কালো পতাকা প্রদর্শন ও প্রতিবাদ

কর্মসূচি সংস্কৃতিকর্মীদের ডিসি হিলের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর ডিসি হিলে সংস্কৃতিচর্চার ওপর নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মীরা। একই সাথে এই পাহাড় থেকে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবন অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ডিসি হিলের নামকরণ করার দাবিও জানান তারা।
গতকাল শুক্রবার বিকালে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরুদ্ধে ডিসি হিলের পাদদেশে ‘সংস্কৃতিকর্মী পর্ষদ-চট্টগ্রামের ব্যানারে অনুষ্ঠিত কালো পতাকা প্রদর্শন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংস্কৃতিকর্মীরা এসব দাবি জানায়।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা নাসিরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘১৯৭৮ সাল থেকে ডিসি হিলে সংস্কৃতিচর্চা হয়ে আসছে। এই জায়গাটা সংস্কৃতিচর্চার জন্য উপযুক্ত। এটা চট্টগ্রামবাসীর সম্পত্তি। এখানে সংস্কৃতিচর্চা করা জনগণের অধিকার। এই পাহাড় সংস্কৃতিচর্চার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।’
তিনি আরো বলেন, ‘একেক সময়ে একেক ডিসি একেক নির্দেশ দিয়ে আসছেন। ডিসি আমাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখলেন। এখানে অনুষ্ঠান হলে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবনের জন্য কোন সমস্যা হয় না। সেখানে অনুষ্ঠানের শব্দ যায় না। চট্টগ্রাম শহরে অনেক পরিত্যক্ত বাংলো আছে। প্রয়োজনে ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনারের বাস ভবন এই পাহাড় থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যেতে হবে। পাহাড়ে থেকে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার কেন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবেন। তাদেরকে জনগণের সাথে থাকতে হবে।’
নাসিরুদ্দিন চৌধুরী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বছরে তিন দিনে অনুষ্ঠান করা মুক্তমঞ্চের ধরন নয়। এছাড়া চট্টগ্রাম শহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে কোনো স’াপনা নেই। এই ডিসি হিলকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স’
করা হোক। ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবন ডিসি হিল থেকে সরিয়ে সেখানে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হোক।’
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী উদ্দেশে অন্যান্য বক্তা বলেন, ‘নীতিমালা ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন। ডিসি হিল আমাদের চিন্তা- চেতনার জায়গা। সরকার তিন কোটি টাকা দিয়ে ডিসি হিল আধুনিকায়ন করল। এখন আপনি নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন। ডিসি হিলে ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৬ ডিসেম্বর, বইমেলা, নবান্ন উৎসব কেন বাদ যাবে। অচিরেই ডিসি হিল অনুষ্ঠান করার জন্য উন্মুক্ত করে দিন।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ডিসি হিলেই অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ঘোষণা দেন, ডিসি হিলে বছরে পহেলা বৈশাখ, রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী- এই তিনটি অনুষ্ঠান ছাড়া আর কোন অনুষ্ঠান করা যাবে না। এরপর থেকেই ডিসি হিলে সংস্কৃতিচর্চার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী। নিষেধাজ্ঞার কথা জানতে পেরে ইতিমধ্যে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তা প্রত্যাহার করার জন্য মানববন্ধনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে।
চট্টগ্রাম সংস্কৃতিকর্মী পর্ষদের সমন্বয়ক খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ কমসূচতে সহমত প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন কবি ও সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্ত, সাংস্কৃতিক সংগঠক অরুণ চন্দ্র বণিক, স্বাধীন বাংলা বেতার টেলিভিশন শিল্পী মুক্তিযোদ্ধা মৃণাল ভট্টাচার্য, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মোহাম্মদ ফরিদ, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য রনজিত রক্ষিত, নাট্যজন সঞ্জীব বড়-য়া, প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি রাশেদ হাসান প্রমুখ।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে ব্যানার নিয়ে উপসি’ত ছিলেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, সম্মিলিত আবৃত্তি জোট, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ-চট্টগ্রাম মহানগর, সৃজামী সাংস্কৃতিক সংসদ, চট্টল ইয়ুথ কয়ার, ত্রিসপ্তক শাস্ত্রীয় সংগীত চর্চা কেন্দ্র, বসুন্ধরা শিল্পী গোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু সাহিত্য একাডেমী ও উপমা সাংস্কৃতিক সংসদ।