খান জাহান আলীর নুর মোহাম্মদকে অব্যাহতি, পুনঃতদন্তে র‌্যাব

কোকেন পাচার মামলার অভিযোগপত্র প্রত্যাখ্যান

আদালত প্রতিবেদক

এজাহারে ও তদন্তকালে আদালতে এক আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিতে খান জাহান আলী লিমিটেডের মালিক নুর মোহাম্মদের সম্পৃক্ততা থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। এরপরও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার কামরুজ্জামান তাকে অব্যাহতি দিয়ে গত ১১ নভেম্বর আদালতে দাখিল করেছেন আলোচিত কোকেন মামলার অভিযোগপত্র। নুর মোহাম্মদকে অব্যাহতি দেওয়ার যৌক্তিক কারণ অভিযোগপত্রে ব্যাখ্যা করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। ফলে আলোচিত এ মামলায় নগর পুলিশের দায়ের করা অভিযোগপত্রটি প্রত্যাখ্যান করে র্যা বকে পুনঃতদন্তের আদেশ দিয়েছে আদালত।
গতকাল সোমবার মহানগর হাকিম রহমত আলী এ আদেশ দেন।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, তদন্ত শেষে দাখিল করা অভিযোগপত্রে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদকে বাদ দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তাই ওই অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নে শুনানি শেষে আদালত পুনঃতদন্তের আদেশ দিয়েছেন র্যা বকে। আদালত আদেশে র্যা বের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মর্যাদার কর্মকর্তাকে দিয়ে পুনঃতদন্তের কথা বলেছেন।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (উত্তর) মো. কামরুজ্জামানের আদালতে দাখিল করা অভিযোপত্রে অভিযুক্তরা হলেন, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী লিমিটেডের মালিকানাধীন প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস’াপক গোলাম মোস্তফা সোহেল, কসকো শিপিং লাইনের ম্যানেজার একে আজাদ, গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদি আলম, সিএন্ডএফ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এবং আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক বকুল মিয়া ও ফজলু মিয়া। এদের মধ্যে সাইফুল ১৮ নভেম্বর জামিন পেয়েছেন। দেশের বাইরে থাকায় বকুল ও ফজলুকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। বাকিরা গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।
গত ৬ জুন রাতে নগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তরল কোকেন সন্দেহে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কনটেইনার সিলগালা করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
৮ জুন এটি খুলে প্রাথমিক পরীক্ষায় ১০৭টি ড্রামের একটিতেও কোকেন পাওয়া যায়নি। পরে ২৭ জুন ঢাকার দুই ল্যাবে ৯৬ নম্বর ড্রামে কোকেনের অসি’ত্ব পায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। আদালতের নির্দেশে পুনঃপরীক্ষা করে গত ৭ সেপ্টেম্বর ৫৯ নম্বর ড্রামেও কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়ার কথা জানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এর মধ্য দিয়ে ১০৭ ড্রাম তেলের মধ্যে দুটিতে তরল কোকেনের অস্তিত্ব মেলে।
ইতিমধ্যে ২৮ জুন আদালতের নির্দেশে নগরীর বন্দর থানার এসআই ওসমান গনি বাদি হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ এর ১(খ) ধারায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ ও সোহেলকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আলোচিত এ মামলায় একে একে ছয়জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ছয় আসামিকে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা।
এর মধ্যে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার তিন আসামি। তারা হলেন, খান জাহান আলী লিমিটেডের মালিকানাধীন প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস’াপক গোলাম মোস্তফা সোহেল, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদি আলম ও আবাসন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা সোহেল।
গ্রেফতার হওয়া আসামিরা জানিয়েছিলেন ভারতের রাজু, ব্রিটেনের বকুল মিয়াসহ সাতজন ব্যক্তি যোগাযোগ করে বলিভিয়া থেকে একটি ট্রাকযোগে কোকেনের চালান নিয়ে যায় উরুগুয়েতে। উরুগুয়ের মন্টিভিডিও বন্দর থেকে এসব কোকেন তোলা হয় এমভি কসকো-চায়না ০৬৪ ই জাহাজে। পরে গত ২১ মে সিঙ্গাপুরে এসে জাহাজ বদল হয়। সেখান থেকে এ চালান বাংলাদেশে নিয়ে আসে কসকো শিপিংয়ের অপর জাহাজ এম ভি থ্রস ট্রিম ভি-০৬৭। চট্টগ্রাম বন্দরে এ কনটেইনার আসার পর গ্রেফতার হওয়া গোলাম মোস্তফা সোহেল, এ কে আজাদ, আতিকুর রহমান, মেহেদি আলম, সিএন্ডএফ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মোস্তফা কামাল মিলে কোকেনের চালানটি বাংলাদেশে তা খালাসের চেষ্টা করেন।
গত ১৯ নভেম্বর মোট আটজনকে অভিযুক্ত করে আলোচিত এই মামলায় মোট ৫৮ জনকে সাক্ষী করে অভিযোগ পত্র দাখিল করে পুলিশ। এজাহারে ও আসামির স্বীকারোক্তিতে কোকেন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী লিমিটেডের মালিকের নাম থাকলেও নগর গোয়েন্দা পুলিশের দায়ের করা ১০ পৃষ্ঠার এই অভিযোগপত্রে তাকে অভিযুক্ত করা হয়নি। ফলে গতকাল আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় তদন্তের আদেশ দিয়েছে র্যা বকে।

আপনার মন্তব্য লিখুন