শিক্ষার্থী ২ হাজার ৭শ

কোলাহলমুখর চট্টগ্রাম শিশু একাডেমি

আজিজুল কদির

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। যার উদ্দেশ্য শিশুর শারীরিক, মানসিক, সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করা। বর্তমানে সারা দেশে একাডেমির ৭০টি শাখা রয়েছে। তার মধ্যে ঢাকার পরে চট্টগ্রাম শিশু একাডেমি কার্যক্রম বেশ প্রশংসিত। বর্তমানে এখানে মেধা-মননচর্চায় রয়েছে ১২ কোর্সে ২ হাজার সাত শ শিক্ষার্থী।
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই শিশু। ওদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামে শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮১ সালে। শুরুতে সংগঠনটির শিক্ষার্থী ছিল ৮৯ জন। আর প্রশিক্ষণের কোর্স ছিল মাত্র পাঁচটি। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৭শ আর কোর্সের সংখ্যা ১২টি। শিশুর সুষ্ঠু সাংস্কৃতিক ও মানসিক বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে শিশু একাডেমি। ৩৮ বছরে চট্টগ্রাম শিশু একাডেমি জাতীয় পর্যায়ে শিশুদের নিয়ে সুনাম অর্জনের পাশাপাশি প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল শিশু একাডেমির স্বীকৃতি লাভ করেছে। একাডেমিতে প্রতি বছর ৩৫টি জাতীয় দিবস উদযাপনের লক্ষে প্রতিযোগিতা ও বহুমাত্রিক অনুষ্ঠান করা হয়। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে দুটি বড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, এতে পাঁচ হাজারের অধিক শিশু অংশগ্রহণ করে থাকে।
চট্টগ্রাম শিশু একাডেমি মূলফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই রয়েছে দুটো ভাস্কর্য। প্রথমটি নৃত্যভঙ্গিমায় কিশোরীর ভাস্কর্য ‘বাধনহারা’, অন্যটি ক্রিকেটব্যাট হাতে দুরন্ত কিশোরের ভাস্কর্য ‘কৈশোর’। ভাস্কর্যগুলোর পাশে প্রীতিলতা হলে রয়েছে ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্স (এনসিটি)-এর অফিস। এটি শিশু অধিকার আদায়ের সংগঠন, যারা শিশু অধিকতার নিশ্চিত ও পুনর্বাসনের ব্যবস’া করে। সেভ দ্যা চিলড্রেন ও লাইভ প্লানের সহযোগিতায় সংগঠনটির কাজ পরিচালিত হয়। প্রাঙ্গণের পশ্চিম পাশে ‘মুক্তমঞ্চ’। সেখানে শিশুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়। শিশু একাডেমির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শিশু লাইব্রেরি, মাঠের পুবপাশে একটি পুরনো ভবন। যেটিতে ১৯৮১ সালে মাত্র ৮৯ জন শিশু নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল চট্টগ্রাম শিশু একাডেমি।
বর্তমানে চালু কোর্সগুলো হলো সংগীত, নৃত্য, চিত্রাংকন, অভিনয়, আবৃত্তি, সংগীত যন্ত্রের ব্যবহার, কম্পিউটার, দাবা, সুন্দর হাতের লেখা। এখানে ৫ থেকে ১৫ বছরের শিশুরা প্রশিক্ষণ নিতে পারে। প্রতিটি কোর্সের মেয়াদ ৩ থেকে ৪ বছর। কোর্স শেষে সবাইকে সনদ প্রদান করা হয়। সপ্তাহের পাঁচদিন ক্লাস হয়। তার মধ্যে শিশুদের বিভিন্ন দলে ভাগ করে সপ্তাহে দুইদিন ক্লাস করানো হয়। বিকেলবেলা এই ক্লাস কার্যক্রম চলে। ৩০ জন প্রশিক্ষকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হয়। একাডেমির অধীনে আরো দুটো প্রতিষ্ঠান রয়েছে নগরীতে। সেগুলো হলো হামজারবাগের শিশুবিকাশ কেন্দ্র, অন্যটি পাহাড়তলীতে প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিশুবিকাশ কেন্দ্রে দরিদ্র ও এতিম শিশুদের জন্য ১০০ আসন রয়েছে। তাদের থাকা-খাওয়া, পড়াশোনাসহ যাবতীয় কাজ শিশু একাডেমি থেকে পরিচালিত হয়, যেটি যাত্রা শুরু করে ২০১২ সাল থেকে। চাহিদা ও অর্জনের দিক বিবেচনা করে এবছর আরো ৫০টি আসন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান কর্তৃপক্ষ। আর প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬০ জন দুস’শিশুর জন্য রয়েছে শিশু শ্রেণিতে পড়ার ব্যবস’া।
শিশু একাডেমি প্রতিটি জাতীয় দিবসে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এছাড়াও তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে দুটি বড় প্রতিযোগিতা হয়। প্রতি আগস্ট মাসে শুরু হয় মৌসুমি প্রতিযোগিতা। এটি দলভিত্তিক কার্যক্রম। অংশগ্রহণকারী চারজন করে এক-একটি দলে ভাগ হয়ে যায়। দলীয় উপসি’ত বিতর্ক, জ্ঞানবিকাশ ও বিজ্ঞাসা, দলীয় নৃত্য ও সংগীতে প্রতি বছর ৩ হাজারের অধিক শিশু চট্টগ্রাম থেকে অংশগ্রহণ করে।
জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা নারগীস সুলতানা বলেন, একটি শিশুর সঠিক বিকাশের জন্য পড়াশোনায় অতিরিক্ত চাপ দেয়া উচিত নয়। তাদের জন্য একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চা জরুরি। সেই প্রয়োজনের তাগিদেই শিশু একাডেমি প্েরতিষ্ঠা। ভবিষ্যতে পটিয়া ও হালিশহরে দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করার প্রস্তাবনা রয়েছে বলে জানান একাডেমির শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা নারগীস সুলতানা।
তিনি একটা নিজস্ব পরিবহনের দাবি জানিয়ে বলেন, আমাদের নিজস্ব পরিবহন খুবই জরুরি। মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অনেকদিন ধরে গাড়ি দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা বরাদ্দ হয়নি। এছাড়া ক্লাস রুমের অনেক সংকট। সেজন্য ভবনটি দশতলা করার বিষয়টি অনুমোদনের পথে। ভবন সম্প্রসারিত হলে চট্টগ্রামের অনেক শিশুস’ান পাবে এখানে। আমাদের শিশুরা প্রতিবছরই জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার ছিনিয়ে আনছে। আর চট্টগ্রাম শিশু একাডেমি বাংলাদেশের একমাত্র ডিজিটাল পূর্ণাঙ্গ শিশু একাডেমি।