কমছে না পেঁয়াজ আদা-রসুনের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে বেড়েছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় এ তিনটি পণ্যের কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদকে সামনে রেখে রপ্তানি কমে যাওয়ার অজুহাতে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছেন।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানিকৃত রসুন ও আদার সরবরাহ কমে যাওয়া এবং ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণে বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
গতকাল শনিবার নগরীর কাজীর দেউড়ি, রিয়াজউদ্দিনবাজার, ষোলশহর ২ নম্বর গেইট কর্ণফুলী মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা বিক্রি হলেও গতকাল তা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকার কম। আদা গত সপ্তাহে ৯০ টাকা বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দামে।
দেশীয় ব্যবসায়ীরা মৌসুম অনুযায়ী জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করে কর্ণফুলী মার্কেটে বাজার করতে আসা ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশে মৌসুম অনুযায়ী জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো হয়। যেমন রমজান মাসে ছোলা, চিনি এসবের দাম বেড়ে যায়। আর কোরবানির ঈদে পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ মসলার জাতীয় পণ্যের।’
কাজির দেউড়ির বাজারে পেঁয়াজ কিনছিলেন গৃহিণী নাজমা আকতার। সুপ্রভাতকে তিনি বলেন, ‘দাম বাড়লেও কিনতে হয়। আমরা আসলে বন্দি।’ প্রশাসন সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কম। সেজন্য নির্ভর করতে হয় ভারতীয় পেঁয়াজের উপর। কিন’ কয়েক সপ্তাহ যাবত ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বাজারে। খাতুনগঞ্জের আড়তদার ইবতেহাজ ট্রেডার্সের ব্যবস’াপক ফখরুল আমিন রানা বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহের তুলনায় ভারতীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ রুপি বেড়েছে। সেজন্য দেশীয় বাজারে প্রভাব পড়েছে দামের। অন্যদিকে আমদানির করা রসুন, আদার সরবরাহও কমে গেছে।’
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমদ সুপ্রভাতকে জানান, ‘ভারতীয় পেঁয়াজের উপর নির্ভর করতে হয় আমাদের। সেখানে দাম বাড়লে, আমাদেরকেও বেশি দামে কিনতে হয়।’
দামের ব্যাপারে খাতুনগঞ্জ হামিদ উল্লাহ মিয়া খাঁ মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস জানান, ‘চাহিদা থাকার ফলে ঈদের আগে দাম কমার সম্ভাবনা কম। এছাড়াও আমদানিকৃত পেঁয়াজ, রসুন, আদার উপর নির্ভর করে বাজারে দাম কমবে না বাড়বে।’ তিনি আরো বলেন, ‘কোরবানি ঈদের আর বেশিদিন নেই। ঈদের আগে যে কয়েকদিন আছে এর মধ্যে এ পণ্যগুলোর আমদানির জন্য এলসি করলেও এসব পণ্য বাংলাদেশে এসে পৌঁছাতে ঈদের পর হয়ে যাবে।’