রকমারি ছোট মাছ আহরণের ভরা মৌসুম

ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁক-ডাকে জমজমাট আনোয়ারা উপকূল

সুমন শাহ, আনোয়ারা

শীতকাল এলে আনোয়ারা উপকূলে চলে ছোটমাছ আহরণ ও তার জমজমাট কেনাবেচা। স’ানীয় সূত্র জানায়, আনোয়ারা উপকূলে এখন চলছে ছোটমাছ আহরণের ভরা মৌসুম। এ কাজে উপকূলের অন্তত পাঁচশ নৌকা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জেলেরা। সমুদ্র থেকে মাছ আহরণের পরপরই উপকূলে নিয়ে আসার কারণে ভোক্তারা পচ্ছেন বিভিন্ন জাতের তরতাজা ছোটমাছ। ভোক্তাদের কাছে এসব মাছের চাহিদা ব্যাপক হওয়ায় জেলেরাও লাভবান হচ্ছেন। জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইলিশ মাছের মৌসুম শেষ হওয়ার পর উপকূলে শুরু হয় ছোটমাছ আহরণের মৌসুম। বিশেষ করে,শীতকালের শুরুতে জেলেরা ওই মাছ ধরা শুরু করেন। নৌকা, জাল আর শ্রমিক নিয়ে অপেক্ষাকৃত অল্প পুঁজিতে জেলেরা মাছধরা ও বিক্রি করেন। জেলেরা জানান, সাগরে নৌকা নিয়ে মাছের জাল ফেলে মাছ ধরেন এক দল। ওই মাছ দিনে একবার কিংবা দুবার উপকূলে নিয়ে আসেন জেলেদের আরেকটি দল। আর উপকূলে এনে বিক্রি করেন তাঁরা। এতে করে মাছগুলো তরতাজা থাকে। মাছধরার কাজ আর আনা-নেওয়ার কাজে নিয়োজিত নৌকাগুলোতে তিন থেকে পাঁচজন জেলে থাকেন। স’ানীয়রা জানায়, আনোয়ারা উপকূলে অন্তত পাঁচশ নৌকা দিয়ে মাছ আহরণের কাজ করেন জেলেরা।
মাছগুলো উপকূলে আনার পর টুকরি (এক ধরনের মাছ রাখার পাত্র) হিসেবেই বিক্রি করা হয়। একেক টুকরিতে ৩০-৩৫ কেজি মাছ থাকে আর বিক্রি হয় দেড় থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। অধিকাংশ মাছই হলো লটিয়া, চিংড়ি, ছুরি আর বিভিন্ন জাতের ছোটমাছ।
গত বুধবার বিকেলে উপকূলের রায়পুর ইউনিয়নের দোভাষী বাজার এলাকা সংলগ্ন সৈকতে দেখা যায়, সাগর থেকে একের পর এক মাছ বোঝাই নৌকা উপকূলে ভিড়ছে আর ক্রেতারা পানিতে নেমে দরদাম করছেন। আবার নৌকা থেকে ঠেলাগাড়ি করে মাছ বালিয়াড়িতে তুলে আনার পর কেউ কেউ দাম হাঁকছেন। স’ানীয় বাসিন্দা কোরবান আলী বলেন, পুরো উপকূলের জেলেরা মাছ কেনাবেচার জন্য দোভাষী বাজার এলাকাই বেছে নেন। এখানেই পাইকারি ও খুচরো ব্যবসায়ীরা মাছ কেনেন জেলেদের কাছ থেকে।
খুচরা ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম বলেন, আমি দুই টুকরি মাছ কিনলাম তিন হাজার টাকায়। এখানে কয়েক জাতের মাছ আছে। এগুলো বাজারে বিক্রি করলে অন্তত এক হাজার টাকা লাভ পাবো। স’ানীয় বহদ্দার (নৌকার মালিক ও ব্যবসায়ী) শহীদুল ইসলাম বলেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এ ব্যবসা শুরু হয়। চলবে তিন মাসের মত। জানতে চাইলে আনোয়ারা মৎস্য কর্মকর্তা সৈয় হুমায়ূন মোরশেদ বলেন,ডিসেম্বর থেকে ছোটমাছ আহরণ শুরু হয়েছে। চলবে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত।