কদর বেশি ঝাড়-র ফুলের

রাজু কুমার দে, মিরসরাই

মিরসরাইয়ে পাহাড়ি ঝাড়-র ফুল বিক্রি করে অনেকের ভাগ্য বদল হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বসে ঝাড়-ফুলের অস’ায়ী হাট। বিকেলে পাহাড় থেকে ফিরে এ ফুল নিয়ে হাটে আসে কাঠুরিয়ারা। বেচা কেনা চলে রাত পর্যন্ত। অনেক কাঠুরিয়া শীতের মৌসুমে কাঠ না কেটে ঝাড়-র ফুলের ব্যবসা করেন। ঝাড়-র ফুল মূলত একটি সাময়িক অর্থকরী প্রাকৃতিক বনজ সম্পদ। পাওয়া যায় উঁচু পাহাড়ে।
শীতকালে ঝাড়-র ফুল পাওয়ার উপযুক্ত সময়। উপজেলা হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের ঝাড়-র ফুল বিক্রেতা কাঠুরিয়া নূরে মিয়া বলেন, পাহাড় থেকে কাঠ কেটে তার বাড়ি এনে বিক্রয়ের উপযোগী করতে অনেক সময় ও শ্রমের প্রয়োজন হয়। কিন’ ঝাড়-রফুল সংগ্রহ করতে তেমন পরিশ্রম হয় না। তাছাড়া দামও পাওয়া যায় ভালো। জানা গেছে, উপজেলার জোরারগঞ্জ, বারইয়ারহাট, করেরহাট, মিঠাছড়া, বড়তাকিয়া, বাড়দারোগারহাটে ঝাড়-র ফুলের জমজমাট বাজার বসে। এসকল স’ান থেকে পাহাড় বেশি দূরে নয়। সুবিধার জন্য কাঠুরিয়ারা কম দূরত্বের বাজারগুলো বেছে নেয়। এ ফুলের চাহিদার কারণে বর্তমানে এটি দরিদ্র শ্রেণির মানুষের আয়ের এক বিকল্প উৎস হয়ে উঠেছে। জানা যায়, ঘরের ঝাড়- হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও এ ঝাড়-ফুল বিল্ডিংয়ের রং মিস্ত্রিদের রঙের কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় দেশে এ ঝাড়-ফুলের চাহিদা দিন দিন এত বেড়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে পাহাড় থেকে ঝাড়-ফুল এনে বিক্রি করে স’ানীয় শ্রমিকরা।
এরপর পাইকারি ব্যবসায়ীরা ক্রয় করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলাতে নিয়ে যাওয়া হয়। জসিম উদ্দিন নামে স’ানীয় এক ঝাড়-ফুল ব্যবসায়ী বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার বড়দারোগাহাট বাজারে হাটের দিন আনুমানিক ২ থেকে ৩ লাখ টাকার ঝাড়-ফুল বাজারে উঠেছে। তিনি বলেন, ঝাড়-ফুলের এখনো পূর্ণ মৌসুম হয়নি; পূর্ণ মৌসুমে প্রতি বাজারে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ঝাড়-ফুল বাজারে আসে। ১শটি ফুল বিক্রি হচ্ছে ৮০-১শ৫০টাকায়। তবে গত বছরের তুলনায় এবছর দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।