কুমিল্লার মামলায় খালেদার ৬ মাসের জামিন ‘বহাল’

সুপ্রভাত ডেস্ক

কুমিল্লায় পেট্রোল বোমা মেরে আট বাসযাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালেদা জিয়াকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বাতিলে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন আপিল বিভাগের সাড়া পায়নি। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ গতকাল রোববার ‘নো অর্ডার’ দিয়েছে। খবর বিডিনিউজের।

ফলে খালেদা জিয়াকে হাই কোর্টের দেওয়া ছয় মাসের জামিন আদেশই বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী এ কে এম এহসানুর রহমান।
গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, মওদুদ আহমদ ও জয়নুল আবেদীন।
বিএনপির টানা অবরোধ-হরতালের মধ্যে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় একটি নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলায় আট যাত্রীর মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে হত্যা ও বিস্ফোরক মামলা করে পুলিশ।পরে পুলিশের আবেদনে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় রূপান্তর করা হয়।
এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ওই মামলায় তিনি জামিন পেলেও আরও কয়েকটি মামলার কারণে তার মুক্তি হচ্ছে না।
এ কারণে বিশেষ ক্ষমতা আইনের এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল কুমিল্লার বিশেষ আদালতে। গত ১ জুলাই কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক কে এম শামছুল আলম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখালেও জামিনের বিষয়ে কোনো আদেশ না দিয়ে আবেদনটি ৮ অগাস্ট শুনানির জন্য রেখে দেন।

এরপর গত ১১ জুলাই হাই কোর্টে ফৌজদারি আপিলের পাশাপাশি হাই কোর্টে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। হাই কোর্ট কুমিল্লার আদালতের জামিন আবেদনটি ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয়।
গত ২৫ জুলাই কুমিল্লার আদালত খালেদার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলে ২৯ জুলাই ফের হাই কোর্টে তার জামিন আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের শুনানি নিয়েই ৬ অগাস্ট খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেয় বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ।