কর্ণফুলীর ড্রেজিং : দ্রুত পদক্ষেপ নিন

বলা হয়ে থাকে জাতীয় অর্থনীতির লাইফ লাইন চট্টগ্রাম বন্দর, সেই সাথে কর্ণফুলী নদীর নামটিও উচ্চারিত হয় কেননা এর মোহনায় চট্টগ্রাম বন্দর গড়ে উঠেছে। বিশ্বে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বন্দর আমাদের চট্টগ্রাম। কিন্তু কর্ণফুলীর নাব্যতা রক্ষা কিংবা এর ভরাট, চর জেগে ওঠা থেকে রক্ষা, দখল দূষণ থেকে বাঁচানোর কাজটি আমরা করছি না, এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতার ওপর, অন্যদিকে নদীর তীরবর্তী বন্দর শহর চট্টগ্রাম এবং এর দুপাশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার কাজটি হয়ে উঠছে না কর্ণফুলীকে তার শ্রীময়ী রূপে ফিরতে না দেওয়ার কারণে।
একটি নদীর বিশেষ উপযোগিতা পেতে তার নাব্যতাকেই প্রধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ কর্ণফুলীর নাব্যতা রক্ষার কাজটি সুচারুভাবে করা যাচ্ছে না। বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব এলাকার নাব্যতা রক্ষায় ড্রেজিং করে থাকে কিন্তু সামগ্রিকভাবে এর নাব্যতা রক্ষার কাজটি যুগের পর যুগ করা হয়নি। গণদাবির মুখে ড্রেজিং এর কাজটি করতে ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় কিন্তু ড্রেজিং এর কাজ অসমাপ্ত রেখে কোম্পানি চলে যায়। এরপর দীর্ঘসময় আইনি জটিলতায় পড়েছে ড্রেজিংয়ের কাজ। এর ফলে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে তেমনি জনউপযোগিতার ভাণ্ডার অপূর্ণ থেকেছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর কাছেই চর জেগেছে নানা এলাকায়। বিশীর্ণা হয়ে গেছে নদী, নাব্যতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আমাদের পত্রিকায় কর্ণফুলীর ড্রেজিং নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ১ বছর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলীর ড্রেজিংয়ের কথা বলছে কিন্তু কাজ শুরু করা যায়নি। ডিপিএম পদ্ধতিতে কাজ করতে মনোনীত হয়েছে নৌ-বাহিনীর অঙ্গ সংগঠন নৌ-কল্যাণ সংস্থা। তারা চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং নামের প্রতিষ্ঠান দিয়ে কাজ করাবে। ড্রেজার ও অন্যান্য সরঞ্জাম এসেছে ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে। সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর এলাকা পর্যন্ত গভীর করতে হবে। সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের কমিটির অনুমোদন না পাওয়ায় ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না এমনিই জানা গেছে বন্দর সূত্রে। পলি ভরাটের হাত থেকে কর্ণফুলী রক্ষা করতে আর বিলম্ব নয়। এমনিতেই কর্ণফুলীকে মৃতপ্রায় নদী আখ্যা দেয়া হয়। পলি ভরাটের কারণে চর জেগেছে। আর সেখানে দখল ও অবৈধ স্থাপনাও গড়ে উঠেছে। যে যেভাবে পারছে কর্ণফুলী দখল করছে। অবৈধ নির্মাণকারীদের উচ্ছেদে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও কোনরূপ অগ্রগতি নেই।
পলি ভরাটের কারণে কর্ণফুলীর সংযোগ খালগুলির মুখও সংকুচিত হয়েছে। পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। নগরীর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ কর্ণফুলীর ভরাট হয়ে নাব্যতা কমে যাওয়া। ব্যবসা-বাণিজ্য-অর্থনীতি-যোগাযোগের বড় মাধ্যম এই কর্ণফুলী, নাব্যতা বাড়লে বেশি গভীরতার জাহাজও ভিড়তে পারবে বন্দরে। অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ সুবিধা বাড়ানো গেলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে। নগরীর খালগুলি খনন, পুনঃখনন ও ভরাট থেকে রক্ষা করতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কর্ণফুলীর নাব্যতা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা গেলে এসব কার্যক্রমও যথার্থ উপযোগিতা দেবে।
আমরা মনে করি সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে কর্ণফুলীর ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করতে পদক্ষেপ নেবে। এ ব্যাপারে আর কালক্ষেপণ কাম্য নয়।