কলেজিয়েট স্কুল : ১৮০ বছরের আলোকশিখা

মোহাম্মদ আলী
Collegiate-School-Building-

ছাত্রদের জটলা দেখে বিশাল মাঠের শেষ প্রান্তে গিয়ে দাঁড়ালাম। নিজে থেকে কথা বলার আগ্রহ দেখাতেই ওদেরও উৎসাহ বেড়ে গেল। ‘প্রাকৃতিক সৌন্দয্যমণ্ডিত আমাদের স্কুলের ক্যাম্পাস। এটা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই আমাদের’, বলল সাইক ইউনুস ও হাসান রাফি। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র তারা। গত শনিবার দুপুর বারোটার দিকে ঘুরে দেখছিলাম চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলটির ক্যাম্পাস। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে উঠে আসছিল স্কুলের প্রাকৃতিক পরিবেশের সৌন্দর্য্য আর বর্তমানে পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা।
চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের পরিবেশটা গাছ-পালার ছায়ায় ঘেরা। খুব সকালেই এখানে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। আর দুপুর ও বিকালে স্কুলের শিক্ষার্থী ও এলাকার কিশোর-তরুণরা স্কুলের বিশাল মাঠে খেলাধুলা করে। মাঠের তিন পাশে গাছের সারি। মূল ফটক দিয়ে ঢুকতেই ডান দিকে চোখে পড়ে শহিদমিনার, তার পাশে প্রাক্তন কলেজিয়েটের কার্যালয়। বাম পাশে স্মৃতিসৌধ। এর বামে কর্মচারীদের কক্ষ ও ডানে নতুন কলেজভবন। সামনে এগিয়ে গেলে বামে লাইব্রেরিভবন ও ডানে লালভবন (স্কুলের একাডেমিক ভবন)। লালভবনের পশ্চিম পাশে মসজিদ ও ছাত্রাবাস। পশ্চিম পাশের ফটক দিয়ে ঢুকলে দেখা মিলবে নার্সারি ও তার পাশে পুকুরের।
চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে ২০০৯ সাল থেকে কলেজ শাখা চালু হয়। স্কুল পর্যায়ে রয়েছে ৫ম থেকে দশম শ্রেণি। স্কুল পর্যায়ে ২১৬০ এবং কলেজ পর্যায়ে ৩২০ শিক্ষার্থী এখানে পড়ালেখা করছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন ৫৬ জন। করনিক ৩ জন, সরকারি-বেসরকারি কর্মচারী ১৯ জন। মর্নিং শিফট সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বেলা এগারোটা এবং দিবা শিফট দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে বিকাল পৌনে ৫টা। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন দেবব্রত দাশ। জানা গেল, ২০০৩ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ঘুরে ঘুরে আলাপ হলো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। শোনা হলো তাদের চাওয়া-পাওয়ার কথা। নবম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী বলছিল, ‘গাছপালাবেষ্টিত আমাদের স্কুলের পরিবেশ। কিন্তু কোনো নিরাপত্তা নেই, মাঠে গর্ত। মাঠ থেকে ব্যাগ, মোবাইল চুরি হয়ে যায়। সরকারি পুকুর অন্যদের দখলে। বস্তির ছেলেরা মাঠ দখল করে রাখে। লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বই নেই। প্রায় সময় বন্ধ থাকে। বসে পড়ার জায়গা নেই। স্মারকগ্রন্ত বের করা হয় চার বছর পরপর। গান-কবিতা চাইলেই জমা দিতে পারি না। সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষদের সংশ্লিষ্টতা নেই। নিজেদের উদ্যোগেই সব কিছু করতে হয়। ক্রীড়া শিক্ষক আছেন। কিন্তু ওনার কোনো কাজ নেই। চর্চা ছাড়া ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে হয়। পানি থাকে না। কলই নেই। ওয়াশরুমের অবস্থা ভালো নয়। অনুষ্ঠানের জন্য ভালো মানের মাইক নেই। নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। দারোয়ান নেই। স্যারের বাসা থেকেই মোবাইল চুরি হয়।’
কথা হলো কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে। সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন এই স্কুলেরই শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি এখানে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি বলেন, ‘এই স্কুলে পড়ালেখা করেই এখানেই শিক্ষকতা করছি- এটা আমার জন্য গর্বের বিষয়। বাংলা মিডিয়ামের জন্য এটি সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্কুল। পুরাতন বন্ধুবান্ধবরা আসে, যোগাযোগ করে। প্রাক্তন ছাত্ররা খুবই সহযোগিতা করে। প্রতি ৫ বছর পর পর পুনর্মিলনী উৎসব হয়।’ তিনি জানান, শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের জন্য দুটি কমন রুম আছে। তবে কমন রুমগুলো খুব ছোট। আর একটু বড় হলে ভালো হতো। পুরো স্কুলের জন্য মাত্র একটি টিউবওয়েল; যা খুবই অপ্রতুল। আর একটা টিউবওয়েল হলো ভালো হতো। একটা অডিটরিয়ামের বড় দরকার। ক্যান্টিন নেই। হলে ভালো হতো। শিক্ষকদের জন্য মাত্র চারটি কোয়ার্টার। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। আরো কয়েকটি ভবন হলো ভালো হতো। কলেজের জন্য আলাদা শিক্ষক নেই।’
শিক্ষক জাহেদুল আলম খান বলেন, ‘আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীদের ফলাফল খুবই ভালো। ছাত্ররা মেধাবী। অভিভাবকরাও সব সময় সতর্ক থাকেন।’
পড়ালেখার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্যও চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের নাম ডাক আছে। শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্যে আছে রেড ক্রিসেন্ট, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট। জাতীয় দিবসগুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ক্যাম্পাস মাতিয়ে রাখেন শিক্ষার্থীরা। রয়েছে বিতর্ক ক্লাব। নতুন করে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে ‘চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল সাংস্কৃতিক ক্লাব’। উদ্ভাবনী ভাবনা নিয়ে কাজ করে চলেছে বিজ্ঞান ক্লাব।

