অবৈধ সম্পদের অভিযোগে দুদকের মামলা

কাস্টমস কর্মকর্তা মুমিন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
101_Dudak_Arrest_Chittagong_190517_4

আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং তথ্য গোপন করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়েরকৃত মামলায় কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মুমিন মজুমদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ছিলেন।
নগরীর আগ্রাবাদ থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল দশটার দিকে তাকে দুদকের একটি দল গ্রেফতার করে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া-নেতরা এলাকার আবদুল গণি মজুমদারের ছেলে মমিন মজুমদার ঢাকা রাজস্ব সার্কেল-৪ এ কর্মরত। মমিনের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে হলেও চট্টগ্রামের হালিশহরে তার একটি ছয়তলা ভবন রয়েছে। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপির ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন সেলিম সুপ্রভাতকে বলেন, ‘কুমিল্লার একটি মামলায় দুদক একজন কাস্টমস কর্মকর্তাকে আটক করে আমাদেরকে ফোনে জানায়। আমরা গাড়ি করে তাকে কোর্ট বিল্ডিংয়ে পৌঁছে দেই। এর বাইরে আমি আর কিছু জানি না।’
চট্টগ্রাম দুদকের উপ-পরিচালক মোশারফ হোসেন মৃধা জানান, এক কোটি ২৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৪৪ লাখ ২৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে কাস্টমস কর্মকর্তা আব্দুল মমিন মজুমদারের বিরুদ্ধে কুমিল্লা মডেল থানায় বৃহস্পতিবার মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় শুক্রবার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ডাবলমুরিং থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই মামলার আসামি তার স্ত্রীকেও গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।’
দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম-১ এর উপ-সহকারি পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর এ মামলার বাদি। দুদকের এই কর্মকর্তা সুপ্রভাতকে বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত আসামি আব্দুল মমিন মজুমদার তার উপার্জিত অবৈধ অর্থের দ্বারা তার স্ত্রী আসামি সেলিনা জামানকে অসাধু উপায়ে সম্পদাদি অর্জনে সহায়তা করেছেন এবং তারা একে অপরের সহযোগিতায় অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ২৬ লাখ ৬৬১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে ৪০ লাখ ২৩ হাজার ৮৫৮ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তার আরো অবৈধ সম্পদ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘গ্রেফারকৃত আসামি আব্দুল মমিন মজুমদার ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অসাধু পন’ায় অর্থ উপার্জনে অভ্যস্ত একজন ধুরন্ধর প্রকৃতির লোক। তিনি তার চাকরি সূত্রে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তার স্ত্রী আসামি সেলিনা জামানের নামে অবৈধ স’াবর ও মূল্যবান অস’াবর সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছেন। যার পর্যাপ্ত প্রাথমিক তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার জামিন মঞ্জুর করা হলে তিনি পুনরায় পলাতক হওয়ার এবং তদন্ত কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিসহ মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ বিনষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত হওয়ার সমূহ আশংকা আছে।’
গ্রেফতারকৃত আবদুল মমিনকে হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে ডাবলমুরিং থানা সূত্রে জানা গেছে।