কমছে পিডিবির ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ

ওমর ফারুক ইমন

গত কয়েক বছর ধরে পিডিবির বিরুদ্ধে গ্রাহকের অভিযোগ ছিল ভুতুড়ে বিলের। গত দুই মাস ধরে এ অভিযোগের পরিমাণ কমে আসছে ক্রমান্বয়ে। মিটার রিডার সংকটের কারণে এ সমস্যা হতো বলে দাবি ছিল পিডিবির। গত বছরের শেষ দিকে অস’ায়ীভাবে ৪ শ মিটার রিডার নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ কমছে। প্রি-পেইড মিটার ও স্ন্যাপশট প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হলে এ অভিযোগের পরিমাণ আরো কমবে বলে জানান পিডিবির কর্মকর্তারা।
পিডিবির ভুতুড়ে বিল নিয়ে গত বছর পিডিবির বিপণন ও বন্টন কেন্দ্রগুলোতে অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছিল। খোদ সিটি মেয়র সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে ব্যবস’া নিতে পিডিবির কর্তকর্তাদের বলেন। মাদার মিটারের রিডিং না দেখেই ইচ্ছামতো বিল না করার অভিযোগ উঠেছিল মিটার রিডারদের বিরুদ্ধে। পিডিবির পক্ষ থেকেও লোকবল সংকটের কথা বলা হয়েছি। কিন’ গ্রাহক পর্যায়ে ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে যাওয়াতে বিষয়টি নিয়ে সব মহলে আলোচনা হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে ভুতুড়ে বিলের হয়রানি কমাতে পিডিবি নতুন করে মিটার রিডার ও স্ন্যাপশট প্রযুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।
পিডিবির সূত্রমতে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্রাহক রয়েছে আট লাখ ২০ হাজার। বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের জন্য রয়েছে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিটার রিডার ছিল মাত্র ৬৪ জন। সর্বশেষ নিয়োগের আগে ২০ বছর ধরে মিটার রিডার নিয়োগ দেয়া হয়নি। অথচ গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে হয়েছে কয়েকগুণ। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী একজন মিটার রিডারের মাসে মিটার রিডিংয়ের আদর্শ সংখ্যা ১৫০০ মিটার। এ হিসাবে চট্টগ্রামে প্রায় সাড়ে পাঁচশ মিটার রিডার থাকার কথা থাকলেও ছিল চাহিদার মাত্র ১০ ভাগ। একজন মিটার রিডার গড়ে প্রায় সাড়ে ১২ হাজারেরও অধিক মিটার রিডার করতেন। ফলে মিটার না দেখেও নিজেদের ইচ্ছামতো মিটার রিডিংয়ের অভিযোগ ছিল।
ভুতুড়ে বিল রোধে গত বছরের জুলাই থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে পিডিবি। ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় পরবর্তী তিন মাসে। নভেম্বর মাস থেকে নতুন করে পিডিবির বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণে এর ফল আসতে শুরু করে।
পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, ক্রমান্বয়ে সব মিটার প্রি-পেইড করা হবে। এর আগ পর্যন্ত কয়েকবছর মিটার রিডার প্রয়োজন হবে। ফলে সম্পূর্ণ অস’ায়ী ভিত্তিতে মিটার রিডার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মিটার প্রতি মিটার রিডিং ও বিল বন্টনের উপর নির্দিষ্ট হারে সম্মানি পরিশোধ করা হবে।
পিডিবি চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. মনিরুজ্জামান সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ‘ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ ছিল। আমরা এ সমস্যা দূর করতে ৪ শ মিটার রিডার নিয়োগ দিয়েছি। এখন থেকে ভুতুড়ে বিল নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে এ ধরণের অভিযোগ আর থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে নগরীর চারটি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে ১ লাখ ৩৯ হাজার প্রি-পেইড মিটার বসানো হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় সব মিটার প্রি-প্রেইড মিটারিংয়ের আওতায় আনা হবে। তখন এ ধরনের সমস্যা একেবারেই থাকবে না।’

আপনার মন্তব্য লিখুন