স্কুলের জন্মের ইতিহাস
১৮৩৫ সালে পাবলিক ইন্টারঅ্যাকশন কমিটি লর্ড উইলিয়াম বেন্টিনকে একটি প্রস্তাব পেশ করে। যেখানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীর মতো বড় শহরে ইংরেজি সাহিত্য ও বিজ্ঞান শেখার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার অনুরোধ জানানো হয়। সেই সময় বুদ্ধিজীবীরা ব্রিটিশ রাজের অধীনে একটি সরকারি তহবিলে স্কুল সম্ভব কিনা; তা দেখতে কমিটির সাথে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছিলেন। সেই বছরের মাঝামাঝি, সরকার একটি প্রস্তাব পাস করে; যার ফলে ১৫ই জুলাই প্রথম সরকারি স্কুল হিসেবে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।
এর এক বছর পর ১৮৩৬ সালে বিজ্ঞান, মানবিক ও ইংরেজি সাহিত্য শেখার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখন আইস ফ্যাক্টরি রোডের পাশে (বর্তমানে কলেজিয়েট স্কুল রোড নামে পরিচিত) অবস্থিত। স্কুলটি একটি প্রারম্ভিক ইংরেজী মাধ্যম বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। স্কুলটি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম দিকে স্থান নির্বাচন করা হয়; চকবাজার প্যারেড ময়দানের দক্ষিণে ও মাদ্রাসা পাহাড়ের পূর্বে। স্কুলটির প্রথম নাম ছিল জিলা স্কুল চিটাগাং। ১৮৩৬ থেকে ১৮৬৯ সাল পর্যন্ত স্কুলটি সেখানে ছিল। পরে অবশ্য জেলা স্কুল চিটাগাং স্থান বদলিয়ে মার্কট সাহেবের পাহাড়ের দক্ষিণ পাশে (বর্তমানে সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের দক্ষিণে) ইংরেজ আমলে নির্মিত একটি দালানে আসে। এখানে কত সালে আসা এবং কত সাল পর্যন্ত স্কুলটি ছিল সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রথম ব্যাচে কতজন শিক্ষার্থী ছিল তারও কোনো অফিসিয়াল রেকর্ড নেই। তবে বলা হয় যে, প্রায় একশত ছাত্র নিয়ে স্কুলটির প্রথম বছরের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রথম ব্যাচের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ছিল জমিদার ও বহিরাগত খ্রিস্টানদের সন্তান। খুব শিগগিরই, স্কুলটি খুব ভালো খ্যাতি লাভ করে এবং শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পরিচিত পায়।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ব্রিটিশ সরকারের সরাসরি পরিচালনাধীন ছিল চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল। ১৯০৯ সালে এই স্কুলটি বিভাগীয় স্কুল পরিদর্শকের আওতাধীন আনা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন মিত্রবাহিনী অস্থায়ী ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহারের জন্য স্কুলের মূল ভবন অধিগ্রহণ করে। এই অধিগ্রহণের দরুন পুরো ৪ বছর স্কুলের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাঢোল স্তিমিত হলে স্কুল ভবনটি সামরিক অধিগ্রহণ মুক্ত হয়ে পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রশ শুরু হয়।
পূর্ব পাকিস্তান গেজেটরের মতে, চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলটি জেলা স্কুল হিসাবে পরিচিত ছিল এবং ১৮৬০ এর দশকে এর পাঠক্রমের মধ্যে বাধ্যতামূলক সামরিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শিল্পকৌশল, প্রকৌশল, ফলিত বিদ্যুৎ এবং অঙ্কন পাঠ্যক্রম চালু হয়। ১৮৮৬ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল আইস ফ্যাক্টরি রোডের মাদারবাড়ি এলাকার প্রায় ১২ একর বিশাল জায়গা জুড়ে স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়। ১৯২৫ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইস্কুলের অবকাঠামোসহ বিস্তীর্ণ এ জায়গায় লাল ইটের গাঁথুনি দিয়ে ইংরেজি ই প্যাটার্নের স্কুল ভবন এবং মূল ভবনের পশ্চিমে ইউ প্যাটার্নের হোস্টেল ভবন গড়ে ওঠে। স্কুলের পিছনে, স্কুল মাঠের দুই প্রান্তে, হোস্টেলের পশ্চিমে ও আশেপাশে প্রধান শিক্ষক, হোস্টেল সুপারিন্টেডেন্ট, শিক্ষক, কর্মচারী ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসস্থল গড়ে ওঠে পৃথকভাবে। ১৯৬৩ সালে স্কুলটিতে মর্নিং শিফ্‌ট চালু হয়।

বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি
অবিভক্ত ভারতের প্রথম সরকারি স্কুল চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল। রাজনীতিবিদ, কবি ও সাহিত্যিকদের ঠিকানা ছিল এটি। এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত করে এর সংরক্ষণের জন্য ইউনেস্কোকে উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন প্রাক্তন কলেজিয়েটস, ব্যবসায়ী আবুল হাসনাত মো. বেলাল (১৯৯৩)। তার মতে, এই স্কুলের চেয়ে অনেক কম বয়সী স্থাপনা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর সাথে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিদের স্মৃতি জড়িত। লালভবনটি সংস্কার করা উচিত। আইস ফ্যাক্টরি রোড কলেজিয়েট স্কুল রোড নামে অনুমোদন দিলেও তা কার্যকর করছে না সিটি করপোরেশন। এই স্কুলের ক্যাম্পাসে শিক্ষা অফিস স্থানান্তরের প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।

যে সকল সমস্যা নজরে আসলো
চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল বিশাল জায়গা জুড়ে নানাবিধ স্থাপনা ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে একটি আদর্শ ও যুগোপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। সুন্দর পরিবেশ ও প্রাকৃতিক নৈসর্গের মাঝে ছিল এই স্কুলের অবস্থান। দুটি সুন্দর পুকুর, বিশাল আমগাছ, ফুলের বাগান, সামনে সবুজ ঘাসে ঢাকা বিশাল মাঠ নিয়ে এই স্কুলটি সত্যিকারভাবে দৃষ্টি নন্দন ছিল। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে নানাবিধ অবক্ষয়ের মাঝে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নান্দনিক রূপ বিলুপ্ত হয়ে যায়। ভরাট হয়ে যায় একটি পুকর, আরেকটি মজা পুকুরের ন্যায় পড়ে আছে। বিশাল বৃক্ষরাজি নিধন হয়ে গেছে, সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত বিশাল মাঠ হয়ে গেছে ধূ-ধূ বালিয়াড়ি। পাট্যক্রম বহির্ভুত সকল বিষয় স্থবির হয়ে গেছে নানা অবহেলায়। ফটকের সামনেই কার, রিক্সা ও মোটর সাইকেলের অবৈধ পার্কিং। পরিচর্যার অভাবে স্কুলের পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। মাঠ অরক্ষিত হয়ে গেছে। বিশাল খেলার এই মাঠ খেলার অনুপযোগী। দেয়ালের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে। অডিটরিয়াম নেই। দুইটি পুকুরের মধ্যে একটি ভরাট করে ফেলা হয়েছে। পুরানো বিদ্যালয় হিসেবে সুযোগ-সুবিধার অভাব। মাঠে বাইরের ছেলেদের উৎপাত। মাঠে জমে আছে পানি ও বালি। লাইব্রেরি ভবনে মূল ফটকে তালা মারা। কারিগরী বিভাগের জন্য প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্কশপটি দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে।

