‘ক্রাইম পেট্রল’ সিরিয়ালের প্রভাবে খুন হলেন ভাবী!

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘ক্রাইম পেট্রল’। এটি ভারতের জনপ্রিয় টিভি শো। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নানা অপরাধচিত্র এতে দেখানো হয়। বাংলাদেশ এ শো’র দর্শক প্রচুর। এতে দেখানো হয়, খুন করে একজন ‘খুনি’ কীভাবে ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করে।
ফরহাদ হোসেন লিমন তেমনই একজন। কিন’ তার চেষ্টা বুমেরাং হয়ে গেছে। আপন ভাবীকে খুন করে বাসায় ‘লুটপাটের’ গল্প সাজানোর চেষ্টা করলেও শেষমেশ তাকে পুলিশের হাতকড়া পরতেই হলো।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে নগরের আকবর শাহ থানার কালিহাট এলাকার ইদ্রিস সওদাগরের বাড়িতে। টাকা চেয়ে না পেয়ে ভাবী হাসিনা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ফরহাদ। ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে ভাবীকে খুন করার পরিকল্পনা ফরহাদের মাথায় আসে। একই ভবনে পৃথক বাসায় বসবাস করলেও টিভি দেখার ভান করে হাসিনার কক্ষে ঢোকে ফরহাদ। এক পর্যায়ে হাসিনা ঘুমিয়ে পড়লে তাকে গলাটিপে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে ভাবীর গলা, কান ও হাতে থাকা স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে লাশ অন্য একটি কক্ষে রেখে তালা মেরে পালিয়ে যায় ফরহাদ। পাঁচদিনের রিমান্ডে থাকা আসামি ফরহাদ প্রথম দিনেই পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে অকপটে ভাবীকে খুনের বর্ণনা দেয়।
খুনের চাঞ্চল্যকর এ তথ্য গণমাধ্যমকর্মীদের জানাতে গতকাল বেলা ১১টায় দামপাড়ার সিএমপি সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে নগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
রিমান্ডে লিমন পুলিশকে জানিয়েছে, তার বড়ভাই থাকেন সৌদি আরবে। প্রায় সময় টাকা চেয়ে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ভাবীকে গলা টিপে হত্যা করে সে। হত্যার পরিকল্পনাটি মাথায় আসে ‘ক্রাইম পেট্রল’ থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে সিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম জানান, আকবর শাহ থানার কালিহাট এলাকার ইদ্রিস সওদাগরের মালিকানাধীন বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক হাসিনা বেগম। তার একমাত্র ছেলে আবির হোসেন (১২)। আবির নগরের একটি মাদ্রাসার হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করছে। ভাবীর কাছে টাকা চেয়ে না পাওয়ায় তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল লিমন। ঘটনার দিন গত ৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গার্মেন্টস থেকে বাসায় ফিরে রান্নাঘরে পানি গরম করতে যান হাসিনা। এ সময় টিভি দেখার কথা বলে তার রুমে ঢোকে ফরহাদ। পানি গরম করে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়লে ঘুমন্ত অবস’ায় হাসিনা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ফরহাদ। হত্যার পর তার শরীর থেকে স্বর্ণালংকার, মোবাইল হস্তগত করে। এরপর ভাবীর মরদেহ অন্য একটি কক্ষে রেখে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন সকালে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে আবির। এসময় কয়েকজন প্রতিবেশী কক্ষটি খুলে বিছানায় হাসিনার লাশ পড়ে থাকতে দেখে। তার পরনের কাপড়-চোপড়ও ছিল এলোমেলো অবস’ায়। ঘরের আসবাবপত্র ছিল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। স’ানীয়রা খবর দিলে পুলিশ এসে হাসিনার লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় দেবর ফরহাদের বিরুদ্ধে ভিকটিম হাসিনা বেগমের ভাই মানিক আকবর শাহ থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতে আছে ফরহাদ।