মহানগর বিএনপি

কর্মীরা অভিভাবকহীন

সালাহ উদ্দিন সায়েম

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা. শাহাদাত হোসেন ও আবুল হাশেম বক্কর- চট্টগ্রাম নগর বিএনপির তিন কাণ্ডারি। তিনজনই এখন জেলে বন্দি। কারাগারের বাইরে থাকা নগর বিএনপির প্রথম সারির নেতারা আত্মগোপন করে আছেন। ফলে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে নগর বিএনপি। শীর্ষ নেতাদের অনুপসি’তিতে অসহায় হয়ে পড়েছেন সংগঠনটির তৃণমূল কর্মীরা।
বিএনপির স’ায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু গত ২১ অক্টোবর একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তার জামিন না মঞ্জুর হয়। পর দিন কারাগারে আমীর খসরুর সঙ্গী হন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। নগরীর জিইসি মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তার সাথে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমও গ্রেফতার হন। অধরা থাকা নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের শেষ রক্ষা হলো না।
বুধবার বিকেলে ঢাকা সিএমএম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে তাকে গ্রেফতার করে সাদা পোশাকের ডিবি পুলিশ। এসময় শাহাদাতের সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা শামসুল হককেও গ্রেফতার করা হয়।
আমীর খসরু মহানগরের নেতৃত্বে না থাকলেও নগর বিএনপিতে তার অসংখ্য কর্মী রয়েছে। ডা. শাহাদাত হোসেন ও আবুল হাশেম বক্করের নেতৃত্বে নগর বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরব উপসি’তি ছিল তৃণমূল কর্মীদের। এ তিন শীর্ষ নেতা এখন কারাগারে থাকায় নগরীতে কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে বিএনপি।
জানতে চাইলে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক হারুরুর রশিদ গতকাল সুপ্রভাতকে বলেন, ‘নগর বিএনপি এখন নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে। তবে এটা সাময়িক সংকট। পরিসি’তি অনুকূলে আসলে এই সংকট থাকবে না। মামলায় জর্জরিত যেসব নেতা এখন আত্মগোপন করে আছেন তারা সবাই বেরিয়ে আসবেন।’
নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এসএম সাইফুল আলম সুপ্রভতাকে বলেন, ‘মামলার কারণে আমরা বের হতে পারছি না। তবে সামনে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা হলে নেতাকর্মীরা সবাই মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়বে।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহাদাত ও বক্কর ছাড়া নগর বিএনপির আরো ৬ নেতা গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা গ্রেফতার হয়েছেন।
নগর বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের কয়েকজন কর্মীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, শীর্ষ নেতারা না থাকায় তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যদি বিএনপি আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করে শীর্ষ নেতাদের অনুপসি’তিতে নগরীতে সেসব কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরীর কোতোয়ালী এলাকার বিএনপির একজন নেতা বলেন, ‘মহানগরের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারির উপসি’তিতে দলীয় কর্মসূচিতে কর্মীরা উৎসাহ পায়। কিন’ দুই নেতা গ্রেফতার হওয়াতে কর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে পড়েছে। আমীর খসরুও গ্রেফতার হওয়াতে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। যে কারণে পার্টি অফিসে গত তিনটি কেন্দ্রঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কর্মীদের উপসি’তি ছিল না।’
২৮ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত তিনটি বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। কিন’ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা না থাকায় নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয়ে এসব কর্মসূচি পালিত হয়নি। উত্তর জেলা বিএনপির অধীনে এসব কর্মসূচি পালন করে মহানগরের কর্মীরা।
ডা. শাহাদাত হোসেন ও আবুল হাশেম বক্করের অনুপসি’তিতে নগর বিএনপির নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। প্রথম সারির কোনো নেতা এখনো সংগঠনের হাল ধরেননি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানসহ প্রথম সারির অন্য নেতারা সবাই আত্মগোপন করে আছেন।