খাশোগি ‘হত্যাকাণ্ডে’ সময় লেগেছিল মাত্র সাত মিনিট!

সুপ্রভাত ডেস্ক

মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে আশঙ্কা করছে তুর্কি তদন্তকারীরা। ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগির অন্তিম মুহূর্তের অডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এক তুর্কি সূত্রকে উদ্ধৃত করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই খবরটি জানিয়েছে। খবর বাংলাট্রিবিউনের।
জামাল খাশোগি গত ২ অক্টোবর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে তুরস্কের ইস্তানবুল শহরের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর আর বের হননি। সৌদি আরব অবশ্য বলছে, খাশোগি কনস্যুলেট ভবন থেকে বের হয়ে গেছেন। তবে তুরস্কের পক্ষ থেকে এর প্রমাণ চাওয়া হলে তা সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে রিয়াদ। তুরস্কের দাবি, তাদের তদন্তকারীদের হাতে নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। ২ অক্টোবর তুরস্কে আসা ১৫ সদস্যের একটি সৌদি দল এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ আঙ্কারার।
শুরু থেকেই খাশোগিকে হত্যার একটি অডিও প্রমাণ হাতে থাকার দাবি করে আসছে তুরস্ক। ওই অডিও রেকর্ডিং পুরোপুরি শুনেছেন এমন এক তুর্কি সূত্র মিডলইস্ট আইয়ের কাছে দাবি করেন, ২ অক্টোবর মাত্র সাত মিনিটে পুরো হত্যাকাণ্ড সম্পাদিত হয়েছে। ওই সূত্র দাবি করেছে, খাশোগিকে হত্যার উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের জেনারেল সিকিউরিটি বিভাগের ফরেনসিক প্রমাণ সংক্রান্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সালাহ মোহাম্মদ আল তুবাইগিসহ ১৫ জনের একটি দল প্রাইভেট জেটে করে ওইদিন সকালে আঙ্কারা পৌঁছান। দূতাবাসের কনসাল জেনারেলের অফিস থেকে খাশোগিকে টেনেহিঁচড়ে কনসাল জেনারেলের পড়ার ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় উপরে ঁ ৭ম পৃষ্ঠার ২য় কলাম
ঁ শেষ পৃষ্ঠার পর
প্রচণ্ড চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন সেখানে নিচতলায় উপসি’ত থাকা এক ব্যক্তি। কিছুক্ষণ পর তার চিৎকার বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, তাকে চেতনানাশক কিছু দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র দাবি করেছে, খাশোগিকে জিজ্ঞাসাবাদের কোনও আলামত দেখা যায়নি। তাকে হত্যা করতেই স্কোয়াডটি এসেছিল। স্টাডি রুমের টেবিলে ওপর শুইয়ে খাশোগিকে জীবিত অবস’ায় কেটে টুকরো টুকরো করেন তুবাইগি। পুরো হত্যাকাণ্ডটি ঘটাতে সময় লেগেছে মাত্র সাত মিনিট।
তুবাইগি যখন খাশোগিকে কাটতে শুরু করেন তখন তিনি ইয়ারফোনে উচ্চস্বরে গান শুনছিলেন। এছাড়া এ সময় তিনি তার সহকর্মীদেরও গান শুনতে উৎসাহ দেন। ওই রেকর্ডে তুবাইগিকে বলতে শোনা গেছে, ‘যখন আমি এ কাজ করি তখন গান শুনি। আপনাদেরও এটা করা উচিত।’
তিন মিনিটের একটি অডিও রেকর্ড তুর্কি সংবাদমাধ্যম সাবাহকে দেয়া হয়েছে। তবে তারা সেটি এখনো প্রকাশ করেনি বলে জানিয়েছে মিডলইস্ট আই। একটি ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিকের ব্যাপারে ২০১৪ সালে তুবাইগির সাক্ষাৎকার নিয়েছিল লন্ডনভিত্তিক সৌদি পত্রিকা আশরাক আল আওসাত। নিহত হাজীদের মৃত্যুর কারণ জানতে ওই ক্লিনিকে সাত মিনিটে পরীক্ষা সম্পন্নের সক্ষমতার কথা জানা গিয়েছিল। আশরাক আর আওসাত-এর সেই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, এই ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিকটি তুবাইগির ডিজাইন করা। এটির মাধ্যমে ঘটনাস’লেই কারো ময়নাতদন্ত করা সম্ভব।
ইস্তানবুলে সৌদি দূতাবাসে খাশোগি হত্যার এটিই প্রথম বিস্তারিত বিবরণ বলে দাবি করেছে মিডলইস্ট আই।