খাদ্যভর্তি গাড়ি আটকে দিল উদালিয়া চা-বাগান কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ফটিকছড়ি

ফটিকছড়ির উদালিয়া চা-বাগানের ভেতরের সড়ক হয়ে যেতে হয় এন কে প্রজেক্ট নামক এক খামারে। খামারটি বছর খানেক আগে কাজী নজরুল ইসলাম নামের এক তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তুলেন। যেখানে রয়েছে গবাদি পশু, মৎস্য, এবং পোলট্রি শিল্প। বাগানের ভেতর দিয়ে যাওয়া সরকারি সড়ক দিয়ে খামারের মালামাল তথা খাদ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া করা হলেও বাগান কর্তৃপক্ষ হঠাৎ তাদের ফটকে খাদ্যসামগ্রীবাহী গাড়ি আটকে দেয়। ফলে চরম বিপাকে পড়েন খামারিরা। খামারের ভেতর অভুক্ত দিন পার করছে গবাদি পশুগুলোও। ফলে কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন ওই খামাারি। উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের উদালিয়া চা-বাগান কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে খামার কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর কাজী নজরুল ইসলাম নামের এক নবীন উদ্যোক্তা উদালিয়া চা-বাগানের পাশে কিছু জমি ক্রয় করে সেখানে খামার তৈরি করেন। যেখানে তিনি মূলত মৎস্য, গবাদিপশু এবং পোলট্র শিল্প গড়ে তুলেন। খামারের নির্মাণসামগ্রী বাগানের ব্যবহৃত সরকারি রাস্ত দিয়ে আনায়ন করা হতো। উক্ত খামারে এ পর্যন্ত দুকোটি টাকার মতো বিনিয়োগ হয়েছে। সমপ্রতি উক্ত সড়ক দিয়ে খামারের খাদ্যসামগ্রী আনা হলে বাগান কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটকে বাধা সৃষ্টি করে। তারা উক্ত খামার করার ক্ষেত্রে চা বোর্ডের অনুমতি নেই মর্মে খামার থেকে গবাদি পশু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা স’ানীয় চেয়ারম্যান সুরাহা করতে চাইলেও বাগান কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতায় তা ভেস্তে যায়।
বাগানের সহকারী ব্যবস’াপক প্রদীপ কান্তি বলেন, যেহেতু বাগানের সীমানার মধ্যে থাকা যে কোনো স’ানে খামার স’াপন করলে চা বোর্ডের অনুমতির প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে তারা কোনো অনুমতি না নেওয়ায় আমরা বাধা সৃষ্টি করেছি। অনুমতি নিয়ে আসতে পারলে আমাদের কোনো বাধা থাকবে না।’
এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন স’ানীয় চেয়ারম্যান আবু তালেব চৌধুরী। তিনি বলেন, অন্য কেউ অনুমতি ছাড়া সেখানে খামার করতে পারলে তাদের বাধা কোথায়? রাস্তাটি সম্পূর্ণ সরকারি। এতে চলাচলে বাধা দেওয়ার কোনো এখতিয়ার বাগান কর্তৃপক্ষের নেই।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের প্রধান ফটকের সামনে গবাদিপশুর খাদ্য সামগ্রী নিয়ে বাধা পড়েছে জিপ গাড়ি। বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে প্রবেশের অনুমতি চেয়েও মেলেনি। খামারে গিয়ে দেখা যায়, গবাদি পশুগুলো অভুক্ত দিন পার করছে। সেখানে কোনো লোকজনকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। খাদ্য সংকটে এসব গবাদি পুশু মরার উপক্রম হয়েছে।
খামার তত্ত্বাবধায়ক অব্দুল মুনাফ বলেন, সরকার যেখানে শিল্পের বিকাশে কথা বলে, দেশ উন্নয়নে অগ্রযাত্রার কথা বলে, ঠিক সেই সময় আমাদের বাধা দিয়ে শিল্পকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। খামারটি সৃষ্টি করার পর থেকে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস’ানের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় বলেন, অভিযোগের কপি আমি পেয়েছি। সরেজমিনে পরদির্শন করে বাগান কর্তৃপক্ষে সাথে কথা বলে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করবো।