কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের ঝাঁজ

মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

সপ্তাহখানেক ধরে পেঁয়াজের বাড়তি দাম নিয়ে চারিদিকে চলছে শোরগোল। কারণ আর এক সপ্তাহ পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ মানেই বড় বড় হাঁড়িতে ভারা ভারা মাংস রান্না করা। আর মাংস রান্নার জন্য পেঁয়াজের বিকল্প তো কিছুই ভাবা যায় না। ফলে এসময় পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়া মানে অনাকাঙ্ক্ষিত বাড়তি একটা খরচের বোঝা আচমকা ঘাড়ে এসে ভর করা। তবে ক্রেতাদের দুশ্চিন্তা কমতে পারে এ খবরে- পাইকারি বাজারে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের ঝাঁজ। ধীরে ধীরে এর প্রভাবও পড়তে শুরু করেছে খুচরা বাজারে। কেজিতে ৬ টাকা কমে গতকাল পাইকারি বাজারে মানভেদে ভারতীয় নাসিক পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৪-২৭ টাকা, একদিন আগেও যার দাম ছিলো ৩০-৩৩টাকা। এর প্রভাবে খুচরা বাজারের কোন কোন ব্যবসায়ী গতকাল ৩৮ টাকা দামের পেঁয়াজ বিক্রি করেছে ৩২-৩৫ টাকা।

গতকাল চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার ও বহদ্দারহাট খুচরা বাজার থেকে খবর নিয়ে এ চিত্র পাওয়া গেছে। খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লা মিয়া বাজারের পেঁয়াজ-রসুনের অন্যতম বৃহৎ আড়তদার ও পাইকারি বিক্রয় প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ বাণিজ্যালয়। কথা হয় এ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার বলয় কুমার পোদ্দারের সাথে। তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দর গত ২-৩ মাস ধরে সি’তিশীল। বাজারে সরবরাহেও কোন ঘাটতি ছিল না। কিন’ এক সপ্তাহ আগে থেকে হঠাৎ পেঁয়াজের বাজার অসি’তিশীল হয়ে উঠে। তবে গত ২-৩ দিন ধরে বাজার আবার সি’তিশীল হতে শুরু করেছে।

গ্রামীণ বাণিজ্যালয়ের আরেক ব্যবসায়ী রাজেশ্বর দাশ রাজু বলেন, খুব অস্বাভাবিক কোন কিছু না হলে আসন্ন কুরবান সামনে রেখে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কোন কারণ নেই। আড়তে যে পরিমাণ পেঁয়াজের সরবরাহ রয়েছে এবং বেনাপোল স’লবন্দর হয়ে আরও যে পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে ঢুকছে তাতে দাম আরও কমতে পারে। তবে যতটুকু কমার কথা বাস্তবে ততটুকু কমবে না কেবল পরিবহন খরচের কারণে। আগে যেখানে ট্রাকপ্রতি ভাড়া পড়ত ৩৩ হাজার টাকা বর্তমানে সে জায়গায় খরচ পড়ছে ৪৫ হাজার টাকা।

বহদ্দারহাট খুচরা বাজারের পেঁয়াজ-রসুনসহ যাবতীয় মসলা পণ্যের বিক্রেতা মো. পাভেল জানান, শুনেছি খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। আমরাও তাই ধীরে ধীরে পেঁয়াজের দাম কমাচ্ছি। তবে আমাদের আগের বাড়তি দামে পেঁয়াজ কেনা থাকায় কিছুটা রয়ে সয়ে কমাতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশের নিজস্ব উৎপাদনসহ পাকিস্তান, চীন ও প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ থেকে কিছু কিছু পরিমাণ পেঁয়াজ এলেও মোট চাহিদার সিংহভাগ পূরণ হয় ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজে। ভারত গতবছরের নভেম্বর মাসে নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ পেঁয়াজ সংকট সামাল দিতে ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য ৪৩০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার করে। তখন দেশের বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়তে শুরু করেছিলো। গত ১৯ জানুয়ারি সর্বনিম্ন রপ্তানিসীমা দেড়শ’ ডলার কমিয়ে ৭০০ ডলার নির্ধারণ করে দেশটি। এরপর বাজারে সরবরাহ আরও বেড়ে যাওয়ায় ২ ফেব্রুয়ারি পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য প্রত্যাহার করে নেয় ভারত। তখন থেকে এখন পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানি হচ্ছে স্বাভাবিক বাজার দরে। এখন দেশের বাজারে তাই পেঁয়াজের সরবরাহ সর্বাধিক। ঈদুল আজহা সামনে রেখে সপ্তাহখানেকের জন্য পেঁয়াজের বাজার হঠাৎ অসি’তিশীল হয়ে পড়েছিলো মূলত কতিপয় মুনাফালোভী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে।