মহানগর যুবদল

কমিটি না হওয়ায় মাঠে নেই অনেক নেতা

সালাহ উদ্দিন সায়েম

৯ মাস আগে নগর যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কে কাকে ডিঙিয়ে নেতৃত্বে আসবেন তা নিয়ে পদ প্রত্যাশী নেতারা দৌড়ঝাঁপ করেন। নিষ্ক্রিয় নেতারাও তখন নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে দলীয় কর্মসূচিতে সরব হয়ে উঠেন। কিন্তু হঠাৎ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া থমকে যায়। কমিটি হওয়ার আলামত না দেখে মাঠছাড়া হয়ে গেছেন পদ প্রত্যাশী অনেক নেতা।
নগর যুবদলের নতুন কমিটির সভাপতির পদ পেতে লড়াই করেছিলেন মোশারফ হোসেন দীপ্তি ও শামসুল হক। সভাপতি পদের জন্য এ দুই যুবদল নেতাই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী।
২০১১ সালের ১৯ নভেম্বর নগর যুবদলের ১১ সদস্য বিশিষ্ট সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয়। মোশারফ হোসেন দীপ্তি হলেন এ কমিটির সাধারণ সম্পাদক। আর শামসুল হক
হলেন সহসভাপতি।
গত ৮ মাস ধরে দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত দেখা মিলছে না শামসুল হকের। কালে ভদ্রে বিএনপির কর্মসূচিতে এ যুবদল নেতার দেখা মেলে। অথচ ৯ মাস আগে যখন নগর যুবদলের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছিল তখন মাঠে প্রতিনিয়ত সরব ছিলেন তিনি। সভাপতি পদের জন্য ঢাকায় অনেক দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন। বিএনপি ও যুবদলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শামসুল হক দৌড়ঝাঁপ করলেও বিএনপি ও যুবদলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের অনেকের তার চেয়ে মোশারফ হোসেন দীপ্তির প্রতি সমর্থন ছিল বেশি। কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের এমন মনোভাব বুঝতে পেরে পিছু হঠেন শামসুল হক। এ কারণে তিনি গত ৭-৮ মাস ধরে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে জানতে শামসুল হকের সাথে গতকাল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে মাঠে সরব আছেন মোশারফ হোসেন দীপ্তি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে সম্প্রতি নগর যুবদলের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন সাবেক এই নগর ছাত্রদল নেতা।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি ও যুবদলের কেন্দ্রীয় অনেক নেতাই দীপ্তিকে সভাপতি হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন। এমন সমর্থন পেয়ে দীপ্তির মনোবল বেড়ে গেছে। সামনে যুবদলের নেতৃত্বে আসবেন-এমন জোরালো সম্ভাবনা দেখে তিনি মাঠে প্রতিনিয়ত সরব আছেন।

মোশারফ হোসেন দীপ্তি এ বিষয়ে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘আমি কখনো মাঠ ছেড়ে যাইনি। ৭ বছর আগে যুবদলের নেতৃত্বে আসার পর থেকে দলীয় প্রত্যেকটি কর্মসূচিতে সরব ছিলাম। দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করলে পদ এমনিতে আসবে।’
এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৯ মাস আগে দৌড়ঝাঁপ করা নেতাদের অনেকে এখন মাঠছাড়া। যুবদল তো বটেই, নগর বিএনপির কর্মসূচিতেও এসব নেতাদের দেখা মিলে না। এদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য দুজন হলেন-মোহাম্মদ শাহেদ এবং মাঈনুদ্দিন মো. শহীদ।
নগর যুবদলের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘দলীয় কোনো কর্মসূচিতে এই দুই নেতার চেহারা গত ৯ মাসে আমরা দেখিনি। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ার সাথে তারাও থমকে গেছে।’
মোহাম্মদ শাহেদ নগর যুবদলের বর্তমান কমিটির সহসভাপতি। আর মাঈনুদ্দিন শহীদ একসাথে দুটি পদ বহন করছেন। একদিকে নগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি, অন্যদিকে নগর বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক।
দলের আন্দোলন-সংগ্রামে মোহাম্মদ শাহেদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ আছে যুবদল নেতাকর্মীদের মধ্যে। বিএনপির আন্দোলনে অনেক নেতা মামলায় জড়ালেও তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও হয়নি বলে জানিয়েছেন যুবদল নেতারা।

অপরদিকে মাঈনুদ্দিন শহীদ একসাথে দুটি পদ বহন করলেও বিএনপি ও ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচিতে তার দেখা মেলে না।
এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নগর যুবদলের বর্তমান সভাপতি কাজী মো. বেলাল উদ্দিন। ৭ বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসা এ যুবদল নেতা এখন নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদকও। তবে তিনি দুটি সংগঠনের কর্মসূচিতেই প্রতিনিয়ত সরব থাকেন। কিন্তু তিনি যুবদলের পদ নেতৃত্ব ছেড়ে দেবেন।
এ বিষয়ে কাজী মো. বেলাল উদ্দিন সুপ্রভাতকে বলেন, ‘নেতৃত্বে যতদিন আছি, মাঠে থাকবো। এখন যারা মাঠছাড়া হয়েছেন তারা পদের জন্য রাজনীতি করেন, দলের জন্য না। এমন নেতাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসলে সংগঠনের জন্য ক্ষতি হবে।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশী আরো অনেক নেতা মাঠছাড়া হয়ে গেছেন। গত ৯ মাস ধরে দলীয় কর্মসূচিতে তাদের দেখা মিলছে না।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নগর যুবদলের কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্রগুলো।