ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ইউপি ভবন শীঘ্রই মেরামত করা হবে : ফজলে করিম

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাউজান

প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাউজানের হলদিয়া, ডাবুয়া, চিকদাইর, রাউজান পৌর এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। ১৭ জুন সকাল থেকে রাউজান পৌর এলাকা, চিকদাইর ইউনিয়নের পাঠান পাড়া, ডাবুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ডাবুয়া, হলদিয়া ইউনিয়নের গর্জনিয়া, উত্তর সর্তা, উত্তর আইলীখীল এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, ব্রিজ, বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় চট্টগ্রাম চেম্বার অব কর্মাস ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি মাহাবুল আলম তালুকদার প্রদত্ত ২০ মেট্রিক টন চাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরন করা হয়। তাঁর সংগে ছিলেন রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহেসানুল হায়দার বাবুল, সড়ক ও জনপথ বিভাগের চট্টগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তেরর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ আলমগীর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসেন রেজা, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল উদ্দিন আহম্মদ, উপজেলা প্রকৌশলী কাজী আকতার হোসেন, পৌরসভার প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খান, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহাবুল আলম তালুকদারের দুই ভাই আলমগীর ও মোরশেদ, চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, আবদুর রহমান চৌধুরী, প্রিয়তোষ চৌধুরী, রাউজান পৌরসভার ২য় প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনকালে এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন শীঘ্রই মেরামত করা হবে। বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি নির্মাণ কাজে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হব্‌। েপ্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের স্রোতে সতী খালের ভাঙনে হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা ২শ ৬৪ বসতঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সর্তা খালের ভাঙনে হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর সর্তা উপেন্দ্র শীলের বাড়ি, এয়াসিননগর মাওলানা আবদুল হকের বাড়ি, উত্তর সর্তা কাজী পাড়ার নাজির বাড়ি, উত্তর সর্তা সিকদার বাড়ি, হলদিয়া বইজ্যার হাট, পুরাতন বইজ্যার হাট, দক্ষিণ ক্ষিরাম এলাকায় হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নিচের মাটি সরে গেছে। এতে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সর্তা খালের ভাঙনে হলদিয়া ভিলেজ রোড, হলদিয়া উত্তর সর্তা হজরত আলী হোসেন শাহ সড়ক (১) ও হজরত আলী হোসেন শাহ সড়ক (২), হলদিয়া বড়ুয়া পাড়া সড়ক, সিকদার বাড়ি সড়ক, মাইজপাড়া সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। সর্তা খালের ১৪টি স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় মানুষের বাড়িঘর, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, জনচলাচলের সড়কসমূহের ব্যাপক ক্ষতি হয়। নয়ন ও আবু তাহের নামে দুজনের মৃত্যু হয়। সরকার প্রদত্ত দুই মেট্রিক টন চাল ও ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়। নিহত নয়ন ও আবু তাহেরের স্বজনদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে সরকারের দেওয়া টাকা প্রদান করা হয়।
হলদিয়া ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার লোকজন জানান, সর্তা খালের ভাঙনে এলাকার মানুষের বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট, ইউপি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পশ্চিম ডাবুয়া গনীর ঘাট সড়ক, আকবর শাহ সড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সর্তা খাল ও ডাবুয়া খালের ভাঙনে চিকদাইর ইউনিয়নের পাঠান পাড়া, এলাকার শতাধিক পরিবারের বসতঘর পানিতে ডুবে বিধ্বস্ত হয়। চিকদাইর সাহেব বাড়ি সড়ক, তকির সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। সর্তা খাল, ডাবুয়া খাল, কলমপতি খাল, খাসখালী খাল, রাউজান খাল, মুকছড়ি খাল, মঙ্গলছড়ি খাল, বিটঢালা খাল, ভোমরঢালা খাল, হরনাথ ছড়া খাল, ফটিকছড়ি খাল, বেরলিয়া খালের ভাঙনে রাউজান পৌর এলাকার চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক, হাফেজ বজলুর রহমান সড়ক, শফিকুল ইসলাম চৌধুরী সড়ক, শহীদ জাফর সড়ক, দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরী সড়ক, নাগেশ্বর গার্ডেন সড়ক, দক্ষিণ হিংগলা কলমপতি সড়ক, অদুদ চৌধুরী সড়ক, রায়কিশোরী সড়ক, ডাবুয়া রাবার বাগান সড়ক, নন্দী পাড়া সড়ক, জগৎ ধর সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।