ক্রীড়াঙ্গনের ভাবমূর্তি ড়্গুণ্ন হচ্ছে সকল দুষ্কর্মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ চাই

সম্পাদকীয়

সম্প্রতি রাজধানী ও বিভাগীয়- জেলা পর্যায়ের কিছু ক্রীড়া ক্লাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দেশের নির্মল ক্রীড়া ও সংস্কৃতিচর্চার বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দেশের নামকরা ক্লাবগুলোতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতিচর্চার পরিবর্তে তাস খেলার নামে জুয়া ক্যাসিনো ও নানা অনাচারের যে সব কাহিনী সংবাদপত্রে আসছে তাতে দেশবাসী ও তরম্নণ সমাজ  ড়্গোভ ও হতাশা ব্যক্ত করছে।  দেশের নামকরা ক্রীড়া ক্লাবগুলিকে যারা জুয়া, ক্যাসিনো ও অপকর্মের আখড়ায় পরিণত করেছে তাদের এবং দুষ্কর্মের হোতাদের সাথে সরকারি ও প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ ও তাদের মদদের স্বরূপও উদঘাটিত হচ্ছে।

অবৈধ ও অনৈতিক কর্মকা- চাপা দিতে ওপর মহলের ও প্রশাসনের নানা লোকজনকে ম্যানেজ করার কাহিনী আটককৃতদের দেওযা তথ্য থেকে এখন জানা যাচ্ছে। দেশ থেকে অবৈধ-অনৈতিক কর্মকা- বন্ধ, সমাজের নানা অসংগতি দূর করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর অবস’ান ব্যক্ত করায় দেশবাসীর মনে স্বসিত্ম বিরাজ করছে। দেশবাসী চায় রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজকে যারা দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে কলুষিত করছে, তাদের বিরম্নদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকুক। যাদের ছত্রছায়ায় দুর্বৃত্তরা সাহসী ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, অনৈতিক কর্মকা-, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নারী ও শিশু নির্যাতনে লিপ্ত হয়ে সমাজকে সর্বনাশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, সেইসব অপরাধীদের কঠোরতম শাসিত্মই প্রাপ্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্য, ‘গডফাদার গ্র্যান্ডফাদার নয়, অপরাধী হলে কোন ছাড় নয়’-এই বক্তব্য আশার সঞ্চার করেছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী যদি সর্বাংশে অপরাধীদের বিরম্নদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখে তা হবে দেশের জন্য মঙ্গলজনক। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মাদক, অনিয়ম ও দুর্নীতির দুষ্টচক্র না ভাঙা পর্যনত্ম অভিযান চলবে। তবে অনৈতিক, বেআইনি ও অপরাধমূলক কর্মকা- যা সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রসর হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে তা বন্ধে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বিলম্বিত পদড়্গেপের কারণে মানুষের মনে নানা প্রশ্নও আছে।

দেশের ক্রীড়া ক্লাবগুলোর একদা যে ইতিহাস-ঐতিহ্য ছিলো, যে সব ক্লাবগুলো হাজার হাজার সমর্থক, ক্রীড়ামোদী তরম্নণ কিশোরের উদ্দীপনা যুগিয়েছে সেই সব ক্লাবগুলোকে জুয়া, ক্যাসিনোর আড্ডা বানালো যারা, তাদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া চলবে না। প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানগুলির পরিচালনা বোর্ড ভেঙে দিয়ে সত্যিকারের ক্রীড়মোদী ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবী ও এলাকার সৎ, পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে পুনর্গঠন করা হোক। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে স’বিরতা নেমে আসুক আমরা তা চাই না, বরং যুব সমাজকে হতাশা, মাদকাসক্তি ও অপরাধ থেকে মুক্ত করে নির্মল বিনোদন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার সকল আয়োজন বিকশিত করা হোক।

রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের অবসান হোক, যাদের বিরম্নদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ আছে তাদের প্রতি দল কঠোর ব্যবস’া নেবে বলে আমরা আশা করি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান সত্ত্বেও চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদকাসক্তি ধর্ষণের মতো নারকীয় কর্মকা-ের সংবাদ গণমাধ্যমে আসছে।  নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরম্নদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। জনমনে স্বসিত্ম ফিরিয়ে আনতে, সামাজিক সি’তিশীলতা ও শানিত্ম বজায় রাখতে অপরাধীদের শাসিত্ম বিধান করাই সরকারের আশু কর্তব্য।