কোরবানিকে সামনে রেখে গরুর বাজার জমজমাট

স্থানীয় পাহাড়ি গরুতে ক্রেতাদের আগ্রহ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ফটিকছড়ি

কোরবানিকে সামনে রেখে ফটিকছড়ির ৪৭টি হাট বাজারে পশুর হাট এখন জমজমাট । প্রচুর গরু বাজারে, স’ানীয় গরুতে চাহিদা বেশি ক্রেতাদের। তবে এসব বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কঠোর ব্যবস’া গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে দাম নিয়ে হতাশ ক্রেতারা। বিক্রেতারা মনে করছেন শেষ মূহুর্তে বাজার সি’তিশীল হয়ে উঠতে পারে। চড়া দামের কারনে অনেকে ক্রেতার গরু পছন্দ হলেও এখনো কিনছেন না। গত বৃহস্পতিবার হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রচুর গরু উঠেছে। তবে ক্রেতাও কম নয়। কিন’ বেচাবিক্রি হচ্ছে কম। ক্রেতারা মনে করছে সামনে আরো কয়েকদিন সময় আছে। ধীরে সুসে’ দেখেশূনে কিনবেন। শেষ সময়ে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এমনটাই ধারনা বিক্রেতাদের। অপরদিকে ক্রেতারা মনে করছেন যেহেতু বাজারে এবার রেকর্ড পরিমাণ গরু ছাগল বেশি আমদানি হয়েছে, সেই হিসেবে শেষের দিকে বাজারমূল্য কমে যাবে। ফটিকছড়ির স’ায়ী গরুর বাজারের মধ্যে অন্যতম বিবিরহাট বাজার, হেঁয়াকো বাজার, নাজিরহাট বাজার, কাজিরহাট বাজার, আজাদী বাজার, নানুপুর বাজার, নারায়ণহাট, তকিরহাট, আব্দুল্লাহপুর জামতল । এছাড়া অস’ায়ী বাজারগুলো হচ্ছে, ফকিরহাট বাজার, চাড়ালিয়া হাট, শান্তিরহাট বাজার, ছিকনছড়া বাজার, বালুটিলা, পেলাগাজীর দিঘী, দক্ষিণ ধর্মপুর মোশারফ আলী সওদাগরের ঘাটা, শ্যামলা হাট, রমজু মুন্সির হাট, ধর্মপুরের আমতল, বোর্ডস্কুল, ডাইনজুরী, দলিল মুন্সির হাট, চৌমুহনী বাজার, শান্তিরহাট, বর্মাছড়ি বাজার, কাঞ্চনপুর বাজার । বেপারিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফটিকছড়ির গরুর বাজারগুলোতে রংপুর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, যশোর, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ এলাকা থেকে মাঝারি ও ছোট সাইজের গরু এসেছে। ছোট-বড় গরুর পাশাপশি বাজারে এসেছে প্রচুর ছাগল। ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকায় এসব ছাগল বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন বেপারিরা। হেঁয়াকো বাজারে এক ক্রেতা ইসমাইল জানান, এবার দেশীয় পাহাড়ি গরু ক্রয় করবেন। হেঁয়াকো বাজার ইজারাদার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রাসেল মজুমদার জানান, বাজারে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও বিক্রেতারা বেশি দাম ধরে থাকায় তেমন বেশি গরু বিক্রি হয়নি । নাজিরহাটের আনোয়ার হোসেন ফরিদ বলেন, এখনো গতবারের চেয়ে বাজারে গরুর দাম বেশি ধরে আছেন বেপারিরা। আশা করি শেষের দিকে তা কিছুটা কমে আসবে। ভুজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ বায়েছ আলম বলেন, ফটিকছড়ির প্রত্যেকটি বাজারে সপ্তাহে দুদিন হাট বসে।

এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি বাজারে পুলিশ থাকবে। সার্বিক পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় বলেন, ফটিকছড়ি উপজেলার প্রত্যেকটি বাজারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং টিম থাকবে। কোন ধরনের জাল টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রেও ব্যাংক কতৃপক্ষকে মেশিন বসানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজার ছাড়া কোন রাস্তাঘাটে যেন গরুর হাট বসতে না পারে সে ব্যাপারেও কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।