ট্রাফিক সপ্তাহে পাঁচ উপজেলায় নেই দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম

খাগড়াছড়িতে টোকেনে চলে লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় সিএনজি পরিবহনে সেবার নামে চলছে নৈরাজ্য। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার ও হয়রানি করা যেন চালকদের নিয়মে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও লাইসেন্স বিহীন অখ্যাত-কুখ্যাত ড্রাইভার দিয়ে চলছে এসব সিএনজি। সূত্রমতে, ৯০ শতাংশ গাড়িরই কোন কাগজপত্র নেই। অভিযোগ রয়েছে, স’ানীয় পুলিশ প্রশাসনকে মাসোহারা দিয়েই চলছে এর কার্যক্রম। সূত্রমতে, বর্তমানে খাগড়াছড়ির প্রায় সবকটি উপজেলাতেই সিএনজি মালিক-শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে পুরো জেলায় অন্তত দেড় থেকে দুই হাজার সিএনজি রয়েছে। এরমধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ৩শতাধিক সিএনজির। এছাড়াও চালকদের মধ্যে প্রায় ৯০ভাগই লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ। যার কারেণ পাহাড়ি আকাবাঁকা রাস্তায় প্রায়ই সিএনজি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। যাত্রীদের মতে, এর অন্যতম কারণ অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া গতিতে চলাচল। যাত্রীদের অভিযোগ, বছরে হিসেব করে ৩ থেকে ৪ বার ভাড়া বাড়ানো হয়। তাছাড়া বিভিন্ন উৎসবের নামে বে-হিসাবি চাঁদাবাজি তো আছেই। গত ৬মাস পূর্বে রামগড় থেকে বারইয়ারহাটের ভাড়া ছিলো ৬০টাকা যা বর্তমানে ৮০টাকায় রুপান্তরিত হয়েছে। রজব আলী, আমিনুল হক, গিয়াস উদ্দিন, আপ্রুসি মারমা’সহ বেশ কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিএনজি চালকরা যখন যেভাবে খুশি, সেভাবেই ভাড়া বাড়িয়ে নেয়। আর ঈদ, পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে এক প্রকার জোর করেই নির্ধারিত ভাড়ার চাইতেও দ্বিগুন ভাড়া আদায় করে। কিছু বলতে গেলে চালকদের দুর্ব্যবহার তো রয়েছেই। তবে যাত্রীদের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন একাধিক চালক। নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন সিএনজি চালক বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বাড়তি ভাড়া না নিয়ে কোন উপায় নেই, দৈনিক বিভিন্ন পৌরসভার টোল, সংগঠনের চাঁদা, কল্যান সংঘের চাঁদা এবং মাস শেষে থানা পুলিশকে মাসিক মোটা অংকের মাসোহারা, আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনকে বাৎসরিক চাঁদা দিয়েই আমাদের রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হতে হয়, তা না হলে পুলিশ কর্তৃক বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলা খেতে হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মালিক, চালক সমিতি, চালক কল্যাণ সমিতি, পৌর টোল এবং এক সমিতির গাড়ি অন্য সমিতির এরিয়ায় ভাড়া নিয়ে গেলে সেখানেও চাঁদা দিতে হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে গাড়ি ও চালকের লাইসেন্স না থাকায় কোন রকম হয়রানি বা মামলা না করার শর্তে খাগড়াছড়ির প্রতিটি থানার সাথেই সিএনজি চালকদের মাসিক একটা মাসোহারা ধার্য্য থাকে যা প্রতিটি চালককেই মাস শেষে সমিতির সভাপতি/সম্পাদকের মাধ্যমে গাড়ি প্রতি ৮শ টাকা হারে থানায় জন্য জমা দিতে হয়। রামগড়ে অটোরিক্সা সিএনজি, চালক সমবায় সমিতির পক্ষে সভাপতি, মো. শাহজাহান ও লাইন সেক্রেটারি মো. জয়নাল আবেদিন, গুইমারাতে সিএনজি চালক ও মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. ফোরকান সেক্রেটারি মো. ওহাব মিয়া এবং মানিকছড়ি চালক সমবায় সমিতির পক্ষে সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম এসব টাকা সংগ্রহ করে প্রতিটি থানায় পৌঁছে দেয়। এছাড়াও প্রতিদিন প্রত্যেকটি গাড়িকে সংগঠনের নামে ১০টাকা হারে প্রতি উপজেলায় চাঁদা দিতে হয় চালকদের। এদিকে গত ৫ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী চলমান ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষ্যে সারাদেশে অবৈধ পরিবহন ও চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান চললেও খাগড়াছড়িতে ট্রাফিক সপ্তাহের কোন কার্যক্রম দেখা যায়নি, (বিশেষ করে সিএনজি সেক্টরে)। এনিয়ে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গুইমারা, রামগড়, মাটিরাঙা ও মানিকছড়ি থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৩দিনে রামগড় থানায় ৯টি, গুইমারা থানায় ১০টি, মানিকছড়ি থানায় ১২টি এবং মাটিরাঙা থানায় ৪৩টি মামলা হয়েছে। তবে সিএনজি’র বিরুদ্ধে মানিকছড়ি থানায় ১টি, মাটিরাঙা থানায় ৭টি মামলা করা হলেও অদৃশ্য কারণে গুইমারা ও রামগড় থানায় লাইসেন্সবিহীন এসব সিএনজির বিরুদ্ধে কোন মামলা নেয়নি পুলিশ। পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে উঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. ফরহাদ জানান, রামগড় এবং গুইমারায় সব ধরনের যানবাহনের লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্র চেক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমাদের উদ্দেশ্য মামলা দেয়া নয় বরং নিরাপদ সড়ক ও নিরাপদ যানবাহন নিশ্চিত করা।