বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী

খালেদা জিয়াকে আইনের মাধ্যমেই বের করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আহ্বান জানানোর কড়া সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছেন আদালত। আইনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে বের করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো সাজা দেননি। তিনি মুক্তি দিতে পারেন না। বিএনপি ও রুহুল কবির রিজভী প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের নেত্রীর মুক্তি দাবি করে আইন ও আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল বিকেলে নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
খালেদা জিয়া অসুস’, বিএনপির এ দাবির প্রেক্ষিতে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে যেভাবে ছিলেন, এখনও তেমন আছেন। আদালতে নেওয়ার সময় টেলিভিশনে আমরা দেখি তিনি আগের মতোই বেশভূষা করে আদালতে যান। বিএনপি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আগ্রহী নয় জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই মুখপাত্র বলেন, বিগত এক বছর খালেদা জিয়া কারাগারে। বিএনপি তাদের নেত্রীকে মুক্ত করার জন্য যে আইনি লড়াইয়ের প্রয়োজন, তারা তা করছে না। এর থেকে বোঝা যায়, বিএনপিও খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে আগ্রহী না। বিএনপির কি মনে আছে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আওয়ামী লীগের ২৪জন নেতাকে হত্যা করেছে? সেদিনের বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র ছিল ওই হামলা। বিএনপি তখন বলেছিল, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সমাবেশে যাওয়ার সময় ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গেছে। সংসদে আহসান উল্লাহ মাস্টার ও এস এম কিবরিয়ার জন্য শোক প্রস্তাব উত্থাপন করলে বিএনপি হাস্যকর করেছে সেটাকে। বিএনপির কি তা মনে নেই? বিএনপিকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা। বক্তব্য রাখনে মেলা কমিটির আহবায়ক কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও মেলা কমিটির সচিব সুমন বড়-য়া, চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশনা পরিষদের সভাপতি মহিউদ্দীন শাহ আলম নিপু ও সাধারণ সম্পাদক গবেষক জামাল উদ্দীন।
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আরো বলেন, লেখকেরা লেখনির মধ্যে অমর হয়ে থাকেন। দেশে অনেক গুণী ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদ রয়েছেন। মানুষ কয়জনকে মনে রেখেছে? কিন’ লেখকরা বেঁচে আছেন পাঠকের মাঝে। বই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। ইউরোপের বাইরে প্রথম সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। গাছের যে প্রাণ আছে প্রথম জানিয়েছেন স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন অর্মত্য সেন। সারাবিশ্বে বাঙালিরা মেধার স্বাক্ষর রেখে আসছেন। বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে স্মার্টফোনের বদলে বই তুলে দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, বিগত দিনে চট্টগ্রামে একাধিক সংগঠন ও ব্যক্তির উদ্যোগে বিচ্ছিন্নভাবে বইমেলার আয়োজন হয়েছে। যার কারণে পাঠকরা বিভ্রান্তিতে পড়তো। এ কারণে লেখক-প্রকাশকদের মাঝে অনেক ক্ষোভ ছিল। তাদের দাবি ছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন যেন ঢাকার আদলে বৃহত্তর পরিসরে বইমেলার আয়োজন করে। যার কারণে সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে এবার বইমেলার আয়োজন করেছি। এতে আমরা সফল হয়েছি। ঢাকা ও চট্টগ্রামের নামকরা ১১০টি প্রকাশনা সংস’া মেলায় অংশ নিয়েছে। পাঠকদেরও ভিড় লক্ষণীয় স্টলগুলোতে। বইমেলা থেকে পাঠকদের বই ক্রয় করতে হবে, পাঠক বাড়াতে হবে। তাহলে লেখক-প্রকাশকরা বই প্রকাশে আগ্রহ দেখাবে। এবারের সফলতা থেকে আগামীবারে স্টেডিয়ামের পাশের রাস্তা নিয়ে আরো বড় পরিসরে বইমেলার আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।