কাউখালীতে ত্রাণের চাল পেতে ৬ দিন!

নিজস্ব প্রতিনিধি, কাউখালী
কাউখালীতে ৫ দিন পর ত্রাণ পেল বিধবা মানুচিং মারমা
কাউখালীতে ৫ দিন পর ত্রাণ পেল বিধবা মানুচিং মারমা

রাঙামাটির কাউখালীতে পাহাড়ধসের ৬ষ্ঠ দিনে নিহত ২১ জনের স্বজনসহ ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫০ পরিবার নগদ অর্থ ও চাল সহায়তা পেয়েছে। শনিবার পর্যন্ত ৫ দিনে দুর্গত এলাকায় কোনো ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি। এমনকি সরকানি কোনো কর্মকর্তাকেও দেখতে পাননি বলে গণমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার রাঙামাটি জেলা পরিষদ ও উপজেলা ত্রাণশাখার পক্ষ থেকে এসব ত্রাণ দেয়া হলো।
জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিহত ২১ জনের স্বজনদের মাঝে নগদ ২০ হাজার টাকা ও উপজেলার চার ইউনিয়ন কলমপতি, ঘাগড়া, ফটিকছড়ি ও বেতবুনিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল ও নগদ এক হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে।
এছাড়া উপজেলা ত্রাণ শাখার প্রধান কমলবরণ সাহা জানান, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত তালিকাভুক্ত ৫০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ শাখার পক্ষ থেকে বেতবুনিয়া ১০০, কলমপতি-১০০ ও ঘাগড়ার ১৫০ পরিবারসহ প্রথম দিনে মোট ৩৫০ পরিবারকে ২০ কেজি করে ত্রাণের চাল প্রদান করা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত ৯০০ পরিবার, সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত বাড়ির তালিকায় ৪ ইউনিয়ন বেতুবনিয়া, ফটিকছড়ি, ঘাগড়া ও কলমপতির ২৩৪টি ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৯৬৩টি বাড়ির মালিককে সরকারি সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।
তালিকা নিয়ে অভিযোগ : দুপুরে উপজেলা সদরের গোডাউন থেকে ত্রাণের চাল বিতরণ শুরু হলে তালিকায় নাম না থাকায় অনেককেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ নিয়ে ছুটতে দেখা গেছে। কাউখালীতে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে না পেয়ে উপজেলা ত্রাণ কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন তারা। অনেকে আবার সরকারি দলের স্থানীয় নেতা ও ইউপি সদস্যদের সাথে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
উপজেলার ঘিলাছড়ি বাসিন্দা বাবুল মিয়ার স্ত্রী রিনা আক্তার (২২) সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন, সরকারি দলের স্থানীয় নেতার সাথে সুসম্পর্ক না থাকায় তার পরিবার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বেতছড়ি এলাকার গৃহবধূ সাহানা বেগম কোলে শিশুকে নিয়ে ঘাগড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমুইমং মারমার সাথে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ করেন, মুখ দেখে দেখে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কাশখালীর বিধবা হালিমা বেগম (৬০), আবু তাহের ড্রাইভার (৬৫), মমতাজ বেগম (৫০)’র বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের নাম তালিকায় নেই বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
ঘাগড়া বাজার এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ জনের নাম তালিকাভুক্ত করায় এদেরকে ‘বিএনপি সমর্থক’ বলে অভিহিত করে দুপুরে উপজেলা মসজিদ মার্কেটের সামনে চড়াও হন ঘাগড়ার বাসিন্দা উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সজিব দত্ত। এ জন্য ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ দফাদার কাশেমকে দায়ী করে তিনি শাসিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কাশেম।
এসব অভিযোগ বিষয়ে রাত ৮টায় এই প্রতিবেদককে উপজেলা ত্রাণ কর্মকর্তা কমলবরণ সাহা জানান, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বাদ পড়ে থাকলে তাদেরকেও তালিকাভুক্ত করা হবে। তিনি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িঘর ভাঙার ছবিসহ সরাসরি তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।