ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা

‘খুনিরা’ চিহ্নিত হলেও ধরা পড়ছে না আসামি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
Sudipta

ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যায় জড়িত আসামিদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ। কিন’ তারা ধরা পড়ছে না। সম্ভাব্য জায়গায় একাধিকবার অভিযান চালিয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে পুলিশকে। হত্যাকাণ্ডের ৭ দিন পরেও নির্মম এ খুনের ঘটনায় একজন আসামিও গ্রেফতার না হওয়ায় নগর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সুদীপ্ত’র ঘনিষ্ট মহলের অভিমত, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সোহেল হত্যা, সরকারি সিটি কলেজের ছাত্রলীগ নেতা ইয়াছিন আরাফাত হত্যার পরিণতির দিকে এগুচ্ছে সুদীপ্ত খুনের ঘটনা। রোমহর্ষক এ ঘটনায় সন্তান হারা মা-বাবা আদৌ বিচার পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে মহলটি।
৭ দিন পরেও কেন খুনিদের গ্রেফতার করা যাচ্ছে না, প্রশ্ন করলে গতকাল নিজের দপ্তরে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সালেহ মো. তাণভীর বলেন, ‘সুদীপ্তকে কারা হত্যা করেছে তাদের প্রায় চিহ্নিত করেছি। দফায় দফায় অভিযানও চালাচ্ছে পুলিশ। কিন’ আসামিদের পাওয়া যাচ্ছে না।’
এ ঘটনায় লালখান বাজার এলাকার এক আওয়ামী লীগ নেতা জড়িত থাকার কথা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। সে বিষয়ে সিএমপির অবস’ান কী ? এ প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ কর্মকর্তা সালেহ মো. তাণভীর বলেন, ‘তদন্তে যত বড় নেতার নামই আসুক। ছাড় দেওয়া হবে না।’
নগরের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছর ব্যবধানে সুদীপ্তসহ তিনটি ‘রাজনৈতিক’ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কিন’ এসব ঘটনার মূলহোতাদের এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ। এটি নগর পুলিশের ব্যর্থতা কিনা কিংবা এসবের কিনারা না করতে সরকারদলীয় কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্তব্য করেননি সালেহ তানভীর। অভিযোগ আছে, সুদীপ্ত খুনে ওই আওয়ামী লীগ নেতার ইন্ধন থাকার অভিযোগ উঠার পর থেকে আসামিদের গ্রেফতারে রহস্যময় আচরণ করছে সদরঘাট থানা পুলিশ। এ ঘটনার আপডেট জানতে সরাসরি কথা বলতে গেলে সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা আকতার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিরক্তি প্রকাশ করেন। তারা গতকাল বৃহস্পতিবারও সাংবাদিকদের বলেছেন-‘সুদীপ্ত হত্যার নতুন কোনো তথ্য নেই পুলিশের কাছে। তথ্য পেলে পরে জানাব।’
পুলিশ সূত্র জানায়, সুদীপ্ত খুনের ঘটনায় অংশ নেন ৭-৮ জন। ঘটনার সময় আরও ৩০-৩৫ জন যুবক নিউমার্কেট মোড়, সিটি কলেজ-সংলগ্ন কালীবাড়ি মন্দির মোড়ে অবস’ান করছিলেন। সুদীপ্তকে পিটিয়ে চলে আসার সময় তিনটি ফাঁকা গুলি করে তারা।
৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে সাতটার দিকে দুই যুবক বাসায় এসে সুদীপ্তকে জানান, তার এক বন্ধুর বাবা মারা গেছেন। খবরটি শুনেই তাদের সঙ্গে বেরিয়ে যান সুদীপ্ত। এর ১০ মিনিট পর চিৎকার শুনে তার মা বাসা থেকে বেরিয়ে গলির মুখে যান। বাসা থেকে ওই পথের দূরত্ব প্রায় ১০০ ফুট। সেখানে ছেলেকে রাস্তার পাশে অচেতন অবস’ায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে বেলা সাড়ে ১১টায় মারা যান সুদীপ্ত।