কলড্রপ গ্রাহকের জন্য চরম ভোগানিত্মর বিষয়

আজহার মাহমুদ

মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে কোনো কারণ ছাড়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এর নামই কলড্রপ। সাধারণ মানুষের কাছে এর নাম চাঁদাবাজি। আর এর যন্ত্রণায় সাধারণ মানুষ বড়ই ক্লানত্ম। এ যন্ত্রণা থেকে কবে মুক্তি পাবে সধারণ মানুষ সেটাও কারো জানা নেই।
আনত্মর্জাতিক টেলিকম ইউনিয়নের নির্ধারিত মান অনুযায়ী বেতার তরঙ্গনিভর্র মোবাইল নেটওয়ার্কে ৩ শতাংশ কলড্রপ গ্রহণযোগ্য। অথচ বাংলাদেশে কলড্রপের হার ৩ শতাংশের অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে কলড্রপ অনিবার্য একটি বিষয়। কারণ গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার অনুপাতে অপারেটরদের নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং হালনাগাদ করা হয়নি। এর সঙ্গে বাংলাদেশের নেটওয়ার্কে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ বা আইসিএক্স রাখার কারণেও ওই এক্সচেঞ্জের সড়্গমতার সীমাবদ্ধতায় কলড্রপ হচ্ছে।
এক অপারেটরের কল অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্কে আনুপাতিক হারে বরাদ্দের কাজটি করে আইসিএক্স। কিন’‘ পুরো দুনিয়াতেই এই আনুপাতিক বরাদ্দের কাজটি মোবাইল অপারেটররা নিজেরা করে। শুধু বাংলাদেশেই এ জন্য পৃথক আইসিএক্স অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কলের জন্য গ্রাহককে যেমন বাড়তি পয়সা গুনতে হচ্ছে, তেমনি নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত একটা সত্মরের জন্য সেবার গুণগত মানও খারাপ হচ্ছে।
মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একই সময়ে লেনদেন বেড়ে যাওয়ার কারণেও নেটওয়ার্কের ওপর প্রবল চাপ পড়ছে। এর ফলেও কলড্রপ হচ্ছে।
কলড্রপের এই অভিযোগ মোবাইল অপারেটররাও স্বীকার না করে পারেন না। কারণ কম বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে অনেক বেশি সংখ্যক গ্রাহককে সেবা দিচ্ছেন তারা। যার ফলে তারা নিজেরাও জানে তাদের পড়্গে কলড্রপ ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের পরিপ্রেড়্গিতে সবচেয়ে বড় কারণ- যে হারে মোবাইল গ্রাহক বেড়েছে, সে হারে নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, হালনাগাদ বা সমপ্রসারণ না হওয়া। অধিক গ্রাহকের চাপ নেটওয়ার্ক নিতে পারছে না। মোবাইল নেটওয়ার্কে গ্রাহকের জন্য মানসম্পম্ন সেবা নিশ্চিত হচ্ছে কি-না তা দেখার দায়িত্ব টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস’া বিটিআরসির। বিটিআরসি সেবার গুণগত মানের একটা ‘মানদ-’ নির্ধারণ করতে পারে এবং সেই মানদ- কতটা রড়্গা করা সম্ভব হচ্ছে, সেটা বিচার করতে পারে। কিন’ বাসত্মবে বিটিআরসি সে দায়িত্বটা পালন করছে না।
আমাদের দেশে মোবাইল অপারেটরদের অনেকগুলো সেবাদাতার ওপর নির্ভর করতে হয়, যেমন, ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) ও ট্রান্সমিশন কোম্পানি (এনটিটিএন)। ফলে এদের যে কোনো একটির সমস্যার কারণেও কলড্রপ হয়।
বাংলাদেশ সম্ভবত একমাত্র দেশ যেখানে সবচেয়ে কম তরঙ্গ দিয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে টেলিযোগাযোগ সেবা দিতে হচ্ছে। অথচ আমরা নাকি ডিজিটাল দেশের নাগরিক! ভাবতেও অবাক লাগে। একটি ডিজিটাল দেশের মানুষ কখনো এমন ভোগানিত্ম কখনো মেনে নিতে পারে না। তাহলে আর বাংলাদেশে ডিজিটাল হলো কই? দেশের মানুষতো নামে ডিজিটাল চায় নাই, চেয়েছে কাজে ডিজিটাল দেশ। আর এই সমস্যার জন্য অনেকটাই সরকার দায়ী বলে মনত্মব্য করেন মোবাইল অপারেটরের মালিকগণ। সরকার অতিরিক্ত তরঙ্গ বরাদ্দ করলে এবং বেতার তরঙ্গ ব্যবহারে প্রযুক্তি-নিরপেড়্গ নীতি অনুসরণ করার সুযোগ দিলে গ্রাহক সেবার মান অনেক উন্নত করা সম্ভব হবে বলে তাদের বিশ্বাস। তাই সরকারের উচিৎ এই সমস্যা সমাধান করে সাধারণ মানুষকে একটু শানিত্ম দেওয়া। আপনার-আমার কাছে এটা সামান্য বিষয় হলেও, যারা দিন মজুর খেটে খায় তাদের কাছে এটা অনেক কিছু।
পরিশেষে বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি এই সমস্যা সমাধানে সুনজর দেন, তবে এই মারাত্মক সমস্যা থেকে সাধারণ গ্রাহকরা মুক্তি পাবে এবং স্বসিত্মর নিশ্বাস নিতে পারবে।