কালো বিড়াল

মাযহারম্নল ইসলাম অনিক দ্বাদশ শ্রেণী

সেই সকাল থেকেই শুরম্ন হয়েছে বৃষ্টি, থামার নাম গন্ধই নেই। ছোট ভাই সোহান কাগজের নৌকা ছাড়ছে পানিতে। ওদিকে মেঘের ডাকে কাক-পড়্গীরও দেখা নেই।

কী করবো কিছুই ভেবে পাচ্ছি না। বিদুৎ চলে যাওয়াতে সময় যেন থমকে গেছে। এভাবেই সকাল ছেড়ে সন্ধ্যা হলো। মা বারংবার হাটছে আর আলস্নাহতালার নাম স্মরণ  করছে। হঠাৎ দরজার ওপাশে শুনতে পেলাম কয়েকজনের গলার আওয়াজ। চার্জার লাইটটি হাতে ধরে ছুটে গেলাম। লাইটের আলো মুখে পড়তেই দেখি, পাশের বাসার কয়েকজন বন্ধু। তারা ছাতা সহকারে চলে এসেছে বৃষ্টিঘন পরিবেশে গল্প করতে। মা আমাদের  ড্রইং রম্নমে বসতে দিলেন। টেবিলের ওপর জ্বলছে একটি বাতি তারও নিভু, নিভু অবস’া। এরই মধ্যে বাদল শুরম্ন করলো তার গল্প বলা। অনেকে অনেক কথা বলছে আমারো বেশ ভালো লাগছে । সকলের সব কথার মধ্যে বাবলু বারম্বার বলছে খুব ড়্গুধা লাগছেচ। ঘরেই ছিলো মুড়ি আর মামার আনা চানাচুর। রিংকি দৌড়ে গেলো সেগুলো আনতে । মা একটি বড় পাত্র আর সরিষার তেল দিয়ে গেলো। এমন সময় রাব্বি বলছে  ভাজা-মুড়ির সাথে ঝাল পেঁয়াজ ছাড়া জমে নাকি? সাথে সাথেই ছোট ভাই সোহান দৌড়ে গেলো ঝাল পেঁয়াজের ডালা আনতে। রান্না ঘরটি ছিলো একটু দূরে। এমন সময় শুনতে পাই সোহানের চিৎকার। দৌড়ে  এলো আমাদের মাঝে। ভীতি ভরা চোখে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলছে রান্না ঘরে কি যেন একটা জ্বল জ্বল করছে আর কেমন কেমন আওয়াজ করছে। ক্‌ষড়্গকথা শোনার পরেই সবার মাঝে ভীতি ছড়িয়ে গেলো। মা দৌড়ে এসে সোহানের গা মুছিয়ে দিয়ে তাকে ঘুম পড়ানোর চেষ্টা করছে। ওদিকে রাতে আর কেউ বাসাতে ফিরলো না, জড়সড় হয়ে সকলে কোনরকম রাতটি পার করলাম। সূর্য ওঠার সাথে সাথেই সবাই জেগে ওঠে। ঘুম জড়ানো চোখে বাইরে এলাম।

গত রাতে ভৌতিক কাহিনি উন্মোচন করতে। বাবলু হাতে একটি ডাল নিয়ে, রান্না ঘরে সবার আগে প্রবেশ করলো। উনুনের পাশেই দেখতে পেলো কালো রঙ্গের তিনটি বিড়াল ছানা। রান্না ঘরের এককোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে। মনে হচ্ছে তারা যেন একে অপরের শরীরের অংশ। এমন সময় বাদল বললো আর খোঁজাখুঁজি করে লাভ নেই, সব বুঝতে পেরেছি।কাল বৃষ্টিতে বেড়ালগুলো এখানেই ছিলো। আর অন্ধকারে বেড়ালের চোখ জ্বল জ্বল করে। আর শীতের কাঁপুনিতে ওমন আওয়াজ আসছিলো। পাশেই ছিলো সোহান। সে লজ্জায় লাল হয়ে গেলো। হেসে কুটিকুটি হয়ে বললো, ও আমি তাহলে কালো বিড়াল দেখেছিলাম।

ডাঃ আব্দুল রাজ্জাক মিউনিসিপাল কলেজ, যশোর