ইউএনএইচসিআর-ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগ

কুতুপালংয়ে বাঁশ টেকসইকরণ কেন্দ্র চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনে গত শনিবার বাঁশ টেকসইকরণ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সকাল ১১ টার দিকে এর উদ্বোধন করেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের প্রধান মো. আবুল কালাম এনডিসি। এসময় উপসি’ত ছিলেন কক্সবাজারের জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস’া (ইউএনএইচসিআর) কার্যক্রম প্রধান মারিন ডিন কাজডমকাজ এবং ব্র্যাকের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির প্রধান মো. আবদুস সালাম। কক্সবাজার জেলায় মিয়ানমার থেকে উচ্ছেদকৃত দুই লাখ চল্লিশ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য সরকারের নীতি নির্দেশনায় বাঁশের তৈরি অস’ায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়, যা স’ানীয় পরিবেশেরও পরে বিপুল চাপ সৃষ্টি করেছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং খাদ্য বহির্ভুত মানবিক সহায়তা প্রদানে কর্মরত সংস’াগুলোর একটি জরিপে দেখা যায়, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে এ পর্যন্ত ২ কোটি ২০ লাখের মতো বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বাঁশ ব্যবহারের কারণে এর সরবরাহও অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। তাছাড়া বর্তমানে মানসম্মত বাঁশ পাওয়াও যাচ্ছে না। বর্তমানে যে অপরিণত বাঁশ পাওয়া যাচ্ছে, তা মাত্র দুই বছরের মধ্যেই বদলাতে হবে। তাই ইউএনএইচসিআর ও ব্র্যাক যৌথভাবে এই বাঁশ টেকসইকরণ প্ল্যান্ট স’াপন করেছে। এই কারখানায় আশ্রয় কেন্দ্রের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত ‘বরাক’ জাতের বাঁশ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে টেকসই করা হবে। এর ফলে বাঁশগুলো ছত্রাক, ক্ষতিকর পোকামাড় থেকে রক্ষাপাবে ও ১০/১২ বছর পর্যন্ত টিকে থাকবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের প্রধান মো. আবুল কালাম এনডিসি বলেন, ‘এখানে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের মূল উপকরণই হচ্ছে বাঁশ। এই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে বাঁশের স’ায়িত্ব বাড়ানোর ফলে একদিকে যেমন আশ্রয় কেন্দ্রগুলো মজবুত ও টেকসই হবে, অন্যদিকে পরিবেশের বিপর্যয়ও কমে আসবে। আমরা সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে এরকম পরিবেশবান্ধব ও মানব কল্যাণমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।’ উদ্যোক্তারা জানান, এই টেকসইকরণ প্ল্যান্টে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিদিন ২০জন রোহিঙ্গা শ্রমিক বরাক জাতের বাঁশ বরিক এবং সোহাগার দ্রবণে ডুবিয়ে রাখার কাজ করেন। ১০/১৫ দিন পর এগুলো দ্রবণ থেকে তুলে ৩/৪ দিন শুকানো হয়।