গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক

আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে : বদরম্নদ্দোজা চৌধুরী নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইতিবাচক যুক্তফ্রন্ট : ওবায়দুল কাদের

সুপ্রভাত ডেস্ক

নির্বাচন সামনে রেখে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিন ঘণ্টা সংলাপ করেছে এ কিউ এম বদরম্নদ্দোজা চৌধুরী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। বহুল আলোচিত এই সংলাপে যোগ দিতে বদরম্নদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সন্ধ্যা সোয়া ৭টার পর গণভবনে পৌঁছান। ময়মনসিংহে বেশ কিছু প্রকল্প উদ্বোধন এবং জনসভায় বক্তৃতা দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার আগেই গণভবনে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।
যুক্তফ্রন্টের নেতারা গণভবনে ঢুকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ উপসি’ত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এরপর তারা ব্যাংকোয়েট হলে ঢুকে নির্ধারিত আসনে বসেন। সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ব্যাংকোয়েট হলে ঢুকলে বিকল্প ধারার বদরম্নদ্দোজা চৌধুরী, আবদুল মান্নান ও শমসের মবিন চৌধুরী তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেড়্গ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘যাতে জনগণ তাদের নেতৃত্ব খুঁজে নিতে পারে, কীভাবে তা খুঁজে নিতে পারে সেটাই লড়্গ্য।’ গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয় মনত্মব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক। উন্নয়নের ধারা সচল থাকুক। অনেক ঘাত প্রতিঘাত বাধা অতিক্রম করে আমরা গণতান্ত্রিক ধারা অবাহত রেখেছি।’ তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়নের ধারা অবাহত থাকুক, সেটাই আমরা চাই।’ এরপর যুক্তফ্রন্টের ২১ নেতার সঙ্গে রম্নদ্ধদ্বার আলোচনা করেন শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে ছিলেন ড়্গমতাসীন জোটের ২২ নেতা। রাত সাড়ে ১০টা পর্যনত্ম এই সংলাপ চলে। সংলাপ শেষে একে একে বেরিয়ে যান যুক্তফ্রন্টের নেতারা।সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ গণভবনের বাইরে অপেড়্গায় থাকা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভালো আলোচনা হয়েছে, আশা করি তারা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।’
সংলাপে বিকল্প ধারার সভাপতি বদরম্নদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বিকল্পধারার নেতা আবদুল মান্নান, শমসের মবিন চৌধুরী, গোলাম সারোয়ার মিলন, আবদুর রউফ মান্নান, ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ ইউসুফ, সহসভাপতি মাহমুদা চৌধুরী, মাহবুব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারম্নক ও নির্বাহী সদস্য সাবেক এমপি মাজহারম্নল হক শাহ চৌধুরী; সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজা; বিএলডিপি সভাপতি নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন;
বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব এম গোলাম মোস-ফা ভুইয়া; ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পাটির্র চেয়ারম্যান (এনডিপি) খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজা, মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ইশা; বাংলাদেশ জনতা পাটির্র সভাপতি শেখ আসাদুজ্জামান; জনদলের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী; হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ইউনাইটেড মাইনরিটি ফ্রন্টের সভাপতি দীলিপ কুমার দাশ এবং লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামদুলস্নাহ আল মেহেদী।
অন্যদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্যাহ, আবদুল মতিন খসরম্ন, মো.আব্দুর রাজ্জাক, রমেশ চন্দ্র সেন, আনিসুল হক, মাহাবুব-উল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুস সোবহান গোলাপ, শ ম রেজাউল করিম, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু, মইনুদ্দিন খান বাদল ও সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া। খবর বিডিনিউজ ও বাংলানিউজ।
বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বৃহস্পতিবার রাতে গণভবনে সংলাপে অংশ নেয়। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে কামাল বলেন, এ আলোচনায় বিশেষ কোনো সমাধান তারা পাননি। আর জোটের সবচেয়ে বড় দল বিএনপির ফখরম্নল সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় তারা সন’ষ্ট নন। এই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের প্রক্রিয়ায় বিকল্প ধারাও ছিল; কিন’ বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ না ছাড়ায় তাদের নিয়ে আপত্তির কথা জানিয়ে শেষ মুহূর্তে তাতে যোগ দেয়নি বি চৌধুরীর দল। পরে বিএলডিপি, বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপিকে নিয়ে বদরম্নদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট। খবর বিডিনিউজ ও বাংলানিউজ।
সাত দফা দাবি নিয়ে যুক্তফ্রন্ট এই সংলাপে অংশগ্রহণ করে।দাবিগুলো হল-
# নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য ‘লেভেল পেস্নয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা। সংসদ ভেঙে দেওয়া, সম্ভব না হলে নিষ্ক্রিয় রাখা। # নির্বাচনের সঙ্গে প্রত্যড়্গ বা পরোড়্গভাবে জড়িত কর্মচারীদের নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যসত্ম করা। নির্বাচন কমিশনকে শতভাগ রাষ্ট্রপতির অধীনে রাখা। তফসিল ঘোষণার পর এমপিরা যাতে সংশিস্নষ্ট এলাকায় কোনো প্রকল্প উদ্বোধন বা প্রতিশ্রম্নতি দিতে না পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেওয়া। প্রয়োজনে আইন করে মন্ত্রী ও এমপিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার করা। ড়্গমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিল বোর্ড, ব্যানার, পোস্টার অপসারণ করা। #নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে। প্রয়োজনে এক দিনের জন্য সংসদ ডেকে জাতীয় সরকার গঠন করা যেতে পারে। অথবা মন্ত্রিপরিষদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা জোট থেকে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের অনত্মর্ভুক্ত করে গুরম্নত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে একটি সনেত্মাষজনক নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। নির্বাচনে সকল প্রকার নিরপেড়্গতা বজায় রাখার জন্য নিরপেড়্গ নির্বাচনকালীন সরকার অথবা বর্তমান সরকারের নির্বাচন বিষয়ে ড়্গমতা সীমিত করতে হবে। # নির্বাচনের আগে ও পরে যাতে শানিত্ম-শৃঙ্খলার বিঘ্ন না ঘটে-সেজন্য সেনাবাহিনীকে নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে এবং নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর পর্যনত্ম মোতায়েন করতে হবে। ভোটের দিন সেনাবাহিনীকে সীমিত ড়্গমতা দিতে হবে যেমন, আটক রাখার ড়্গমতা ও ভোট কেন্দ্রে থাকা। # নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা।# নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কারণে আটক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। # নির্বাচন সম্পর্কিত মামলা নির্বাচনের পর এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা। সেই লড়্গ্যে প্রয়োজনীয় আইন অতি প্রণয়ন করা।
সংলাপে ‘খুশি’ বি চৌধুরী
নির্বাচন সামনে রেখে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিন ঘণ্টা সংলাপ শেষে যুক্তফ্রন্টের নেতা এ কিউ এম বদরম্নদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, সব কথা বলতে পেরে তারা ‘খুশি’।
শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে গণভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা খুশি হয়েছি এই জন্য যে আমাদের কথাগুলো পরিষ্কারভাবে বলতে পেরেছি। সেই ভিত্তিতে কয়েকটা কথায় মতৈক্য হয়েছে।’ সংলাপ ফলপ্রসূ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বিকল্প ধারার সভাপতি বদরম্নদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কথাগুলো তারা গ্রহণ করেছে বলে আমাদের প্রতিয়মান হয়েছে।’ বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সংলাপ খুব ভালো হয়েছে। এই সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব।’
যুক্তফ্রন্টের সাত দফা দাবির মধ্যে নিরপেড়্গ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে ভোটের কথা ছিল, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মান্নান বলেন, ‘সেই দাবি তো আমাদের আছেই। কিন’ আমরা নির্বাচনে যাব।’
এদিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে সংলাপ শেষে নিজ বাসায় বিকল্পধারার সভাপতি ডা. এ কিউ এম বদরম্নদ্দোজা চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তফ্রন্টের অনেকগুলো দাবির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন। তিনি বলেন, লেভেল পেস্নইং ফিল্ড, সরকারের ড়্গমতা সীমিত করা, নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত সবাই কমিশনের অধীনে কাজ করা প্রভৃতি বিষয়ে একমত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে নিরপেড়্গ সরকারের অধীনে নির্বাচন ও সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ড়্গমতা দেওয়ার দাবি প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেননি বলে জানান বি. চৌধুরী।
নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইতিবাচক যুক্তফ্রন্ট
সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা. বদরম্নদ্দোজা চৌধুরী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে বিকল্পধারা বদরম্নদ্দোজা চৌধুরী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের একথা বলেন। তিনি বলেন, যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে গঠনমূলক ও ভালো আলোচনা হয়েছে। আমরা মনে করি আগামী নির্বাচনে তারা অংশ নেবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তন করার মতো এমন কোনো দাবি তারা (যুক্তফ্রন্ট) করেনি। তারা বলেছেন, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া বা নিষ্ক্রিয় রাখতে। আমরা এটা মেনে নিয়েছি। কারণ ইতোমধ্যে সংসদের শেষ অধিবেশন হয়ে গেছে। অলরেডি সংসদ নিষ্ক্রিয়।