যের বাজারজাতকরণ, সংরড়্গণ ও সুষম বণ্টন ব্যবস’া অপরিহার্য। গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ করতে কৃষি, মৎস্য ও গবাদি পশুপালন এবং ড়্গুদ্র মাঝারি ও কুটির শিল্পের উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নিতে হবে। ধান, সবজি, মৎস্য ও গবাদিপশু উৎপাদনে আমাদের সাফল্য আজ বিশ্বে স্বীকৃতি পাচ্ছে।