ফ্লাইওভারের সৌন্দর্যবর্ধন কাজ উদ্বোধনকালে মন্ত্রী মোশাররফ

গণপূর্তের সবকাজে বাগড়া দেয় সিটি করপোরেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘যখন যে মেয়র সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে আসে তখন তারা নিজেদেরকে সরকার মনে করে। তাদের আসল কাজ হল বর্জ্য অপসারণ করা, অথচ তারা সে কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে যেখানে যা খুশি তা করে বেড়ায়। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে গণপূর্ত যখন কোথাও একটা মহৎকাজের উদ্যোগ নেবে সিটি করপোরেশন তখন সেখানে এসে বাগড়া দেবে।’
সিডিএ কর্তৃক নির্মিত মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ২ কিলোমিটারের দীর্ঘ আখতারুজ্জমান ফ্লাইওভারের সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এ কথা বলেন। গতকাল বেলা ১১টায় জিইসি মোড়সংলগ্ন হোটেল পেনিনসুলার সামনে ফ্লাইওভারের নিচের খোলা অংশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপসি’ত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এর চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, সিডিএর বোর্ড সদস্যবৃন্দ, স’ানীয় ওয়ার্ড কমিশনার গিয়াস উদ্দিনসহ অন্যরা।
গণপূর্তমন্ত্রী এসময় নগরীর বিভিন্ন সড়কের মোড়ে উন্মুক্তভাবে ঁ ২য় পৃষ্ঠার . কলাম
ঁ ১ম পৃষ্ঠার পর

ময়লা-আবর্জনা স্তূপ আকারে পড়ে থাকায় সিটি করপোরেশনের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের উচিত শহরটিকে আবর্জনামুক্ত রাখার ব্যাপারে একটু মন দেওয়া। তিনি আরও বলেন, আগে ফ্লাইওভারের নিচের অংশ পরিত্যক্ত থাকত, দুনিয়ার যত ময়লা-আবর্জনার স’ান হত সেখানে। কিন’ সিডিএ চেয়ারম্যানের উদ্যোগে বর্তমানে ফ্লাইওভারের পিলারে বসানো হচ্ছে চীন থেকে আমদানি করা সবুজ টার্ফ, আইল্যান্ডে করা হচ্ছে গাঁদা-রজনীগন্ধা-পাতাবাহার এর বাগান, দুদিন পর বাগানে উড়ে বেড়াবে প্রজাপতি! ব্যস্ততম সড়কের মধ্যখানে এমন দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য সত্যিই অভাবনীয়।
গণপূর্তমন্ত্রী তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ফ্লাইওভার ছাড়াও আরও নানা প্রাসঙ্গিক বিষয়ে কথা বলেন। আগ্রাবাদের সিডিএ আবাসিক এলাকায় অবসি’ত জাম্বুরি মাঠ ও তদসংলগ্ন কর্ণফুলী শিশু পার্ক সম্পর্কে তিনি বলেন, জাম্বুরি মাঠ সংলগ্ন শিশু পার্কটি গণপূর্তের জায়গায় রয়েছে। সাত একরেরও বেশি জায়গার উপর অবসি’ত ওই পার্কটি আমরা ভেঙে ফেলে সেখানে ছেলেপিলেদের জন্য খেলার মাঠ করব। খেলার মাঠ হবে তিনটা- ফুটবল, ক্রিকেট এবং হকির। এছাড়া জাম্বুরি মাঠে নির্মাণাধীন পার্কটি হবে ঢাকার রমনা পার্কের মতো, যেখানে বিনে পয়সায় যে কেউ প্রবেশ করতে পারবে।
মন্ত্রী পাঁচলাইশ থানাধীন জাতিসংঘ পার্কটির ব্যাপারে বলেন, এই পার্কটি পাকিস্তান আমল থেকেই গণপূর্তের। কোন স’াপনা বা প্রতিষ্ঠানের দেখভালের দায়িত্ব কাউকে দিলেই সেটির মালিকানা তার হয়ে যায় না। আমরা এই ফ্লাইওভারের নিচে বসে অনুষ্ঠান করছি বলে এটার মালিকানা আমরা দাবি করতে পারব না। অথচ জাতিসংঘ পার্ক নিয়ে সিটি করপোরেশন তাই করছে। তবে আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, জাতিসংঘ পার্কটির যথাযথ সংস্কার ও উন্নয়ন আমরা করবই।
ডিসি হিলে চলমান বইমেলা সম্পর্কে মন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ডিসি হিলে বইমেলার নামে ওসব হচ্ছেটা কি? দুয়েকটা বইয়ের স্টল বসল কি বসল না, সেখানে চায়ের দোকান-টঙ বসিয়ে চা বিক্রি হচ্ছে, দেদারসে চলছে ছোলা-পেঁয়াজু বিক্রি। কোন ক্রেতা নেই, পাঠক নেই। বইমেলা হবে বইমেলার মতো। বাংলা একাডেমির বইমেলা তারা চোখে দেখে না?