সম্মিলিত ছাত্রসমাজের বিক্ষোভ সমাবেশ

খাগড়াছড়িতে বিতর্কিত শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি

‘শিক্ষক নিয়োগে ঘুষবাণিজ্য ও সকল দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও, অবিলম্বে জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল কর’- এই স্লোগানে বুধবার খাগড়াছড়ি শহর জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সম্মিলিত ছাত্রসমাজ। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী কর্মসূচি মুক্তমঞ্চে করার সিদ্ধান্ত থাকলেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও বাধার মুখে বিক্ষোভ মিছিলটি সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ থেকে শুরু হয়ে চেঙ্গী স্কোয়ার প্রদক্ষিণ করে স্বনির্ভর বাজারে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের সদর কলেজ শাখার সভাপতি তেতুসা ত্রিপুরা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের হিরো চাকমা, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্রপরিষদ (পিসিপি) খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক জেসিম চাকমা। এতে সভাপতিত্ব করেন আহ্বায়ক নয়ন চাকমা। সঞ্চালনা করেন স্বাগতম চাকমা।
এদিকে মহিলা কলেজ এলাকা থেকে একটি মিছিল মুক্তমঞ্চ অভিমুখে আসতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে য়ংড বৌদ্ধ বিহারের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রেশমী মারমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্রপরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কবির হোসেন, ত্রিপুরা ছাত্র-যুবফ্রন্টের প্রদীপ ত্রিপুরা। সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত ছাত্রসমাজের সদস্য সুদর্শী চাকমা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে সীমাহীন ঘুষবাণিজ্যের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভবিষ্যত সম্ভাবনা অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতি বিরাজ করলে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি ধ্বংস হয়ে যাবে।
সম্মিলিত ছাত্রসমাজ আহ্বায়ক নয়ন চাকমা বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদ ঘুষবাণিজ্যের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অদক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে একটি মেধাহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। মেধাবীরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জেলা পরিষদের সদস্যপদ পাওয়ার সাথে তারা রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যান, যা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।
তিনি সম্মিলিত ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে বিতর্কিত শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল না হলে জেলা পরিষদ ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
এছাড়া শিক্ষক নিয়োগসহ সকল অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোটের অব্যাহত কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য ছাত্রসমাজ, শিক্ষক-বুদ্ধিজীবীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে আহ্বান জানানো হয়।