জরাজীর্ণ ছাত্রাবাস
১৯২৫ সালে শাহ আমানত হল নামে একটি ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২১টি কক্ষের মধ্যে চালু আছে মাত্র ৬টি। বাকিগুলো বন্ধ। ছাত্রাবাসের পরিবেশ খুবই অপরিচ্ছন্ন। পুরাতন বৈদ্যুতিক তার, ভাঙাচোরা দরজা-জানালা। অনেক জায়গায় পলেস্তরা খসে পড়েছে। তত্বাবধাক মো. তাজুল ইসলাম জানান, আজকে এটা, কালকে ওটা নষ্ট হয়ে যায়। বিদ্যুতের তারগুলো রসি দিয়ে বেঁধে রেখেছি। ওয়াশরুম ৫টির মধ্যে চালু আছে মাত্র ২টি। টয়লেট ৪টির মধ্যে চালু আছে মাত্র ২টি। পানির লাইনে সমস্যা। পাইপে জ্যাম। প্রশ্রাবখানা নষ্ট হয়ে গেছে। কিচেনে পানি আসে না। ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেওয়ালে রং করা হয়নি।

১৮০ বছরের ঐতিহাসিক মাইলফলক
চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল এদেশ তথা উপমহাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী। এটি এই উপমহাদেশের প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলোর মধ্যে অন্যতম। অবিভক্ত বাংলার প্রথম সরকারি স্কুল বাংলাদেশের ইতিহাস আর ঐতিহ্যের স্মারক চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল ইতিমধ্যে অতিক্রম করেছে ১৮০ বছরের ঐতিহাসিক মাইল ফলক। ইতিহাস আর ঐতিহ্যের, সাফল্য আর গৌরবের, সৃষ্টি আর স্বপ্নের এক অনুপম নাম চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল। সুদীর্ঘ সময় ধরে আলোক বর্তিকা হয়ে এই প্রতিষ্ঠান সৃষ্টিশীলতা, মেধা ও মননের অপূর্ব সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বপ্নের বীজ বপন করে চলেছে। যারা আজ স্বমহিমায় আলো ছড়াচ্ছেন দেশে-বিদেশে।

যেসব খ্যাতিমান ব্যক্তির পদচারণায় মুখর ছিল এই স্কুল
এটি বহুবার দেশের সেরা স্কুলের পুরস্কার অর্জন করেছে। এই স্কুলটি বিখ্যাত পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ, বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, শিল্পপতি, ক্রীড়াবিদ, কবি-লেখক তথা কৃতিসন্তানদের জন্ম দিয়েছে। কবি নবীন চন্দ্র সেন, ডা. অন্নদাচারণ খাস্তগীর, নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. জামাল নজরুল ইসলামসহ অনেক আইকনের পদচারণায় মুখরিত ছিল এই স্কুল প্রাঙ্গণ। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন: ড. ফজলুল হালিম চৌধুরী, ড. আবদুল্লাহ আল মুতি শরফুদ্দিন, ড. বদরুল হুদা খান, ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম, রাগিব হাসান, ড. মুনাওয়ার আহমেদ, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ড. মইনুল ইসলাম, ড. মুহাম্মদ আলী তসলিম, ড. মাহমুদুল আলম, হুমায়ুন আহমেদ, ড. মোস্তফা নুরুল ইসলাম, ড. জাফর ইকবাল, প্রাক্তন গভর্ণর জাকির হোসেন, ড. এফএম ইউসুফ, ভারত কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি জেএম সেন গুপ্ত, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মঞ্জুর মোর্শেদ খান, আকতারুজ্জামান বাবু, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মাহবুবুল আলম (এনজিআর), আফসার উদ্দিন আহমেদ, ড. মো. আফসারুল আমিন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মঈন উদ্দিন খান বাদল, আবুল হায়াত, আতাউর রহমান, কাজী আরিফ, সদরুল পাশা, নৌ বাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মুহাইমিনুল ইসলাম এবং রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহ ইকবাল, বর্তমান সেনা প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, একেএম আহসান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আশীষ ভদ্র, নিয়াজ মোর্শেদ, এমএ মালেক, আবুল মোমেন, ড. মাহবুবুল হক, রুশো মাহমুদ, সৈয়দ ওমর ফারুক প্রমুখ।