ম্যাচিং ফান্ড ছাড়াই একনেকে পাস হলো চসিকের ১২৩০ কোটি টাকার প্রকল্প

কুলগাঁওয়ে হবে বাস ও ট্রাক টার্মিনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে যোগাযোগ ব্যবস’ার উন্নয়ন, যানজট নিরসন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতিকরণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) গৃহীত এ যাবত কালের সর্ববৃহৎ একটি প্রকল্প ‘জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি’র (একনেক) সভায় পাস হয়েছে। ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং বাস/ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি জিরো ম্যাচিং ফান্ডে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত চলতি অর্থ বছরের (২০১৮-১৯) দশম একনেক সভায় অনুমোদন করেন সভার সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ম্যাচিং ফান্ড চসিককে বহন করার শর্ত থাকলেও একনেকে শতভাগ সরকারি অর্থায়নের জন্য মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি শতভাগ সরকারি সহায়তায় বাস্তবায়নের অনুমোদন দেন। সভায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন অংশগ্রহণ করেন। প্রকল্পটি এর আগে গত ৪ জুন প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় অনুমোদন হয়।
জানা যায়, এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২২৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। প্রকল্পটি গত জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় অক্সিজেন কুলগাঁও এলাকায় বাসযাত্রী মহিলা ও পুরুষদের জন্য এবং বাস-ট্রাক চালক ও শ্রমিকদের জন্য পৃথক বাথরুম, ওয়াশরুম ও চেঞ্জিং রুম করা হবে। এ প্রকল্পে টেকসই রাস্তা নির্মাণের লক্ষ্যে ৫২ মিলিমিটার পুরু কার্পেটিং করা হবে। আর টার্মিনাল নির্মাণের ফলে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং কমে যাবে। এতে শহর থেকে যানজট দূর হবে। চসিক গৃহীত অতীতের
সবগুলো প্রকল্প থেকে এটিই সর্ববৃহৎ প্রকল্প।
প্রকল্পটি একনেকে জিরো ম্যাচিং ফান্ডে পাস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের ভার নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। তিনি তার ওয়াদা পূরণে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে চট্টগ্রামকে নিজের মত সাজিয়ে তুলছেন।’
প্রকল্প বাস্তবায়নের পর সুফল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং যানজটের কারণে রাস্তার সুফল মানুষ পাচ্ছে না। রাস্তাও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কুলগাঁওয়ে ৩০০ গাড়ি ধারণ সম্পন্ন একটি বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এর সুফল নগরবাসী পাবেন।’