খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসে ৩ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি
khagrachari-Ramgar-News-pic-01--(7)

জেলার রামগড় ও লক্ষ্মীছড়িতে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় তিন শিশু নিহত ও আরো ২ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পাহাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে আতংক দেখা দিয়েছে। রাতভর প্রবল বৃষ্টির কারণে জেলার রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের বুদংপাড়া গ্রামে রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাহাড় ধসে বাড়ির ওপর পড়লে দিনমজুর মো. মোস্তফা মিয়ার দুই ছেলে মাটি চাপা পড়ে। পরে প্রায় একঘণ্টা চেষ্টার পর স’ানীয়রা মাটি অপসারণ করে শিশু দুটির লাশ উদ্বার করে। সহোদর দুই শিশু হলো নুরনবী (১৪) ও নুর হোসেন (১০)। স’ানীয় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও যুব রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।
নিহতদের চাচা মো. শাহীন জানান, ভোর রাতে প্রবল বর্ষণের সময় বাড়ির পূর্ব পাশের পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে একই বিছানায় ঘুমন্ত অবস’ায় দুই সহোদরের মৃত্যু হয়। পাহাড় ধসের ঘটনায় নিহতদের বড় ভাই মো. বিল্লাল (১৬) আহত হয়।
রামগড় ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের দলনেতা এবি সিদ্দিক জানান, স’ানীয়দের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর বেলা ১০টায় তারা ঘটনাস’লে পৌঁছে। তখন লাশ উদ্ধার করে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে দুই সহোদরের নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম।
রামগড় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ভূইয়া ফরহাদ জানান, নিহতদের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা সাহায্য করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা জানান, উপজেলার যতীন্দ্র কারবারি পাড়ায় পাহাড় ধসে নিপন চাকমা (৭) নামের আরেক শিশু নিহত হয়। সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আরো ২ জন আহত হয়েছে বলে স’ানীয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা জানান। এর আগে গত মঙ্গলবার বর্মাছড়িতে পাহাড় ধসে একজনের মৃত্যু ঘটে।
এছাড়াও টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ছোট খাটো পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে। রামগড় উপজেলা পাতাছড়া ইউনিয়নে পাহাড় ধসে অন্তত ৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে মাটি চাপা পড়ে আছে।
প্রবল বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার লক্ষ্মীছড়ি ও গুইমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গুইমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি উঠেছে। জালিয়াপাড়া-সিন্ধুকছড়ি সড়কের বেইলি সেতুর ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় আপাতত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তলিয়ে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাড়িসহ রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় অর্ধশত পরিবার।
রামগড়ের ইউএনও আল মামুন মিয়া জানান, আমরা জরুরি ভিত্তিতে অন্যান্য এলাকায় যাতে ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়, সেজন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নিচ্ছি।
লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, পাহাড় ধসে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে জেলা সদর, মহালছড়ি, মানিকছড়ি ও রামগড়ে ৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। মাইকিং করে ও উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ বসতবাড়ি শনাক্ত করে তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৮০টির মতো পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছে। তাদের খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও নিরাপত্তার জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।