ক্রোয়েশিয়ার নতুন ইতিহাস

দেবজ্যোতি চক্রবর্তী

১৯৯৮ সালে ডেভর সুকার-বোবান-প্রসিনেস্কিরা যেটি করতে পারেনি সেটাই করে দেখিয়েছে মডরিচ-মানজুকিচরা। সেই সাথে ২০ বছরের আক্ষেপ ঘুচেছে ক্রোয়েশিয়ার। বেলজিয়াম না পারলেও ক্রোয়াটদের ‘সোনালী প্রজন্ম’ ঠিকই নিশ্চিত করেছে ফাইনাল।
আর ফুটবলের জনক ইংল্যান্ডকে ২৮ বছর পর সেমিফাইনালে উঠেও বিদায় নিতে হয়েছে। সেই সাথে শিরোপা জয়ের ৫২ বছরের আক্ষেপের সাথে যোগ হয়েছে আরো চার বছর।
লুঝনিকিতে গতকাল খেলার শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল ইংল্যান্ড। ডি-বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এ ফ্রি-কিকে ৫ মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন ট্রিপিয়ার। তার এ গোল ক্রোয়েশিয়ার মনোবলে কিছুটা আঘাত করে। এরপর ৩০ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট করে হ্যারি কেন। তার শট সুবাসিচ না রুখলে প্রথমার্ধের আগে ব্যবধান দ্বিগুণ হতো ইংলিশদের।
প্রথমার্ধে ৩-৫-২ ফরমেশনে খেলা ইংলিশরা দ্বিতীয়ার্ধ থেকে হঠাৎ পাল্টে ফেলে খেলার ধরন। কোচ সাউথগেট রক্ষণের দায়িত্ব আরো দুই মিডফিল্ডারকে দিয়ে রাখেন। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ক্রোয়েশিয়া আক্রমণের পরিকল্পনা করতে চাইলেই পাঁচ জনের রক্ষণ নিয়ে ব্যূহ রচনা করে বসে ইংলিশরা। কিন’ তাতে লাভ হয়েছে কই? বরং এর খেসারত দিতে হয়েছে। আক্রমণে না গিয়ে রক্ষণ রক্ষার চিন্তা তাদের কাল হয়ে দাঁড়ায়। ৬৮ মিনিটে ভারসালকোর গঃ ডানপ্রান্ত থেকে উড়ে আসলে পেরিসিচ সামনে দৌড়ে গিয়ে আলতো করে পা ছোঁয়ান আর বল পিকফোর্ডকে ফাঁকি দিয়ে জালে চলে যায়। ক্রোয়েশিয়াও সমতায় ফেরে।
বলতে গেলে এরপর দুই দল যা খেলেছে তা ছিল এক কথায় স্নায়ুক্ষয়ী। একের পর এক গোলের প্রচেষ্টায় মেতে ছিল তারা। কোনোভাবে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছিলো না।
চার মিনিট পর তো ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ করেই ফেলেছিলেন
পেরিসিচ। কিন’ ভাগ্য সাথে ছিল না তার। তা নাহলে বামপ্রান্ত থেকে তার ক্রস গোলপোস্টে লেগে ফেরত আসে!
নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত সময়ে যখন খেলা গড়ায় তখনো এগিয়ে যাওয়ার জন্য লড়তে থাকে দু’দল। কিন’ শেষ পর্যন্ত হাসিটা হেসেছে ক্রোয়াটরা। ১০৯ মিনিটে মানজুকিচের শট পিকফোর্ডের পাশ ঘেঁষে জালে জড়ালে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। এরপর অনেক চেষ্টা করেও সমতায় ফিরতে পারেনি ইংল্যান্ড। শেষ মুহূর্তে একটি ফ্রি-কিক পেয়ে কিছু আশা জাগালেও কাজ হয়নি, শট নেয়ার পরপরই রেফারির বাঁশি ক্রোয়েশিয়ার হাসিটা আরো চওড়া করে। আর হতাশ ইংলিশ খেলোয়াড়রা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
এদিকে লুঝনিকি থেকে আর ফিরতে হচ্ছে না ক্রোয়েশিয়াকে। আগামী ১৫ জুলাই এই মাঠেই ফাইনালে ফ্রান্সের সাথে লড়বে দালিচের শিষ্যরা। এ ম্যাচ জিততে পারলে ইতিহাস গড়ার পাশাপাশি একটা ৬ কেজি ওজনের সোনালী ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন ক্রোয়েশিয়ার সোনালী প্রজন্মের মডরিচ-রাকিটিচ-মানজুকিচরা। আর ইংলিশদের ভাঙা হৃদয় নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে ১৩ তারিখ রাত পর্যন্ত, যদি বেলজিয়ামকে হারিয়ে তৃতীয় স’ানের সান্ত্বনাটুকু হলেও পাওয়া যায়।