খালে খালে বাঁধ আবর্জনার সত্মূপ

ভূঁইয়া নজরম্নল

হালিশহর আর্টিলারির পাশে মহেশখালে বাঁধ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে খালখনন ও রিটেনিং দেয়াল নির্মাণের কাজ। এতে খালের দুপ্রানেত্ম পানি ও আবর্জনা জমা হয়েছে। একই সাথে দড়্গিণ কাট্টলী জেলেপাড়া এলাকায় খালের ওপর বাঁধ দিয়ে একদিকে মাটিখনন হলেও অপর পাশে এখনো জমা রয়েছে আবর্জনার সত্মূপ। এই চিত্র শুধু এই দুই খালেই নয়। নগরীর প্রায় সব খালেই আবর্জনার ভাগাড় রয়েছে। এতে আগামী বর্ষায় নগরবাসী জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়তে পারে।
জলাবদ্ধতা নিরসনের সমাধান কে করবে? চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরীর খালগুলো থেকে মাটি উত্তোলন ও পরিষ্কারের কাজ করে এলেও এখন আর করছে না। তাদের দাবি, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপড়্গ (সিডিএ) সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজ করছে, তাই সিডিএ এই কাজ করবে। অপরদিকে সিডিএ বলছে, জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রকল্পের কাজটি মাঠ পর্যায়ে বাসত্মবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, সিডিএ মেগা প্রকল্পের আওতায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে। তারা যদি আমাদের সহায়তা চায়, তাহলে অবশ্যই আমরা তা করবো। আমাদের পর্যাপ্ত জনবল ও ইকুইপমেন্ট রয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি স’ানীয় সরকারমন্ত্রী সিটি করপোরেশনকে নালাগুলো থেকে মাটি উত্তোলন করতে বলেছেন। কিন’ নালা পরিষ্কার করলাম। নালা থেকে ছোটো খাল হয়ে বড় খালে কিংবা নদী বা সাগরে পানি যেতে পারলো না। তখন তো জলাবদ্ধতা দেখা দেবে। আর খালগুলো পরিষ্কার ও খননের কাজ সিডিএ’র প্রকল্পের আওতায়ও রয়েছে। সেজন্য অর্থও বরাদ্দ রয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে পুরো দায় নিজের কাঁধে নিতে নারাজ সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাসত্মবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আমরা তাদের সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট দিচ্ছি। সেনাবাহিনী করলেও নাগরিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আর প্রকল্পের শুধুমাত্র ভূমি অধিগ্রহণের কাজটি সিডিএ করে দেবে। এই ভূমি অধিগ্রহণ আগামী বর্ষার পরে শুরম্ন করা হবে।
এদিকে সিডিএ’র পড়্গ থেকে ভূমি অধিগ্রহণ ও খালের উভয় পাশের অবৈধ স’াপনা উচ্ছেদ না করায় খাল পরিষ্কার ও মাটিখননের কাজ করা যাচ্ছে না বলে জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তানভির আহমেদ। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন কাজটি অনেক জটিল। আমরা খাল পরিষ্কার করে গেলাম আর বর্জ্য ফেলে খালটি ভরাট করে ফেলা হলে তো হবে না। বাসত্মবে তা হচ্ছে। এছাড়া খালের উভয় পাশের স’াপনা সিডিএ উচ্ছেদ করে না দেয়ায় ইকুইপমেন্ট নিয়ে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। তবে যেখানে খালি পাওয়া যাচ্ছে আমরা সেখান থেকে খ- খ- এলাকায় মাটি উত্তোলন ও সীমানা দেয়াল দিচ্ছি।
কিন’ প্রধান খালগুলোর সাথে সংযুক্ত খালগুলো তো আবর্জনায় ভরা, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আগামী বর্ষায় ঁ ২য় পৃষ্ঠার ৭ম কলাম
নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে আমরা পাঁচটি এলাকাকে (ষোলশহর দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, প্রবর্তক ও জিইসি মোড়) বিশেষ গুরম্নত্ব দিচ্ছি। একই সাথে প্রধান খালের সাথে সংযুক্ত খালগুলো পরিষ্কার করতে সিটি করপোরেশনকে নিয়ে একটি ক্রাশ প্রোগ্রাম নেয়া হবে। পানি যাতে সরে যেতে পারে, সেজন্য খালগুলো খননের চাইতে পরিষ্কারে মনোনিবেশ করা হবে।
তবে নদী ও সাগর থেকে জোয়ারের পানি আসা বন্ধ করতে খালের মুখে রেগুলেটর লাগানোর বিকল্প নেই, বলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তানভির আহমেদ। ইতোমধ্যে কয়েকটি খালের মুখে রেগুলেটর বসানোর কাজ শুরম্ন হয়েছে।
এদিকে নগরীর বিভিন্ন খাল ঘুরে দেখা যায়, ঈদগা রূপসা বেকারির পাশের আজব বাহার ছড়া খালজুড়ে রয়েছে আর্বজনা। এই খাল দিয়ে পাহাড়তলী, আমবাগান, সেগুনবাগান, দেওয়ানহাট, ঝরনাপাড়া প্রভৃতি এলাকার পানি রামপুর, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা হয়ে ছোটোপুল শানিত্মবাগের কাছে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে মহেশখালে গিয়ে পড়ে। কিন’ সমগ্র খাল জুড়ে রয়েছে বিপুল আবর্জনা। এ কারণে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ছোটোপুল, শানিত্মবাগ, বসুন্ধরা, হালিশহর কে বস্নক, এল বস্নক এবং আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা নিমজ্জিত হয়। হালিশহর বড়পুল থেকে মহেশখালের যে অংশটি হালিশহর আর্টিলারির দিকে গেছে, সেই অংশে শুধু আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে, মাটি উত্তোলন করা হয়নি। এখন আর্টিলারি ব্রিজ থেকে হালিশহর বি বস্নকের দিকে প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ এলাকায় খাল শুকিয়ে মাটিখননের পাশাপাশি সীমানা দেয়াল দেয়া হচ্ছে। আর এর দুদিকেই রয়েছে বাঁধ। অপরদিকে দড়্গিণ কাট্টলী জেলে পাড়া এলাকায়ও বাঁধ দিয়ে একটি অংশে মাটিখনন করা হয়েছে এবং উভয় দিকে আবর্জনার ভাগাড় রয়েছে। একইভাবে পাথরঘাটা মরিয়ম বিবি খালসহ বিভিন্ন খালে খ–খ-ভাবে বাঁধ দিয়ে মাটিখননের কাজ করা হচ্ছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পটি ২০১৭ সালের আগস্টে একনেকে অনুমোদনের পর ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরম্ন হয় মাটি উত্তোলন কার্যক্রম। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপড়্গ (সিডিএ) প্রকল্পটি অনুমোদন নিলেও মাঠপর্যায়ে এর বাসত্মবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ। কিন’ গত এক বছরে প্রকল্পের কাজ আশানুরূপভাবে এগোয়নি।
৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৩৬টি খাল আরএস শিট অনুযায়ী পূর্বের অবস’ায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি খালের উভয় পাশে ১৫ ফুট চওড়া রোড ও খালের মুখে ৫টি সস্নুইস গেট বসানো, সিল্ট ট্র্যাপ ও জলাধার নির্মাণ, ৩৬টি খাল খননের মাধ্যমে ৫ লাখ ২৮ হাজার ২১৪ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন, ৪২ লাখ ঘনমিটার কাদা অপসারণ, নতুন করে দশ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, ১ লাখ ৭৬ হাজার মিটার দীর্ঘ রিটেনিং দেয়াল নির্মাণ এবং খালের উভয় পাশে ৮৫ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার রাসত্মা নির্মাণের কাজ রয়েছে।